- জাতীয়, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

কুলাউড়ার ওসির দুর্নীতির তদন্ত শুরু

এইবেলা ডেস্ক, ২৯ জুন: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে।
রোববার ২৮ জুন সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভূইঁয়া এই তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত বানচালে নানাভাবে হুমকি ধামকি এবং ওসিকে স্বপদে বহাল রেখে তদন্ত করায় অভিযোগকারীরা রয়েছেন আতঙ্কে।
কুলাউড়া থানার ওসির অনিয়ম ও দুর্নীতির ভুক্তভোগী মানুষ সিলেটের ডিআইজি, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে অসংখ্য অভিযোগ দিয়েছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভুইঁয়া তদন্তে আসেন। তদন্তকালে অভিযোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সবাই তাদের অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলতে পারেননি।
ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আসা তদন্তকারী কর্মকর্তা ড. মো. আক্কাছ উদ্দিন ভুইঁয়া তদন্ত সম্পর্কে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ওসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ–
হামলা মামলার শিকার হয়ে থানায় এলে মামলা ডায়রিভুক্ত করতে, তদন্তের নামে এবং সর্বোপরি থানার ওসির সেলামিসহ ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিতেন এই ওসি। এই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে এরচেয়ে মোটা অংকের টাকার নিয়ে উল্টো মামলা রেকর্ড করে হয়রানির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে অসংখ্য। ভুক্তভোগী মানুষেরা হতাশ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। আদালত থেকে তদন্ত পাঠালে সেই তদন্ত সম্পাদনে গড়িমসি এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতেও গুণতে হয় হাজার হাজার টাকা।
ওসি. মতিয়ার রহমানকে টাকা দিলেই সব অসম্ভব কাজই সম্ভব হয়। কুলাউড়ায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ বেশি। শুধু এই ব্যাপারে প্রতি মাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ওসি। জমির প্রকৃত মালিকের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও তাদের দলিল নিজের কাছে রেখে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাল কাগজের মালিকদের জমির মালিক বানিয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে এই ওসির বিরুদ্ধে।
কুলাউড়া থানার ভুকশিমইল ইউনিয়নের মদনগৌরী গ্রামের শফিকুর রহমান হত্যাকাণ্ডে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে চার আসামিকে অব্যাহতি দেন। নিহত শফিকুর রহমানের স্ত্রী জলি বেগম বিষয়টি লিখিত অভিযোগ করেন।
কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের নিলু মিয়া ও মাহমুদ মিয়া অভিযোগ করেন, তাদের জমিরসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির নামে জমির তিনটি মূল দলিল নেন ওসি। কিন্তু তাদের দলিলগুলো এখন আর ফেরত দিচ্ছেন না।
কুলাউড়ার পৌরসভার জয়পাশা গ্রামের মো. আব্দুল মোহিত অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওসি তাকে মিথ্যা চুরির মামলায় আটক করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন। চুরির মামলায় একদিনের রিমান্ডে এনে ২য় দফা শরীরিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনে কথা কাউকে জানালে অস্ত্র মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার হুমকি দেন ওসি।
জয়চন্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগমের বাড়ি দখল করতে তিন দফা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা বেগম থানায় মামলা করতে গেলে ওসি তার মামলা নেননি। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উল্টো সন্ত্রাসীদের মামলা নিয়ে গৃহবধূর ভাই ও আত্মীয় স্বজনকে আসামি করেন। অসহায় গৃহবধূ শেষতক আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলি গ্রামের আব্দুস সহিদ অভিযোগ করেন, এলাকার কতিপয় সন্ত্রাসী তার বাড়ির ছয়টি আমগাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়। তিনি বাড়িতে ফিরে ঘটনার প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার নাবালিকা মেয়ে রিপা বেগমকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এঘটনায় আব্দুস সহিদের বড় ভাই ফারজান আলী কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দিলে ওসির দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তিনি মামলা গ্রহণ করেননি। পরে তিনি আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত সাত দিনে মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু দুই মাস অতিবাহিত হলেও টাকা না দেয়ায় সেই প্রতিবেদনটি আদালতে দিচ্ছেন না ওসি। এরকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ওসি মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে এবং তাকে সহযোগিতাকারী এসআই ওয়াসিমুল বারীর বিরুদ্ধে।
থানার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সন্ধ্যা নামলেই ওসি তার চেয়ার বসে শুরু করেন অধস্থন কর্মকর্তারা কে কোথা থেকে কত টাকা এনেছে তার হিসাব। টাকা কম দিলে ওসির বকাঝকা আর ধমক খেতে হয়। তাছাড়া সন্ধ্যার পর কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে কত টাকা নিয়ে এসেছেন তা আগে বুঝিয়ে দিতে হয়। টাকায় সন্তষ্ট হলে মিথ্যা অভিযোগ হলেও তা গৃহীত হয়। নয়তো টাকা ছুঁড়ে ফেলে দেন। এভাবেই ওসি মো. মতিয়ার রহমানের ঘোষ বাণিজ্য চলে ওপেন।
ওসি মো. মতিয়ার রহমান থানার সরকারি গাড়িতে চড়েন না। তার ব্যক্তিগত দামি পাজারো জিপে করে ঘুরে বেড়ান। তাছাড়া তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায় হলেও সিলেটি ভাষায় কথা বলে নিজেকে সিলেটি বলে মানুষকে দাপট দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র-ঢাকাটাইমস ২৪ ডট কম

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *