- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

কে এই বাবুল?

পাবেল খান চৌধুরী, হবিগঞ্জ:: কে এই বাবুল? কি তার পরিচয়। কে তার আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা। কি করে বাবুল অল্পদিনেই হয়ে উঠে এলাকার ত্রাস, এমন প্রশ্ন এখন জেলার সর্বত্র। সবুজ জমিনে লাল পোশাক পরা কিশোরী বিউটির লাশের করুণ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে শুরু হয় তোলপার। বাবুলের বিচার দাবিতে সোচ্চার হন অনেকে। দাবি ওঠে তাকে গ্রেফতারের। অবশেষে শনিবার র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে সে।

শায়েস্তাগঞ্জে বিউটিকে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার নায়ক বাবুলকে পুলিশ ধরতে না পারলেও র‌্যাব তাকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাবুলের এই লাম্পট্যপনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাবুলসহ তার মা-বাবা সম্পর্কে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। মুখ খুলতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী।

বাবুলের বিরুদ্ধে শুধু বিউটির ওপর নির্যাতন ও হত্যা নয়, এর আগে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাস্তাঘাটে নারীদের উত্ত্যক্ত করা, সখ্য গড়ে প্রতারণা ও অনৈতিক কাজের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিউটির বাবা সায়েদ আলী বলেন, বখাটে বাবুলের কারণে শুধু আমার মেয়েই নয়, এলাকার অনেক মেয়েই লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, বাবুল এলাকার উঠতি বয়সের তরুণী ও কিশোরীদের রাস্তাঘাটে পেলেই বাজে ভাষায় উত্ত্যক্ত করত। কখনো কখনো গায়ে হাতও দিত। তবে এলাকায় সে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে নিরীহ লোকজন কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের বাসিন্দা নাজির মিয়া জানান, নারীরা হচ্ছে তার কাছে খেলনার মতো। সে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদের নিয়ে এসে আড্ডার নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত। তার আচরণে এলাকার সবাই অতিষ্ঠ।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের মৃত মলাই মিয়ার ছেলে বহুল আলোচিত বিউটি হত্যার মুল ঘাতক বাবুল মিয়ার বয়স মাত্র ৩০। সে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। ২০১০ সালে একই গ্রামের তৌহিদ মিয়ার মেয়ে তাসলিমা আক্তারকে সিলেটের এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এরপর তাসলিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি করে তাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে বাবুল। বিয়ের পরও তামেনি তার অপকর্ম। বাবুল প্রাইমারি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। কয়েক বছর ধরে বাবুল অলিপুরে প্রাণ কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ নেয়। তবে কাজে সময় দেয়ার চেয়ে মেয়েদের ফিছনেই বেশি সময় দিত বাবুল। আর সম্প্রতি বিউটি হত্যাকণ্ডের পরপরই বাবুল গা-ঢাকা দেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ১০/১২ বছর আগে বাবুলের পিতা মলাই মিয়া মারা যান। তার মৃত্যুও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হলে তারা জানান, লাখাইয়ে ডাকাতিকালে বাবুলের পিতা মলাইকে জনতা গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে। পরে তার লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

তার মা কলমচান বিবি সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, তিনি আবুনি নামে এলাকায় বেশী পরিচিত। এই কলমচান বিবির একাধিক বিয়ে হয়েছিল।

একই গ্রামের নাম প্রকাশে জনৈক ব্যক্তি (৫৫) বলেন, প্রথমে উমেদ আলী নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে কলমচান বিবির বিয়ে হয়। পরে নোয়াখালীর এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ওই স্বামী বিষপানে আত্মহত্যা করেন। পরে মলাই মিয়ার সঙ্গে তৃতীয় বিয়ে হয়। মলাই মিয়া মারা যাওয়ার পর এক মেম্বারের সঙ্গে বিয়ে হয় বলেও জানান তিনি। চলতি বছরে নবপ্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণডোরা ইউপি নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও কাজ করেছেন ওই মেম্বারসহ একটি প্রভাবশালী মহল।

এলাকার কয়েকজন বলেন, কলমচান ও তার ছেলে বাবুলের সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। তবে বিউটি হত্যা মামলা দায়েরের পর প্রথম দিকে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবুল ও তার মাকে সহযোগিতা করলেও পরে আবার তারা সবাই নিজেদেরকে সরিয়ে নিয়েছেন। এখন আর তাদেরকে বাবুলের পরিবারের পাশে দেখা যায় না।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *