মে ১৬, ২০১৮
Home » জাতীয় » জাল টিকেট নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড! একঘন্টা পর কুলাউড়া স্টেশন থেকে ছাড়লো ট্রেন

জাল টিকেট নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড! একঘন্টা পর কুলাউড়া স্টেশন থেকে ছাড়লো ট্রেন

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৬ মে :: কুলাউড়া জংশন স্টেশনে টিকেট কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্য চলছে দীর্ঘদিন থেকে। যাত্রীদের অভিযোগ ট্রেনের জাল টিকেট তৈরি করে এবার ওইচক্র নেমেছে নতুন করে প্রতারণায়। ১৪ মে সোমবার আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের জাল টিকেট নিয়ে কুলাউড়া স্টেশনে ঘটে লঙ্কাকা-। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এক ঘন্টা ট্রেন আটকে রাখে। পরে যাত্রী সমঝোতায় এক ঘন্টা বিলম্বে ট্রেন ছেড়ে যায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। জাল টিকেট তৈরির সাথে স্টেশনে কর্মরতদের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু চিকিৎসা নিতে সোমবার রাতের আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকেট করতে ওইদিন সকালে কুলাউড়া স্টেশনে যান। রফিকুল ইসলাম রেনুসহ ৪ জন যাত্রী কাউন্টারে গিয়ে টিকেট পাননি। এসময় কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টিকেট কালোবাজারি চক্রের অন্যতম হোতা মকদ্দছ আলী তার কাছে ৪ টি টিকেট রয়েছে বলে জানায়। পরে কাউন্টারে দায়িত্বরত রাজু মিয়াকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম রেনুসহ ৪ জন যাত্রী ট্রেনের “গ” বগির প্রথম শ্রেণির বার্থের ৪ টি টিকেট অতিরিক্ত দামে ক্রয় করেন। রাতে ট্রেনের নির্ধারিত সময়ে তারা ট্রেনে উঠে আসনে গিয়ে দেখেন তাদের আসনে অন্য যাত্রীরা বসে আছেন। এসময় আসনে বসা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কথাকাটি শুরু হলে ট্রেনে দায়িত্বরত পরিচালক (গার্ড) এসে দেখতে পান উভয়ের টিকেটের হুবহু মিল রয়েছে। পরে তার সন্দেহ হলে কাউন্টারে গিয়ে টিকেটের নাম্বার মিলিয়ে দেখতে পান রফিকুল ইসলাম রেনুসহ ৪ যাত্রীর টিকেট জাল।

এদিকে ঘটনা জানতে পেরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্টেশনে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা আটকে রাখে ট্রেন। পরে যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে কুলাউড়া স্টেশন থেকে এক ঘন্টা পর আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
অভিযুক্ত কালোবাজারি মখদ্দছ আলী জানান, আমি এক যাত্রীর কাছ থেকে টিকেট ক্রয় করে রফিকুল ইসলাম রেনুসহ অন্যদের কাছে বিক্রি করেছি।

টিকেট কাউন্টারের হেড ক্লার্ক বোরহান উদ্দিন রাজু জানান, সারা বাংলাদেশে টিকেট কালোবাজারি হয় কুলাউড়ায়ও হচ্ছে। তবে এই টিকেট আমি কাউন্টার থেকে বিক্রি করিনি। মখদ্দছ আলী কোথায় থেকে এনে বিক্রি করেছে তা আমার জানা নেই।

কুলাউড়া স্টেশন মাষ্টার মফিজুল ইসলাম জানান, আমি রেলওয়ে থানার ওসিকে বলেছি কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু জানান, একই বগির একই টিকেট দেখে আমি হতবাক হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে ট্রেন ১ ঘন্টা বিলম্ব করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেনের পরিচালককে এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি।#