- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়া জংশন স্টেশন-উন্মুক্ত হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটেই উধাও হয়ে যায় সকল গন্তব্যের টিকেট

আহমেদ সেলিম, ২৪ অক্টোবর :: কুলাউড়া জংশন স্টেশন থেকে দেশের সকল গন্তব্যের টিকেট উন্মুক্ত হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ঢাকা চট্রগ্রাম নয় সিলেটগামী ট্রেনের টিকেট পর্যন্ত পাওয়া যায় না। কাউন্টারে টিকেট না থাকলেও দ্বিগুন তিনগুন দামে ট্রেন ছাড়ার পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত পাওয়া যায় টিকেট। একটি সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী কালোবাজারি চক্রের হাতে জিম্মি কুলাউড়া স্টেশন। সেই সিন্ডিকেটে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরাও জড়িত বলে জানা গেছে।

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন দিয়ে কুলাউড়া উপজেলা ছাড়াও জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর উপজেলার মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকেন। ফলে স্টেশনে বরাদ্ধকৃত টিকেটের চেয়ে আরও ২-৩ গুণ বেশি চাহিদা। টিকেট বরাদ্ধ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত আছে। বরং বরাদ্ধকৃত টিকেট আরও কমানো হচ্ছে।

সরেজমিন স্টেশনে গিয়ে হেড বুকিং ক্লার্ক মো. মহসিন ছুটিতে থাকায় স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে কর্তব্যরত বুকিং ক্লার্করা কুলাউড়া স্টেশন থেকে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে কতটা টিকেট বরাদ্ধ রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি। স্টেশন মাস্টারের দেয়া অনুমান নির্ভর তথ্য অনুসারে ঢাকাগামী আন্তনগর উপবন ট্রেনে শোভন ৩০টি, শোভন চেয়ার ২৫টি, ১ম চেয়ার ১০টি, ১ম বার্থ ৬টি, পারাবত এক্সপ্রেস শোভন চেয়ার ৪৫টি, ১ম বার্থ ৩টি, এসি বার্থ ৩টি, এসি চেয়ার ৫টি, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস শোভন ২০টি, শোভন চেয়ার ১০টি, ১ম চেয়ার ৫টি, ১ম বার্থ ৯টি, কালনী এক্সপ্রেস শোভন ৫০টি, শোভন চেয়ার ২০টি, ১ম চেয়ার ৪টি। চট্রগ্রামগামী পাহাড়িকা শোভন ১৫টি, এসি চেয়ার ৪টি, ১ম বার্থ ৩টি, উদয়ন এক্সপ্রেস শুধুমাত্র শোভন ২০টি।

রেলস্টেশনে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বরত বুকিং ক্লার্কের সাথে যোগ সাজশে কালোবাজারিরা এসব টিকেট কিনে নেয়। বিষয়টি জানার কারণে কাউন্টারে টিকেট প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দেয় টিকিট কালোবাজারিরা। পরে সেই টিকিট যাত্রীদের কাছে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি টাকায় বিক্রি করে কলোবাজারিরা। ঢাকা চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্য ছাড়াও সিলেটের টিকেট বিক্রি করে তাকে কালোবাজারিরা। বিশেষ করে আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের। বেলা ১২টায় এই ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশ্যে কুলাউড়া স্টেশন ছেড়ে যায়। এই ট্রেনের টিকেট বরাদ্ধ আছে ৬০টি কিন্তু যাত্রী হন ৩ থেকে ৪ শ। ফলে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় সিলেট যেতে।

অনুসন্ধানে সাধারণ টিকেট কালোবাজারি হিসেবে যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলো শুক্কুর, রমুজ, বাহার, মখদ্দছ, মদন। টিকেট কাউন্টারে টিকিট না পাওয়া গেলেও স্টেশনের ভেতরে ও টিকেট কাউন্টারের বিপরীতে অবস্থিত একটি পান দোকানে পাওয়া যায় টিকেট। টিকেট কালোবাজারির তালিকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত বলে জানা গেছে।

কুলাউড়া জংশন স্টেশনের মাস্টার মো. মফিজুল ইসলাম জানান, তিনি কুলাউড়ায় নতুন যোগদান করেছেন। টিকেট কালোবাজারিদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *