জানুয়ারি ১৫, ২০১৮
Home » জাতীয় » কমলগঞ্জের দেওড়াছড়া চা বাগানে নেশাগ্রস্থ দু’পক্ষের হামলায় নিহত-১, আহত-১

কমলগঞ্জের দেওড়াছড়া চা বাগানে নেশাগ্রস্থ দু’পক্ষের হামলায় নিহত-১, আহত-১

 

এইবেলা, কমলগঞ্জ, ১৫ জানুয়ারি ::

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে নেশাগ্রস্থ হয়ে একে অপরকে কুপালে ঘটনাস্থলেই মানিক লাল উড়াং (২৫)নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। অপর চা শ্রমিক বাবুল উড়াং (২৪) আহত হয়ে পুলিশি হেফাজতে এখন চিকিৎসাধীন। এ ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে সাতটায় রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানের বাজার লাইন এলাকায়। নিহত মালিক লাল উড়াং দেওড়াছড়া চা বাগানের বাজার লাইন এলাকার মৃত গঞ্জু উড়াং-এর ছেলে। আর হত্যাকারী বাবুল উড়াং একই এলাকার মৃত পীর মুড় উড়াং-এর ছেলে। ঘটনার খবর পেয়ে রোববার রাতে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ও রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসী ও কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, রোববার পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে চা শ্রমিক বসতিগুলো পূজা অর্চনা হয়। প্রতিটি বাড়িতেই নানা ধরনের পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়। অনেক চা শ্রমিক আবার অতিরিক্ত মদ পানে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমনিভাবে দেওড়াছড়া চা বাগানের বাজার লাইন এলাকার চা শ্রমিক মানিক লাল উড়াং(২৫)-এর ঘরে তার সাথী একই এলাকার চা শ্রমিক বাবুল উড়াং(২৪) এসে দুজনই নেশা করে। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মানিক লাল উড়াং আর বাবুল উড়াং ধারালো দা দিয়ে একে অপরকে কুপাতে থাকে। ফলে ঘটনাস্থলেই মানিক লাল উড়াং নিহত হয়। বাবুল উড়াং গুরুতর আহত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে চা শ্রমিকরা বাবুল উড়াংকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সে এখন পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। ঘটনাটি কমলগঞ্জ থানাকে অবহিত করলে থানার ওসি মো: মোক্তাদির হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে নিহত মানিক লাল উড়াং-এর সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বিকালে দেওড়াছড়া চা বাগানে তার শেষ কৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে সোমবার সকালে নিহত মানিক লাল উড়াং-এর স্ত্রী বিনতি উড়াং (২২) বাদী হয়ে বাবুল উড়াংকে একমাত্র আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: মোক্তাদির হোসেন পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন আহত বাবুল উড়াং পুলিশি হেফাজতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর নিহতের স্ত্রীর মামলায় বাবুল উড়াংকে গ্রেফতারও দেখানো হয়।#