এপ্রিল ২০, ২০১৮
Home » জাতীয় » ফলো আপ- কুলাউড়ায় ২ শিক্ষার্থীর সহমরণ- ছেলের বাবা কারণেই আত্মহনন বলে পুলিশের দাবি

ফলো আপ- কুলাউড়ায় ২ শিক্ষার্থীর সহমরণ- ছেলের বাবা কারণেই আত্মহনন বলে পুলিশের দাবি

এইবেলা, কুলাউড়া , ২০ এপ্রিল ::

আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে, ছেলের বাবা বিষয়টি মেনে না নেয়ায় মনের দু:খে এরা দু’জন আত্মহত্যা করেছে। এভাবেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়া দুই শিক্ষার্থী আলোচিত ঘটনা সম্পর্কে জানান কুলাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক।

এদিকে জয়ন্ত প্রতিদিন মা মারিয়ার ছবিতে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করতো। ওর মারা যাওয়ার পর থেকে প্রার্থনার কাজটি করেন বাবা আলেকজান্ডার। জয়ন্ত যদি বলতো সে সন্ধ্যাকে ভালোবাসে, তাহলে আমি মেনে নিতাম। বড় ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো বাবার। কিন্তু সব স্বপ্ন যেন হতাশায় মিশে গেলো। এভাবে হতাশা প্রকাশ করলেও কেন দু’জন যুবক যুবতী আত্মহত্যা করতে গেলো?- এই প্রশ্নের উত্তরে জয়ন্তর বাবা কিংবা গারো বস্তির সবাই যেন মুখে কুলোপ এটে বসেছেন।

শুধু মেরিনা চা বাগানের গারো বস্তির লোকজন নয় গোটা কুলাউড়া উপজেলায় জয়ন্ত ও সন্ধ্যার সহমরণ (ট্রেনের নিচে আত্মাহুতি) নেপথ্য কারণ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিন মেরিনা চা বাগানের গারো বস্তিতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত জয়ন্ত ও সন্ধ্যা দু’জনেই লেখাপড়া অত্যন্ত মেধাবী ছিলো। যেদিন মারা গেলো অর্থাৎ ৩০ মার্চ তার আগের রাতে গারো বস্তির খৃষ্টান চার্চে অনুষ্টান ছিলো। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত গান বাজনা হয়েছে। সেই অনুষ্টানে জয়ন্ত ও সন্ধ্যার সরব উপস্থিতি ছিলো। কিন্তু এরা এভাবে মারা যাবে, কেউ যেন বিশ^াস করতে পারছিলো না।

জয়ন্তর বাবা আলেকজান্ডার আরও জানান, রাত ১২টার পর জয়ন্ত এসে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝ রাতে ঘুমিয়েছে বলে সকালে ডাকতে যাননি। বেলা প্রায় ১১টার দিকে রেলওয়ে থানা থেকে ফোন দিয়ে জয়ন্ত ট্রেনে কাটা পড়েছে বলে জানানো হয়। জয়ন্তর মোবাইল নাম্বার থেকে পুলিশ আমার নাম্বার পেয়েছে বলে জানায়। জয়ন্তর সাথে ট্রেনে কাটা পড়া সন্ধ্যা সম্পর্কে আমার ভাগনি। আত্মীয়তার মধ্যে সম্পর্ক মেনে নিতে গারো সমাজে কোন বাঁধা নেই। আমি যদি জানতাম তবে অকালে দুটি জীবন ঝরে যেতে দিতাম না।

বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি খোকা নায়েক ও সম্পাদক করিম জানান- এরা ভোর ৪-৫টার যেকোন ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছে। অনুষ্টান আগের রাত ১২টায় শেষ হয়। এরপর সবার মত এরা দু’জন নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। জয়ন্ত ও সন্ধ্যা যে স্থানে আত্মহত্যা করেছে, সেখানকার দুরত্ব তাদের বস্তি থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার। এত কম সময়ে মেরিনা চা বাগান থেকে এই দুর্গম ও ভয়ঙ্কর পাহাড়ী পথ কিভাবে পাড়ি দিলো?

তবে সরেজমিন পরিদর্শণকালে নিহত সন্ধ্যা সাংমার বাবা মা পানজুমে কাজ করতে গেছেন বলে উপস্থিত বাগানের লোকজন জানান। কিন্তু বাস্তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গারো বস্তির লোকজনের কারোরই পানজুম নেই। এরা সবাই বাগানের নিয়মিত শ্রমিক। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এটা আত্মহত্যা নয়, এদেরকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। আর আত্মহত্যার পেছনে মুল নায়ক নিহত জয়ন্তর বাবা আলেকজান্ডার। তাকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে মুল রহস্য উদঘাটিত হবে।

কুলাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক আরও জানান থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, তদন্ত চলছে। তবে ঘটনার দিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছেলে মেয়ে দুটি আত্মহত্যা করুক কিন্তু তাদেরকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচনাকারীকে খোঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এমন ঘটনা ঘটবে না।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ ভোররাতে কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের নর্তন এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে জয়ন্ত রুরাম (১৯) ও সন্ধ্যা সাংমা (১৭) নামক ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। একসাথে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় গোটা উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।#