মার্চ ৮, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » কুলাউড়া রাউৎগাঁওয়ে সবজি চাষ করে মজম্মিলের বাজিমাত

কুলাউড়া রাউৎগাঁওয়ে সবজি চাষ করে মজম্মিলের বাজিমাত

আবদুল আহাদ, ০৮ মার্চ ::  কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ কৌলা গ্রামের মজম্মিল আলী (৩৫) একজন সফল সবজি চাষী। কৃষক পরিবারের সন্তান মজম্মিল আলী বংশগতভাবে কৃষি কাজ করে আসছেন। কৃষি কাজ করে খুব দ্রুতই লাভের মুখ দেখেন। এরপর একটু বেশি পরিসরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করে বাজিমাত করেন তিনি। এরি সাথে সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা।

সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ইচ্ছাশক্তি আর শ্রম দিলে যে কোনো খামার বা প্রকল্প লাভজনক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা সম্ভব সেটাই প্রমাণ করলেন মজম্মিল আলী। একই সাথে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার পথ দেখালেন অন্য কৃষকদের। তিনি একজন সফল সবজি চাষি হিসেবে ইতিমধ্যে এলাকায় সে পরিচিতি লাভ করেছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে- মজম্মিল আলী প্রথমে নিজের বসত ভিটার কিছু অংশে বিভিন্ন জাতের ফলজ বৃক্ষ রোপন করেন। একসময় গাছে গাছে ফল আসতে শুরু করে। নিজের ও আত্মীয়-স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে সেই ফল বিক্রি করার মতো উপক্রম হয়ে উঠে। স্থানীয় ও ফরমালিনমুক্ত ফল থাকায় ক্রেতাদের চাহিদাও আকাশচুম্বী। প্রতিদিনই বাড়তে থাকে মজম্মিলের ফল বিক্রি।

তিনি স্বপ্ন দেখা শুরু করেন আরও বড় পরিসরে। বাড়ির পাশের একাধিক জমিতে চাষ করেন পানি লাউ, বেগুন, শিম, টমেটো, গোল আলু, মিষ্টি লাউ, লাল শাক, ঝিঙ্গে, মিষ্টি আলু ও মূলাসহ হরেক রখমের সবজি। বিরামহীন পরিশ্রমে অল্প দিনেই ফল আসতে শুরু করে গাছে গাছে। শুরু হয় বিক্রি। আশ-পাশ বাজারসহ শহরের অনেক ফল ও সবজি বিক্রেতারা ছুটতে থাকেন মজম্মিলের বাড়িতে। প্রতিদিনই ফল-সবজি বিক্রি হচ্ছে আর কারি কারি টাকা জমা হতে থাকে তার কাছে। এভাবেই তিনি সফল একজন ফল-সবজি চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন নিজ ইউনিয়নসহ উপজেলা জুড়ে।

মজম্মিল আলী বলেন, ইচ্ছাশক্তি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকলে খুব অল্প খরচে লাভবান হওয়া যায়। আমি কৃষির মাধ্যমে এলাকার যুবকদের কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত করতে চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ মোতাবেক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদ করি। কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই বিকল্প পদ্ধতি ফাঁদ পাতার মাধ্যমে ধ্বংসাত্বক পোকা নিধন করে ফসলকে রক্ষা করি।

মজম্মিলের স্বপ্ন, একজন সফল সবজি চাষী হিসেবে পুরস্কার পাওয়া। কুলাউড়ায় কৃষি মেলা, উন্নয়ন মেলা ও বৃক্ষ মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি তার উৎপাদিত সফেদা, মালটা, চায়না কমলা, ডালিম, বেলেম্বুসহ হরেক রখমের ফসল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। তিনি এবছর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ৪ জাতের লাউ চাষ করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। পরামর্শের পাশাপাশি আর্থিকভাবে সরকারের সহযোগিতা পেলে মজম্মিল অনেকদুর এগিয়ে যাবেন বলে ধারনা এলাকার লোকজনের।#