নভেম্বর ২৫, ২০১৭
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন- আমদানিকৃত আপেলবাহী ট্রাকে তল্লাশির নামে ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির অভিযোগ

কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন- আমদানিকৃত আপেলবাহী ট্রাকে তল্লাশির নামে ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির অভিযোগ

এইবেলা, কুলাউড়া , ২৫ নভেম্বর ::

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানিকৃত আপেলবাহী ৯টি ট্রাকে শুল্ক গোয়েন্দাদের তল্লাশি চালায়। ব্যাপক তল্লাশি করেও কোন প্রকার অবৈধ সামগ্রী ও অতিরিক্ত সামগ্রী না পেলেও টানা ১০ ঘন্টা আপেল ট্রাকে থাকায় ৩ লক্ষাধিক টাকার আপেল পঁচে বিনষ্ট হয়ে আমদানিকারকরা অভিযোগ করেন। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আপেলবাহী ৯টি ট্রাক আটকিয়ে রেখে রাত ১০টায় শুল্ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তল্লাশি সম্পন্ন করেন।

চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের আমদানি রফতানিকারক বদরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান (রিমন), তাসদিক হোসেন (ইমরান) রমাপদ সেন ও ক্লিয়ারিং এজেন্ট সোহেল রানা চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, এ পথে ভারতে বাংলাদেশী সবধরনের সিমেন্ট, প্রাণ আরএফএল সামগ্রী, চুনা পাথর, ভাঙ্গা পাথর ভারতের ত্রিপুরায় রফতানি করা হয়। একইভাবে ভারত থেকে  সাতকরা, কমলা, আপেল আমদানি করা হয়। এলসির মাধ্যমে শুল্ক প্রদান করে গত দুই মাস ধরে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতীয় ছোট আপেল বাংলাদেশ আমদানি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় এক ব্যক্তি সরকারকে রাজস্ব ফাঁিক দিয়ে অবৈধ ও অতিরিক্ত আপেল আনা হচ্ছে মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সিলেট বিভাগীয় শুল্ক কমিশনার, শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে তথ্য দেয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট বিভাগীয় সহকারী শুল্ক কমিশনার ও মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক শুল্ক গোয়েন্দা গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা আমদানিকৃত ভারতীয় আপেলবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালান। এ সব তল্লাশিকালে তথ্যটি ভুল প্রমানিত হয়।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ৯টি ট্রাকে ভারত থেকে আমদানিকৃত ৪৭ মেট্রিকটন আপেল বহন করা হয়। যার মূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। আপেলবাহী ট্রাকগুলো চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন এলাকায় থাকা অবস্থায় আবারও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সিলেট বিভাগীয় শুল্ক কর্মকর্তা ও শুল্ক গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করা হয়, এসব ট্রাকে অবৈধ ও অতিরিক্ত আপেল রয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন এলাকায় আপেলবাহী নয়টি ট্রাক আটকে রাখা হয়। শুক্রবার রাত ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সিলেট বিভাগীয় শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমদ রেজা চৌধুরী ও মৌলভীবাজারের সহকারী কমিশনার শুল্ক গোয়েন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ শুল্ক গোয়েন্দা কর্মচারীরা চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই ৯টি ট্রাকে তল্লাশি চালান। ব্যাপক তল্লাশির পর এলসির ইন ভয়েসের সাথে আমদানিকৃত আপেলের মিল পাওয়া যায়। কোন ট্রাকে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বা অতিরিক্ত আপেল পাওয়া যায়নি।

আমদানিকারকরা আরও অভিযোগ করেন, অনেক কষ্টে ভারতের সাথে এ পথে আমদানি-রফতানি চালু রাখা হয়েছে। আর একটি মহল বার বার ভুল তথ্য দিয়ে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা ও শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হয়রানি করছে। সাথে সাথে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আমদানীকারক বদরুল ইসলাম ও রমাপদ সেন জানান, শুক্রবার সকাল ১০ টায় নয়টি ট্রাকে আপেল লোড করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। আর ভুল তথ্যের কারণে সিলেট থেকে শুল্ক কর্মকর্তারা এসে রাত ১০টায় তল্লাশি সম্পন্ন করেন। এ অবস্থায় ট্রাকে ৩ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের আপেল পঁচে বিনষ্ট হয়েছে। এভাবে অহেতুক ভুল তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

শুক্রবার রাত ১০টায় তল্লাশি শেষে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ব্রিফিংকালে সিলেট বিভাগীয় শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমদ রেজা চৌধুরী ও মৌলভীবাজারের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে তারা রাতে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আসতে হয়েছে। তল্লাশিকালে ট্রাকে কোন অবৈধ পণ্য ও অতিরিক্ত আপেল পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদ্বয় এভাবে এত সময় ধরে ট্রাকে আপেল থাকায় কাঁচামাল হিসাবে ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। গোপনে তথ্য প্রদানকারীকে তল্লাশিকালে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি।#