মে ১৯, ২০১৮
Home » আন্তর্জাতিক » কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে- স্ত্রী সন্তান রেখে ভারতে গেলেন স্বামী

কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে- স্ত্রী সন্তান রেখে ভারতে গেলেন স্বামী

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৯ মে ::

কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ভ্রমনকর পরিশোধের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ও শুধু সন্তানের কর না দেয়ায় স্ত্রী সন্তানকে রেখে ভারতে গেলেন স্বামী। শুক্রবার (১৮ মে) বিকালে চাতলাপুর চেকপোষ্টে এ ঘটনাটি ঘটে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ভারতগমনকারী যাত্রীরা আকস্মিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হন। শনিবার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্র এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

শনিবার (১৯ মে) দুপুরে দুর্ভোগের শিকার ভারতীয় ভিসা নিয়ে ভ্রমণকারী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লিপি পাল জানান, তার স্বামী শিক্ষক পিন্টু পাল, তিনি নিজে ও ৪ বছর বয়সী সন্তান গোবিন্দ পালের ভারতীয় ভিসা গ্রহণ করেন। তারা এক অসুস্থ্য আত্মীয়কে দেখতে শুক্রবার বিকেলে চাতলাপুর চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহরে যাচ্ছিলেন। শমশেরনগর শাখা সোনালী ব্যাংক থেকে স্বামী স্ত্রীর ভ্রমন কর পরিশোধ করে রসিদও গ্রহণ করেন। তবে শিশুটি ৪ বছরের থাকায় তাদের ধারণা ছিল এ শিশু কর দিতে হবে না। তাই তারা তার কর পরিশোধ করেননি।

শুক্রবার বিকালে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে তাদের ভিসা চেকিং ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে প্রবেশে আগে চেক পয়েন্টে বিজিবির সদস্যরা পাসপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। এসময় শিশু সন্তানের ভ্রমন করের জন্য তাকে যেতে আপত্তি জানায় বিজিবি সদস্যরা। লিপি পাল আরও জানান, প্রয়োজনে ফিরে আসে ভ্রমন কর পরিশোধ করবেন বলে জানালেও শিশু গোবিন্দ পালকে যেতে দেয়নি। অবশেষে স্বামী শিক্ষক পিন্টু পাল স্ত্রী ও সন্তান রেখে ভারতে গেলেন। শিক্ষিকা লিপি পাল আরও জানান, পরে বাধ্য হয়ে তিনি চেকপোষ্ট থেকে শমশেরনগরে বাসায় ফিরে এসেছেন। রোববার (২০/০৫/২০১৮) শিশু গোবিন্দের ভ্রমন কর দিয়ে তিনি ভারতে যাবেন।

চাতলাপুর ইমিগ্রেশন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ রুপে নির্ভর করে শুল্ক বিভাগের উপর। বৈধ ভিসা আছে কিনা তা তদারকি করে তথ্য সংগ্রহ করে ইমিগ্রেশনের আইনানুগ কাজ করেন মাত্র। তিনি আরও বলেন মানবিক কারণে বিজিবি সদস্যরা শিশু গোবিন্দ পালকে ভ্রমনের সুযোগ দিতে পারত।

চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার জানান, চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ভ্রমণ করে গ্রহনের বুথ না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনিও মনে করেন বাবা ও মার ভ্রমন কর পরিশোধ ছিল। পরে শিশু গোবিন্দ পালের ভ্রমন কর দিয়ে রসিদ জমা দিতে পারতেন। এখানে মানবিক কারণে শুক্রবার বাবার সাথে মাকে নিয়ে শিশুটি ভ্রমন করতে পারত। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংকের সহায়তায় ভ্রমন কর গ্রহন করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনে শুল্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ নং বিজিবি ব্যাটেলিয়নের পরিচালক(অপারেশন) মেজর খালেদ হায়দার জানান, চেকপোস্টে বিজিবির দায়িত্বের বাইরেও ভ্রমণ কর বাবাদ রাজস্ব আয় সঠিক হচ্ছে কিনা সেটাও বিজিবি সদস্যরা দেখছেন। মানবিক কারণে ২/১ টি বিষয়ে তারা নমনীয় থাকেন। তবে শুক্রবারের এ ঘটনা তিনি জাননে না।#