- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করে নেতারা হয়েছেন গাড়ি বাড়ির মালিক

হোসাইন আহমদ, মৌলভীবাজার, ২১ মার্চ ::

মৌলভীবাজার জেলা অটোটেম্পো, অটোরিক্সা, মিশুক ও সিএনজি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ১৫-১৬ হাজার শ্রমিকের গত সাড়ে ৩ বছরের দৈনিক চাঁদা, শ্রমিকদের ভর্তি ও পরিচয়পত্র বাবত প্রায় ২-৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে বর্তমান সভাপতি ও তাঁতীলীগ নেতা মোঃ পাবেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিমের বিরুদ্ধে। শ্রমিকের হাড় ভাঙ্গা ঘামের টাকায় উভয়ই হয়েছেন জিরো থেকে হিরো। হয়েছেন গাড়ি বাড়ির মালিক। উভয়েরই রয়েছে প্রাইভেট কার। এলাকায় সভাপতির বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেংকারি সহ নানা অভিযোগ।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আলাধিনের চেরাগের সন্ধ্যান পান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা অদ্যবধি কোনো সাধারণ সভা বা আয়-ব্যয়ের হিসাব শ্রমিকদের সামনে পেশ করেননি। এনিয়ে জেলার শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্ষোব্ধ শ্রমিকরা অফিসে গিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব চান। কিন্তু তারা হিসেব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারী জেলা প্রধান কার্যালয়ে তালা মারে শ্রমিকরা। এসময় পরিস্থিতি গোলাটে হলে পুলিশ প্রশাসন উভয় গ্রুপকে বের করে দেয় এবং এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তালা ঝুলছে। ক্ষোব্ধ শ্রমিকরা আয়-ব্যয়ের হিসেবের দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে এবং একাধিক প্রতিবাদ সভা করেছে। শ্রমিকারা নায্য আয়-ব্যয়ের হিসেব না পেলে ঘটতে পারে রক্তকীয় সংঘর্ষ।

শ্রমিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারী চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত রেজিষ্টার পত্রের মাধ্যমে ৪৫ দিনের সময় দিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বলা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কাজই হয়নি। বরং অভিযোগক্তরা ফের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজেদের পছন্দের লোকদের ভোটার তালিকা তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলা ব্যতিত বাকী ৬টি উপজেলায় রয়েছে ৬টি শাখা এবং ওই ৬টি শাখার অধিনে আছে ১১৭-১১৮টি গ্রুপ। ওই গ্রুপের অধিনে আছেন প্রায় ০৯-১০ হাজার শ্রমিক। দৈনন্দিন লাইনে উপস্থিত শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকার মাথাপিছু ২টাকা করে দিতে হয় জেলা কমিটিকে। সদর উপজেলার ১৭টি গ্রুপ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে জেলা কমিটি। ওই ১৭টি গ্রুপের ৩-৪ হাজার শ্রমিকের কাছ থেকে দৈনিক মাথাপিছু আদায় করা হয় ৫টাকা করে। এটার সম্পূর্ণটাই ঢোকে জেলা কমিটির পকেটে। এছাড়াও জেলা ব্যাপি অন্যান্য ইউনিটের নির্বাচনের নমীনেশনের টাকা, গাড়ি ভর্তি ও শ্রমিকদের পরিচয় পত্রের টাকাও ডুকে তাদের পকেটে। ওই টাকায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

সরেজমিন গেলে দেখা যায়, সদর উপজেলার থানাবাজার সম্পাসী এলাকায় সভাপতি পাবেলের বাড়িতে অত্যাধনিক দুতলা একটি বিল্ডিং করেছেন। অথচ নেই আয়ের অন্য কোনো উৎস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক লোক বলেন, পাবেল মিয়া সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই গত ৩ বছরে দুতলা বাড়ি তৈরি ছাড়াও একটি প্রাইভেট কারও কিনেছেন। চলছেন রাজার বেসে। তারা আরোও বলেন, ২-৩ জন মহিলাকে প্রলোভন দিয়ে উনি অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তার পরকীয় একজন প্রবাসীর পরিবারও ধ্বংস হয়েছে। তবে ভয়ে কেউ মুখখোলে প্রতিবাদ বা অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেনা। জানা যায়, সম্প্রতি সাধারণ সম্পাদকও ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে উনার পাশের বাড়ির একজন লোকের ১০ শতক জায়গাও কিনেছেন।

ইতিমধ্যে নায্য হিসাবের দাবিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ৩-৪টি প্রতিবাদ সভা করেছে এবং নির্বাচনের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে প্রেরণ করলে গত ৩ জানুয়ারী মোঃ শিবলু আহমদকে আহ্বায়ক ও আলিম উদ্দিন (হালিম) কে সদস্য সচিব করে কর্তৃপক্ষ এটাকে অনুমোধন দেয়।

সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম জানান, গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আহ্বায়ক কমিটি চট্টগ্রাম পাঠালে ইতি মধ্যে এটা অনুমোধন হয়ে এসেছে এবং নির্বাচনের পক্রিয়া চলছে। শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, গত ৩ বছরে যা আয়-ব্যয় হয়েছে এটা শ্রমিকদের বুঝিয়ে দিয়েছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সভাপতি মোঃ পাবেল মিয়া জানান, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে দু-একজন ব্যতিত বাকীরা প্রকৃত শ্রমিক নয়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ওরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। নারী কেলেংকারীর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। বর্তমানে আপনাদের একাউন্টে কথ টাকা জমা আছে এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলতে পারেননি এবং কোন ব্যাংকে একাউন্ট সেটিও সভাপতির জানা নেই। আপনাদের মেয়াদে আয়-ব্যয় কিভাবে করেছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কিছুটা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বাকীটা নগদ করেছি।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *