ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮
Home » কৃষি » রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওর-প্রভাবশালীদের কবলে নদীর পাড় কৃষকদের চলাচলে দুর্ভোগ

রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওর-প্রভাবশালীদের কবলে নদীর পাড় কৃষকদের চলাচলে দুর্ভোগ

 এইবেলা, রাজনগর , ২৭ ফেব্রুয়ারি :: 

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় অবস্থিত কাউয়া দিঘী হাওরের বেশিরভাগ এলাকায় যাতায়াতের নেই কোন রাস্তা। যার ফলে হাওরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর (বাঁধ) পাড়কে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করেন কৃষকরা। কিন্তু এসকল নদী পাড়কেও দখল করে রেখেছেন প্রভাবশালীরা। এতে করে কৃষি কাজের জন্য কৃষকদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাউয়া দীঘি হ্ওারের পূর্বঞ্চল রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও, রাজনগর ও মনসুরনগর ইউনিয়নের কৃষকরা রাস্তা সংকটে তাদের জমিতে যাতায়াত করতে দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি রাস্তা থাকার কথা থাকলেও এই এলাকায় সেরকম কোন রাস্তা নেই। যার ফলে হাওরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মাছু নদীর পাড়কে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে হাওরের ফসল উত্তোলনের সময় তাদের দুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছায়। নদীপথে দু’পাড়ে গুন টেনে নৌকায় করে ফসল ঘরে তুলতে হয় তাদের। কিন্তু সেই নদীর দু’পাড় কিছু প্রভাবশালীরা দখল করায় হ্ওারে উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষক সোবহান মিয়া জানান, আমাদের রাস্তা না থাকায় ধান কাটার পর তা ঘরে আনতে নদীতে নৌকা দিয়ে আনতে হয়। নদীর মধ্যে নৌকায় ধান বোঝাই করা থাকে এবং দু’পাশ থেকে দুজন রশ্মি দিয়ে টেনে টেনে নৌকা নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু এলাকার মৎসজীবি ও অন্যান্যরা নদীর দু’পাড়ে মাছের শিকারের জন্য গর্ত করে ও নদীর পাড় দখল করে ক্ষেতের জমি প্রশস্থ করেন। এমন অবস্থায় গুন টেনে ধান ঘরে তুলা কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষক আকসান জানায়, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এই অবস্থায় কৃষিকাজে মালামাল আনানেয়া সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মুখলেছুর রহমান তালুকদার জানান, মাছু গাং এর উক্ত অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তাব প্ওায়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, বিষয়টি অবগত হলাম সেই স্থানটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।#