মার্চ ১২, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » পর্যটকবান্ধব সীমান্তনদী জাদুকাঁটার উৎস মুখে সেইভ মেশিনে অবৈধভাবে চলছে বালু পাথর লুটের কর্মযজ্ঞ

পর্যটকবান্ধব সীমান্তনদী জাদুকাঁটার উৎস মুখে সেইভ মেশিনে অবৈধভাবে চলছে বালু পাথর লুটের কর্মযজ্ঞ

এইবেলা, সুনামগঞ্জ, ১২ মার্চ ::

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পর্যটক বান্ধব সীমান্ত নদী জাদুকাঁটায় এবার ইঞ্জিন চালিত সেইভ মেশিন দিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু পাথর উক্তোলনের কর্মযজ্ঞ চলছে সীমান্তনক্ষী বিজিবির কিছু অসৎ সদস্যের মদদে।’ অভিযোগ উঠেছে, ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবির সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বিওপির বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার চালকের আসনে থেকে ব্যাটালিয়ন এফএস ও বিএসবি সদস্য এ তিন বিজিবির সদস্য মিলেমিশে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিপন্ন করে অবৈধভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সারি সারি সেইভ মেশিন দিয়ে সরকারি রাজস্ব বঞ্চিত করে বালু পাথর উক্তোলন কাজে গোপনে মদদ যুগিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হলেও পরিবেম বিপন্নের বিনিময়ে সেইভ মালিকদের নিকট থেকে প্রতিদিন নির্দ্রিষ্ট হারে উৎকোচ নিয়ে বেশ দাপটের সাথে গত দু’মাসের অধিক সময় ধরে নদীর পরিবেশ ধ্বংস যজ্ঞ’র এ কাজে মদদ যুগিয়ে যাচ্ছেন বিজিবির ওই তিন সদস্য।’অবশ্য ব্যাটালিয়ন কতৃপক্ষ কিংবা অধিনায়ক সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে এলে সকাল থেকেই ওই তিন গুণধর বিজিবির টহল দলকে ব্যবহার করে সেইভ মেশিনগুলো নদীর চর থেকে কৌশলে সরিয়ে ফেলেন দ্রুততার সাথেই।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্য্যন্ত সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারা দেশ বিদেশে পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের নিকট পরিচিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় বিওপির সোজা পশ্চিমে ও বারেকটিলার খেয়াঘাটের দক্ষিণ দিক থেকে ছিলা বাজার পর্য্যন্ত মেঘালয় থেকে প্রবাহিত হয়ে আসা সীমান্তনদী জাদুকাঁটার বুকে প্রায় এক কিলোমিটারের অধিক নৌ-পথ জুরে ছোট বড় ৭০ থেকে থেকে ৭৫টি ইঞ্জিন চালিত নৌকার ওপর সেইভ মেশিন বসিয়ে সকাল থেকেই চলছে অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উক্তোলনের কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন কয়েক শতাধিক শ্রমিক ও সেইভ মালিকগণ।’

বারেকটিলায় বসবাসরত স্থানীয় লোকজন ও কর্মরত শ্রমিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত প্রায় দু’মাস ধরে লাউড়েরগড় বিওপির বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন এফএস ও বিসএবি এফএস সদস্য এ তিন বিজিবির সদস্য মিলেমিশে গোপনে সেইভ মালিকদের নিকট থেকে ব্যাক্তিগত সোর্স’র মাধ্যেমে প্রতি সেট ( ৩টি সেইভে ১ সেট) ১৫’শ টাকা হারে উৎকোচ নিয়ে ১৩ থেকে ১৫ সেট সেইভ মেশিন দিয়ে পরিবেশ আইন পরিপন্থি উপায়ে বালু পাথর উক্তোলনে কাজে মমদ জুগিয়ে যাচ্ছেন।’ এ কারনে এলাকার গরীব শ্রমজীবী হাজারো শ্রমিক নদীর এ অংশজুড়ে কয়লা, লাকড়ি কুড়ানো ও হাত দিয়ে বালু পাথর উক্তোলন করতে পারছেন না।’ একটি নির্ধারিত সিন্ডিক্যাট তৈরী করে নদীর এ চরে প্রভাবশালী বালু পাথর খেকো চক্রকে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত করে বারেক টিলার নিচে কোটি কোটি টাকার বালু পাথর মজুদ করার জন্য একাধিক ডিপোতে ডাম্পিং করার কাজেও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সিন্ডিক্যাটের স্বার্থ রক্ষায় সহায়তায় করছেন বিজিবির ওই তিন সদস্য।’

অভিযোগ রয়েছে বিজিবির ওই তিন’ দায়িত্বশীল সদস্য প্রতিদিন ব্যাক্তিগত সোর্সের মাধ্যমে সেইভের সেট প্রতি ১৫’শ টাকা উৎকোচ আদায় করাচ্ছেন। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের নিকট কিংবা অন্য কোন সংস্থার নিকট মুখ না খোলার জন্য এলাকার প্রতিবাদী লোকজন ও সাধারন শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত শাসিয়ে যাচ্ছেন ব্যাটালিয়ন কতৃপক্ষের সেইভ চালানোর অনুমতি রয়েছে এ অজুহাত সৃষ্টি করে।’ নদীর পরিবেশ বিপন্ন করে সেইভের অবৈধ আয় রোজগারের উৎসকে জায়েজ করতে ও নিজেদেরকে করিৎকর্মা সাজাতে সীমান্তে দায়িত্বপালনের নামে ব্যাটালিয়ন কতৃপক্ষের সূ-নজরে থাকায় ক্যাম্প কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন এফএস বিএসবি এফএস তারা যৌথভাবে দাপটের সাথে সীমান্ত আয়ে নিজেরা ফুলে ফেঁপে উঠলেও দায়িত্বশীলরাও তাদের এ ধরণের শুভংকরের ফাঁকি রুখতে পারছেন না রহস্যজনক কারনে।’

২৮-বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ব্যাটালিয়ন এফএস নায়েক মাহফুজুর রহমানের নিকট জাদুকাঁটা নদীতে সেইভ মেশিনে বালু পাথর উক্তোলন ও সোর্সের মাধ্যমে উৎকোচ নেয়ার প্রসঙ্গে সবিস্থারে অবহিত করে বক্তব্য জানতে সোমবার যোগোযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন রকম সদুক্তর না দিয়ে বললেন, এসব বিষয় ক্যাম্প কমান্ডার ভালো বলতে পারবেন । ’

বিএসবি এফএস নায়েক মো. সাজেদুল ইসলামের নিকটও সোমবার একই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন।’

২৮-বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির সুনামগঞ্জের লাউড়েরগড় বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার কেরামত আলীর নিকট এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সোমবার কোন রকম সদুক্তর না দিয়ে বললেন, আমার ব্যাটালিয়ন কতৃপক্ষ এসব বিষয়ে জানেন।’##