নভেম্বর ২১, ২০১৭
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় বনভুমি জবরদখলকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে বনবিভাগের নির্দেশ উপেক্ষিত

কুলাউড়ায় বনভুমি জবরদখলকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে বনবিভাগের নির্দেশ উপেক্ষিত

 এইবেলা, কুলাউড়া, ২১ নভেম্বর:: 

কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি বনভুমিতে জবরদখলকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে বনবিভাগ লিখিতভাবে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। সরকারি নীতিমালা ও বনবিভাগের চিঠি উপেক্ষা করে সরকারি বনভুমি জবরদখলকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লাইন টানার কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে বনবিভাগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কুলাউড়া রেঞ্জের অধীন মুরইছড়া বিটের রোশনাবাদ, মুরইছড়া ও আসকরাবাদ মৌজায় সরকারি বনভুমিতে জবরদখলকারী হিসেবে অবৈধভাবে গড়ে উঠা খাসিয়া পানপুঞ্জিসহ বসতিতে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসে জরিপ কাজ শুরু করে। জরিপকালে বনবিভাগের লোকজন পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে জরিপ কাজ না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বনবিভাগের অনুরোধ উপেক্ষা করে গত আগস্ট মাসে খুটি বসানোসহ তাদের কাজ অব্যাহত রাখে। বন অধিদফতর কিংবা পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র বা অনাপত্তিপত্র ছাড়াই পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ সংরক্ষিত বনভুমির মধ্যে বর্তমানে বিদ্যুৎ লাইন টানার কাজ চলিয়ে যাচ্ছে।

বনবিভাগ সুত্র জানায়, দেশের সীমিত বনভুমি যথাযথ সংরক্ষণের বৃহত্তর স্বার্থে বননীতি ১৯৯৪ মোতাবেক সরকার প্রধানের অনুমতি ছাড়া বনভুমি বনায়ন ব্যতিত ভিন্ন কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রাস্তা বা উন্নয়নমুলক কাজ করা একান্ত প্রয়োজন হলে পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয় এবং বন অধিদফতরের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পিসিপি বা পিপি তৈরির প্রক্কালে বন অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামুলক।

এমতাবস্থায় কুলাউড়া রেঞ্জের অধীন মুরইছড়া বিটের রোশনাবাদ, মুরইছড়া ও আসকরাবাদ মৌজায়, নলডরী বিটের সরকারি সংরক্ষিত বনভুমি এবং বরমচাল বিটের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্ট (সংরক্ষিত বন) সরকারি বনভুমিতে জবরদখলকারী হিসেবে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বসতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রধান না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিভাগীয় বন সংরক্ষক গত ১০ অক্টোবর পল্লীবিদ্যুতের শ্রীমঙ্গলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে দ্বিতীয় দফা একটি চিঠি দেন। সেই চিঠি অনুলিপি জেলা প্রশাসক, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও বিটকর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পল্লীবিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী শিবু লাল বসু জানান, বনবিভাগের চিঠি আমি পেয়েছি। বনবিভাগ যদি না চায় বিদ্যুৎ আমি দেবো না। তাতে মানুষ সরকারের শতভাগ বিদ্যুৎ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। বনে শত শত বছর মানুষ বসবাস করছে তারাতো কাউকে উচ্ছেদ করলো না। এখন বিদ্যুৎ দিতেই শুরু হলো মাথাব্যথা। ওরা বিদ্যুৎ নেবে কি, আমরা বিদ্যুৎ দেবোই না।

এব্যাপারে কুলাউড়া রেঞ্জ অফিসার আবুল কাশেম ভুইয়া জানান, প্রথম দফা পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ নিষেধ উপেক্ষা করে কাজ করেছে। বনবিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়ার পরও তারা কাজ চালিয়েছে।

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, এখানে বনবিভাগ যে আইনের কথা বলছে সেটা ঠিক আছে। বিষযটা নিয়ে উপজেলায় একটা মিটিংয়ে আলোচনাও হয়েছে। সেখানে এমপি সাহেব বলেছেন, সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ প্রদানের আগে তাদের নীতিমালা অনুসরণ করলে ঝামেলা হতো না।#