ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭
Home » জাতীয় » কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩০কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দ : চরম জনদুর্ভোগ

কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩০কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দ : চরম জনদুর্ভোগ

দীর্ঘ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে সওজ উদাসীন
আব্দুর রব, বড়লেখা, ২৩ ডিসেম্বর :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে খানখন্দে ভরা। সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গত ৯ মাস ধরে ভাঙ্গাচুরা বেহাল সড়কটি পথচারী ও যানবাহনের নরক যন্ত্রণায় পরিণত হলেও সংস্কারের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ যেন উদাসীন।

মাঝেমধ্যে কেবল মাটি ও ইটের টুকরো দিয়ে রাস্তার গর্ত ভরাট করেই দায় সারছে। এতে গর্তে দেয়া মাটি ও ইটের টুকরো কয়েকদিনের মধ্যে পাউডার হয়ে বাতাসে মিশে জনসাধারণের নানা অসুখ বিসুখের কারণ হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, চলিত বছরের মে মাস থেকে দেখা দেয়া বন্যায় মৌলভীবাজার ভায়া কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কটির বেশ কয়েক স্থান কয়েক দফা নিমজ্জিত থাকে। বন্যায় তলিয়ে থাকা রাস্তায় কিছু দিন যানবাহন চলাচল করলেও ক্রমশ বন্যার অবনতি ঘটায় প্রায় ৩ মাস সম্পুর্নরূপে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় সড়কের পিচ ভেঙ্গে পাথর উঠে যায়। পানির তোড়ে বালি ও মাটি সরে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ বন্যায় এ সড়কের উত্তর কুলাউড়ার হাইস্কুলের সম্মুখ, জুড়ী চৌমুহনী, জাঙ্গিরাই, বাছিরপুর, কুইয়াছড়ি, হাতলিঘাট, ওয়াপদা, সফরপুর, কাঠালতলী, পানিধারসহ কয়েকটি স্থান নিমজ্জিত থাকায় প্রায় ৩ মাস যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

Barlejha Road-2

এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা পানি নামার সাথে মেঘা প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের কথা বলেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে এ সড়ক থেকে পুরোপুরি বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু ৪ মাস অতিবাহিত হলেও রাস্তার সংস্কার শুরু করেনি সওজ। মাঝে মধ্যে শুধু মাটি ও ইটের টুকরো দিয়ে কিছু গর্ত ভরাটের কাজ করছে। এতে জনসাধারণ ও পরিবহনগুলো আরো বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক কাওছার আহমদ বলেন, ‘ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাইতে গিয়া কষ্ট হয়। প্যাসেঞ্জার বিরক্ত হয়। নিজে একবার গাড়ি চালাইয়া গেলে আর মনে চায় না গাড়ি চালাইতাম। খুব খারাপ লাগে। গাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট অয়। কোনদিন যে রাস্তা ঠিক অইবো? খালি ইট আর বালি দেওয়া অয় রাস্তাত।’

এই সড়কের নিয়মিত যাত্রী দেবাশীষ দাস বলেন, ‘গত প্রায়৫ মাস এই সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে চলাছল করেছেন। বন্যার পানি নামার ৩-৪ মাস অতিবাহিত হলেও সড়কটির সংস্কার কাজ না করায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তেও সৃষ্ঠি হয়েছে। বুষ্টি দিলে এগুলো পুকুরের মত মনে হয়। রাস্তা খারাপের সুযোগে চালকরা গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে।

সওজের স্থানীয় সেকশন অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, ‘সাময়িক চলাচলের জন্য সড়কের গর্ত ভরাট কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি টিম সরেজমিনে অবস্থা দেখে গেছেন। এখনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এই সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার পিরয়ডিক মেইনটেইনেন্স প্রোগ্রামের (পিএমপি) আওতায় প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। সওজের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে দরপত্র আহবান করা হবে। এছাড়া উক্ত সড়কের বিভিন্ন অংশের ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক মজবুতিকরণসহ একটি ব্রিজের ডিপিপি পাশ হয়েছে।