- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

বড়লেখায় বরুদল নদীর ভাঙনে পাকা রাস্তা বিলীন : হুমকিতে শতাধিক কৃষক পরিবার

আব্দুর রব, বড়লেখা, ২৭ নভেম্বর ::

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরপাড়ের বর্ণি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বরুদল নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মনাদী-মনারাই গ্রামীণ পাকা রাস্তা। এ রাস্তা দিয়ে ইউনিয়নের মনাদী, মনারাই, রংপুর, পাকশাইল ও পূর্বমনারাই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষখ চলাচল করেন। গেল বর্ষায় মনাদী-মনারাই পাকা রাস্তার অন্তত দেড়শ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। নদীর ভাঙনের ফলে বর্তমানে হুমকিতে রয়েছে আশপাশের অন্তত শতাধিক কৃষক পরিবার।

এদিকে প্রতি বছরের বর্ষায় আতঙ্কে থাকেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা। দেড় দশকে নদী ভাঙনে বসত ভিটা হারিয়ে অন্তত ৫০ পরিবার গৃহহারা হয়েছেন। ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা চলছে। বর্ষাকালে নদীর ভাঙনে রাস্তা বিলীন হওয়াসহ বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। ফলে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ তৈরি হয়েছে সব হারানোর আতংক। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ২ যুগ থেকে বরুদল নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। নদীটির বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পূর্বে ছিল। ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তখন থেকে গ্রামের বসত ভিটে, মসজিদ ও রাস্তা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। অব্যাহত ভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতঘরও চলে যায় নদীগর্ভে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষায় নদীর ভাঙনে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তা ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু বসত ঘরের উঠান ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। খরস্রোতা নদী যেকোনো মুহূর্তে ঘরও গিলে খাওয়ার আশংকা রয়েছে।

Barlekha Pic-27.11

মনাদী গ্রামের বৃদ্ধ ছিকন্দর আলী ও আনু মিয়া (৪৫) জানান, ‘কতবার বর্ষায় ক্ষেতের জমি নদী ভাঙিয়া নিছে। আবার ভাঙলে যাইবার (যাওয়ার) আর জায়গা নাই। রাস্তাটা কাম অইলে (কাজ হলে) আর নদীতে গার্ড ওয়াল দিয়া ঠিক করি দিলে মনো করমু (মনে রাখব) রেবা।

কৃষক আকবর আলী (৫৫) জানান, ‘তিনবার বাড়ি বদলাইছি। সড়কের লগে ঘর বানাইছি। এখন আর ভাঙলে সবতা (সব) নদীতে যাইবগি (চলে যাবে)। যাইবার আর কোন জায়গা থাকতো নায়।’ মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে ভাঙন চলছে দ্রুত রোধ করা না হলে গ্রামের আরও অনেক বাড়িঘর নদী গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাস্তা ভাঙায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা খুব কষ্টে আছেন।’

বর্নি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘নদীর পাড়ের রাস্তাটি অর্ধ কিলোমিটার পূর্বে ছিল। ভাঙনের ফলে পশ্চিম দিকে সরেছে অনেক বছর হয়। অনেক পরিবার ভাঙনের ফলে জায়গা ছেড়েছে। বিভিন্নভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। মনাদি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র কৃষক ও মৎস্যজীবী। বাড়ি ঘর আর ভাঙলে মেরামত করার সামর্থ তাদের নাই। দ্রুত এ ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’

বর্ণি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন জানান, ‘ভাঙনের ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল। বাড়ি ঘর ঝুঁকিতে আছে। গত ২ যুগ থেকে এখানে ভাঙছে। আর মানুষ অন্যত্র ঘরবাড়ি করছে। এ অবস্থায় আর ভাঙলে মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। নাদীপাড়ের আশপাশের অন্তত ১০০ পরিবার ভাঙনের মুখে আছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন মহোদয় সরেজমিনে অবস্থা দেখে গেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখে গেছেন। দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।’

পাউবো’র (পানি উন্নয়ন বোর্ড) মৌলভীবাজার (শাখা-৪) উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, ‘কিছু দিন আগে তিনি বর্ণিতে গিয়ে জায়গা দেখেছেন। ভাঙন এলাকার ছবি নিয়েছেন ও মাপযোগ করেছেন। ১২০ মিটারের মতো জায়গায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার জন্য ইস্টিমেট করে বরাদ্দের জন্য উপরে পাঠানো হয়েছে।’ #

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *