এপ্রিল ৩০, ২০১৮
Home » জাতীয় » মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষককে দায় মুক্তি

মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষককে দায় মুক্তি

এইবেলা, সুনামগঞ্জ, ৩০ এপ্রিল ::

প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) ধর্ষণের ঘটনায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে গ্রাম্য শালিসের নামে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষককে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামে ওই শিশু ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে শালিসে গ্রাম্য মাতব্বরদের দেয়া এ রায়ের বিষয়টি জানাজানির পর রোববার উপজেলার সর্বত্র তোলাপাড় শুরু হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন জানিয়েছেন, ধর্ষণের মতো ঘটনা আইন- আদালত ব্যতিত গ্রাম্য শালিসে বিচারের এখতিয়ার নেই।

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলা পিরিজপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ৭ বছরের ওই শিশুটি গত ২১ এপ্রিল বিকালে বাড়ির উঠানে খেলা করছিলো। ওই সময় একই গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিবেশী উপানন্দ দাসের বখাটে ছেলে নয়ন দাস (২১) মোবাইল ফোনে গান শোনানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়ি এসে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছেট ঘটনা খুলে বলে।

এদিকে নয়নের পক্ষে ঘটনা ধামচাঁপা দিতে তার পরিবার ও স্বজনেরা গ্রামের একদল সালিসীদের দিয়ে রাতেই ওই শিশু কন্যার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহন ও আইনি সহায়তা নিতে বাধা সৃষ্টি করে চিকিৎসার জন্য গ্রামের হোমিও প্যাথিক এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। গ্রামের চিকিৎসক অপারগতা প্রকাশ করলে সেখান থেকে রাতেই সুনামগঞ্জ শহরে একটি প্রাইভেট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শিশুটিকে গোপনে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।

অপরদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পাখি বাবু, বোরহান উদ্দিন, নিরু দাস, নানির উদ্দিন, আজির উদ্দিন কথিত শালিসগণ গত ২৫ এপ্রিল গ্রামের পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় গ্রাম্য মাতব্বর মন্টু ভট্রাচার্য্যরে সভাপতিত্বে শালিসে বসেন।

সালিশে ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল হেকিম, ভিকটিম, ভিকটিমের পরিবাররসহ গ্রামের শতাধিক লোকজনের উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত নয়ন দাসকে উপস্থিত করা হয়নি। ওই শালিসে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় নয়নকে দোষী সাবাস্থ্য করে ভিকটিমের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা ‘ক্ষতিপূরণ’ দেয়ার রায় দেন শালিসের বিচারকরা।

ভিকটিমির হত দরিদ্র পিতা-মাতা রোববার  জানান, আমরা আমাদের শিশু কন্যার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও থানায় আইনি ব্যবস্থা প্রস্তুতি নিলেও গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বর বারবার বাঁধা প্রদান করেছেন। আমরা গ্রাম্য শালিসদের রায় প্রত্যাখ্যান করেছি, আমরা গরীব মানুষ জানিনা কোথায় গেলে ন্যায় বিচার পাব?

বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাস বলেন, শুরুতে এ বিষয়টি থানা পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি। রোববার সকালে লোকমুখে শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ভিকটিমকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।#