- জাতীয়, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

শব্দদূষণ আইন আছে প্রয়োগ নেই : রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান শাস্তিযোগ্য

এইবেলা রিপোর্ট ২২ জানুয়ারি ::

পুলিশের অনুমতি ছাড়া উচ্চস্বরে অনুষ্ঠান করা যাবে না। অনুমতি পেলেও সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা এমন অনুষ্ঠান করা যাবে, যা আবার রাত ১০টার মধ্যেই শেষ করতে হবে।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ এ এমন বিধান থাকলেও রাজধানীসহ সারা দেশে অবাধে চলছে উচ্চস্বরে গানবাজনাসহ নানা অনুষ্ঠান।

এক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধের জন্য এক মাস কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডেদণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে এ আইনের তেমন কোথাও প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে উচ্চস্বরে গানবাজনার মাধ্যমে শব্দদূষণকে স্বাভাবিক মনে করছেন লোকজন।

আইন অমান্যের জন্য দণ্ডিত হওয়ার ভয়ের পরিবর্তে এমন অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ করাকেই অপরাধ মনে করে বসছেন তারা। কোথাও কোথাও প্রতিবাদকারীদের মারধর করারও ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ওয়ারীতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ ঘিরে নাজমুল হক নামে এক বৃদ্ধ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

গত বৃহস্পতিবার ওয়ারীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ওই বাড়ির ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে নাজমুল হক ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়। এতে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান বৃদ্ধ নাজমুল।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আলতাফ, তার ছেলে সাজ্জাদ, মেয়ে রায়য়ান হাসনিন ও তাদের আত্মীয় মির্জা জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে রিমান্ডে সাজ্জাদ বৃদ্ধ নাজমুল হককে মারধরের অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জানা গেছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ক্ষমতাবলে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়। বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এ আইন অনুযায়ী, রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ উৎপাদিত হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না।

আর পাবলিক প্লেসে অনুষ্ঠানের জন্যও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানও রাত ১০টার পর আর চালানো যাবে না।

কেউ আইন অমান্য করে উচ্চ শব্দে উৎপাদন করলে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইন অমান্যের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যবস্থার নেয়ার দায়িত্ব রয়েছে পুলিশের। তবে বাস্তবে আইনের তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না। তবে সম্প্রতি চালু হওয়া ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিসের ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছ শব্দদূষণের বিষয়ে অভিযোগ জানানো যাচ্ছে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *