মার্চ ১৯, ২০১৮
Home » আন্তর্জাতিক » ব্রি‌টে‌নে তারুন্যের প্রেরণা সি‌লে‌টের বক্সিং কন্যা রোকশানা

ব্রি‌টে‌নে তারুন্যের প্রেরণা সি‌লে‌টের বক্সিং কন্যা রোকশানা

মুন‌জের আহমদ চৌধুরী,যুক্তরাজ্য, ১৯ মার্চ ::

‌ব্রি‌টে‌নে শুধু স্ব‌দেশী বা এ‌শিয়‌ান নয়,‌ গোটা ব্রি‌টিশ তরুন প্রজ‌ন্মের কা‌ছেই প্রেরনার নাম হি‌সে‌বে প‌রি‌চিত এখন সি‌লে‌টের রোকশানা। তি‌নি ব্রি‌টে‌নের প্রথম মুস‌লিম নারী কিক ব‌ক্সিং চ্যা‌স্পিয়ান।

‌অথচ একসময় এই রোকশানা‌কে লড়‌তে হ‌য়ে‌ছে পা‌রিবা‌রিক পছ‌ন্দে ও আ‌য়োজনে বি‌য়ের পি‌ড়ি‌তে না বসবার জন্য। ক‌ঠোর ধর্মীয় অনুশাষ‌ন আর শারী‌রিকভা‌বে দুর্বলতার অতীত নি‌য়ে বে‌ড়ে ওঠা রোকশানা এখন কিক ব‌ক্সিং‌গে বিশ্ব চ্যা‌ম্পিয়ন।

না পাঠক, এ‌টি কোন হ‌লিউড বা ব‌লিউ‌ডের চল‌চি‌ত্রের গল্প নয়। এ‌টি লন্ড‌নে বে‌ড়ে ওঠা এক সাধারন ব্রি‌টিশ বাংলা‌দেশী প‌রিবা‌রের কন্যা রোকশানা বেগ‌মের জীব‌ন য‌ু‌দ্ধের গল্প। ‌যি‌নি মাত্র পাচঁ ফুট দু ই‌ঞ্চি উচ্চতা,ব্যা‌ক্তিগত দুর্ঘটনা‌কে পেছ‌নে ফে‌লে সাফ‌ল্যের পেছ‌নে ল‌ড়ে গে‌ছেন একাগ্র চি‌ত্তে।

শ‌নিবার বি‌বি‌সি‌কে দেওয়া সাক্ষাতকা‌রে রোকশানা ব‌লে‌ছেন,আমার প‌রিবা‌র অত্যান্ত ধর্মপ্রান। তা স‌ত্বেও আ‌মি কিক ব‌ক্সিং‌কে ছে‌লে‌বেলা থে‌কে ভা‌লবাসতাম। যখন আ‌মি ছোট ছিলাম,তখন মা‌কে বল‌তে হত,মা আ‌মি কি মাত্র এক ঘন্টার জন্য জি‌মে যে‌তে পা‌রি? সেই আ‌মিই আজ‌কের আ‌মি।

৩৪ বছর বয়সী রোকসানা এখন বিশ্বাস ক‌রেন, লক্ষ অর্জ‌নে একাগ্রতা থাক‌লে কোন বাধাই আটকা‌তে পা‌রে না।

এই নারী বক্সারের জন্ম লন্ডনের ইল‌ফোর্ড এলাকায়। লন্ডনে জন্ম নিলেও রুকসানার দাদার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার বালাগঞ্জে। বাবা আওলাদ আলী এবং মা মিনারা বেগম দম্পতির তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে রুকসানা দ্বিতীয়। ২০০৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টার থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন রুকসানা। ১৬ বছর বয়সে রুকসানা সর্বশেষ বাংলাদেশে গে‌ছেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রুকসানা পর পর পাচঁ বছর নিজের দখলে রে‌খে‌ছেন ব্রিটিশ কিক বক্সিং ও মুয়ে থাই চ্যাম্পিয়নের সম্মান।

‌রোকশানা জানান,শরীরচর্চা করতে গিয়ে শখের বশে শুরু করেন বক্সিং প্রশিক্ষণ। লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকার সেই ব্যায়ামাগারে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, খ্যাতনামা প্রশিক্ষক বিল জাডের কাছে থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী মুয়ে থাই শেখার সুযোগ পান রুকসানা।

রুকশানা ব‌লে‌ছেন, তি‌নি সব সময়ই তরুন‌দের নি‌য়ে কাজ কর‌ছেন। সু‌বিধাব‌ঞ্চিত তরুন‌দের খেলাধূলা‌র ক্ষে‌ত্রে সাহায্য কর‌তে আনন্দ পান তি‌নি।#