ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » হাকালুকি হাওরের মৎস্যজীবিদের হাহাকার- চোখের সামনে সব ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে

হাকালুকি হাওরের মৎস্যজীবিদের হাহাকার- চোখের সামনে সব ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৩ ডিসেম্বর ::

অগ্রহায়ন মাসে এত বৃষ্টি কোনদিন দেখিনি। ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ী ঢলে হাকালুকি হাওরের বিলগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মৎস্যজীবিদের ৩ বছরের প্রচেষ্টার ফল। কেননা মৎস্যজীবি সমিতিগুলো সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয়ার ৩ বছর পর মাছ আহরণ বা মাছ ধরে বিক্রি করে থাকে। সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেও ঢলের পানি বিলে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে মৎস্যজীবিদের মধ্যে চলছে হাহাকার।

দক্ষিণ হাকালুকি মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চকিয়া বিলের ইজারাদার আনোয়ার হোসাইন জানান, গত বর্ষায় মাছে মড়ক লাগলো। তাতে অনেক ক্ষতি হলো। আর এখন মাছ ধরার মুহুর্তে পানি প্রবেশ করে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দু’দফা ক্ষতি কাটিয়ে পরিশোধকৃত ইজারা মুল্যের সমপরিমান টাকা মুনাফা করা কঠিন হবে।

Kulaura Hakaluki Pic (1)

হাকালুকি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও নাগুয়া ও ধলিয়া বদ্ধ জলমহালে ইজারাদার মিরজান আলী, রাখাল শাহ কান্দি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও গৌড়কুড়ি বিল বদ্ধ জলমহালের ইজারাদার মতিলাল রায় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা মৎস্য কমিটির সভাপতি বরাবরে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে ১২ ডিসেম্বর লিখিত আবেদন করেছেন। লিখিত আবেদনে তারা জানান, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিন তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বুধবার ১৩ ডিসেম্বর সরেজমিন হাকালুকি হাওরের চকিয়া বিল এলাকায় গেলে উজান থেকে আসা পানি বিলে প্রবেশ ঠেকাতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যেতে দেখা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন নদনদী দিয়ে পানি হাকালুকি হাওরে দ্রুত বেগে প্রবেশ করছে। এভাবে পানি প্রবেশ করতে থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টা হাকালুকি হাওরের সকল বিল তলিয়ে গিয়ে পানিতে একাকার হয়ে যাবে।

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ও মিঠা পানির মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হাকালুকির প্রধান সম্পদ হচ্ছে মাছ। হাওর তীরের ৫টি উপজেলায় এই মাছের উপর জীবিকা নির্বাহ করে ৬ সহ¯্রাধিক জেলে পরিবার। তাছাড়া কৃষি ছাড়াও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাওরের উপর নির্ভরশীল হাওর তীরের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং গোলাপগঞ্জ এই ৫টি উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ।

দু’দফায় মাছ, অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো, চলতি পৌষ মাসের শুরুতে বোরোর বীজতলা এবং ২৪৫ হেক্টর রবিশস্য ক্ষতি হয়েছে। ফলে হাওর তীরের মানুষ সকল ক্ষেত্রেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কঠিনতর হয়ে পড়ছে মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা।

মৎস্যজীবিরা জানান, পাহাড়ী ঢলে যে পানি নিয়ে আসছে, সেগুলো পলিবাহিত ঘোলা পানি। এই পানি বিলে প্রবেশ করলে বিলের সব মাছ বেরিয়ে যাবে। ফলে বিলে মাছ থাকার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। এই ঘোলা ও পলিবাহিত পানি বিষক্রিয়ার মতই।

কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, আমি শুনেছি হাওরে পানি বাড়ছে। বিষয়টি দেখতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হাওরে পানি বাড়ার কারণে ভেতরে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। নৌকা যোগে হলেও দু’একদিনের মধ্যে হাওরের পরিস্থিতি দেখতে যাবো।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা মৎস্য কমিটির সভাপতি মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, তাদের লিখিত আবেদনের কপি আমার হাতে আসলে দেখে আইনানুগভাবে যা করা প্রয়োজন করবো। দু’দফা ক্ষতির  বিষয়টি বললে বলবো, ব্যবসায় নামলে লাভ রস বুঝেই করতে হয়। প্রাকুৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতি হলেও আইনগতভাবে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।##