মে ১২, ২০১৮
Home » ব্রেকিং নিউজ » চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে আতঙ্কে কুলাউড়ার পাবেল

চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে আতঙ্কে কুলাউড়ার পাবেল

এইবেলা , কুলাউড়া, ১২ মে ::

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের বাবনিয়া গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে পাবেল আহমদ (১৫) এর চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে। সিলেটে এবং ঢাকায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে পাবেলকে নিয়ে যাওয়া হয়। করানো হয় অনেকগুলো মেডিকেল টেস্ট কিন্তু এসব টেস্টে কোন রোগ নির্নয় করা সম্ভব হয়নি।

অসুস্থ পাবেল জানান, ‘আগে নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতো, এখন চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে চোখ মেলতে পারিনা। চোখের ভেতর যেন রক্ত জমাট থাকে। চোখে অসহ্য জ্বালাপোড়া করে। বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখালেও ডাক্তাররা আমার রোগের কারণ জানাতে পারেননি।

সরেজমিনে পাবেলের গ্রামের বাড়িতে গেলে জানা যায়, সে একই এলাকার বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তার পড়াশুনাও বন্ধ। অজানা এই রোগ নিয়ে আতঙ্কে তাকেন সবসময়। রক্ত হঠাৎ ঝরে তাই ভয়ে বাইরে বের হতেও পারেন না। পাবেল আহমদ এই দু:সহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।

পাবেলের মা তৈয়বুন বেগম জানান, ২ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে পাবেল সবার ছোট। প্রায় তিন বছর আগে থেকে তার (পাবেলের) নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতো। এ অবস্থায় কুলাউড়ায় ডা. দেবাশীষ বসুর চিকিৎসা নেন। ডাক্তারের দেয়া ঔষধ ব্যবহার করায় রক্তক্ষরণ বন্ধ থাকে। হঠাৎ করে ৮ মাস আগে নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

তৈয়বুন বেগম আরও জানান, রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় সিলেটে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে সিটিস্কেনসহ বেশ কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করানোর পর ডা: নুরুল হুদা নাইম। তিনি জানান, পাবেলের নাকের ভেতরে মাংসপেশি বেড়েছে এবং নাকের হাড় বাঁকা। ৫ মাস আগে সিলেটে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডা: হাফিজুর রহমানের তত্বাবধানে নাকের ভেতর দুটি অস্ত্রপাচার করানো হয়। অপারেশনের পরও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। কিছুদিন পর পর নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতো। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নাক, মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের সাথে নতুন করে চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ডাক্তারের ঔষুধে কোন কাজ হচ্ছিল না। সাত আটদিন পরপর চোখ নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। গত ৫ মে ঢাকায় ডা. প্রাণগোপাল দত্তের কাছে পাবেলকে নিয়ে যাই। তিনিও তার মেডিকেল টেস্ট করান। টেস্টে কোন সমস্যা ধরা পড়েনি।

প্রবাস ফেরৎ আব্দুস শহিদ বর্তমানে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলের চিকিৎসার খরচ যোগাতে তিনি হতবাক হয়ে পড়েছেন। পরিবার পরিচালনা করবেন নাকি ছেলেকে চিকিৎসা করাবেন কুলকিনারা করতে পারছেন না। তাছাড়া রোগ নির্নয় না হওয়ায় করণিয় এবং পরিণতির কথা ভেবে নিয়ে গোটা পরিবার উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছে।#