- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

বড়লেখায় মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে উচ্ছেদ করে বাড়ি নির্মাণ

আব্দুর রব, বড়লেখা, ০৫ জুন ::

বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলীর বিধবা স্ত্রীকে বন্দোবস্তীয় ভুমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মুক্তিযোদ্ধার নামে বরাদ্দকৃত খাস ভুমির লীজডিড বাতিল করে ধনাঢ্য ব্যক্তিকে লীজ প্রদানের পায়তারা চালাচ্ছে। সরকারের দেয়া এ ভুমি পুনরুদ্ধারে মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী মাহমুদা বেগম জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্বদৌলতপুর গ্রামের ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলী আশির দশকের শেষ দিকে খাস জমি বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে পূর্বদৌলতপুর মৌজার ১ নং খতিয়ানের জেএল নং ৪৪, ৫৯১ নং দাগে ইটখোলা শ্রেণীর ৮২ শতাংশ ভুমি ৯৯ বছরের জন্য তাকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ১৯৯১ সালের ৪ এপ্রিল ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলীর নামে সরকারের পক্ষ থেকে এ ভুমির কবুলিয়ত সম্পাদিত হয়। স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তান নিয়ে খাস জমির এক অংশে বসতঘর তৈরী ও অপরাংশে চাষাবাদ করে দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলী বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি সরকারী খাস জমি ভোগদখল করলেও মূল্যবান এ ভুমির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় ভুমিখেকোদের। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলী জীবিত থাকা অবস্থায় সরকারের দেয়া এ ভুমি কুচক্রী মহলের জবর দখলের চেষ্ঠা সফল হয়নি। চলিত বছরের ৩ ফেব্র“য়ারী মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলী মারা গেলে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তার বিধবা স্ত্রীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে জনৈক ধনাঢ্য আব্দুল খালিক এ ভুমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। মৃত মুক্তিযোদ্ধার অসহায় বিধবা স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেন দেবরের ঝুপড়ি ঘরে। দুই কন্যা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী মাহমুদা বেগম জানান, স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় শেষ সম্বলটুকু আকড়ে ধরে রাখেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর প্রভাবশালী আব্দুল খালিক হঠাৎ একদিন লোকজন নিয়ে বাড়িতে এসে বলে সে নাকি এ ভুমি লীজ এনেছে। আমি বাড়ি ছেড়ে যাইতে রাজি না হলে তার ছেলেদের নিয়ে সে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমাকে তাড়িয়ে দেয়। তার দুই ছেলে স্পেনে তাকে। বিরাট টাকা ওয়ালা, তাই অনেকেই তার পক্ষ নিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আমি বাড়ি ছেড়ে দেবর মাইন উল্লাহর ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায় প্রভাবশালী আব্দুল খালিক পরিবার নিয়ে জবর দখলিয় ভুমির এক অংশে বসবাস করছেন। অপর অংশে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন। মুক্তিযোদ্ধার নামে রেজিষ্ট্রীকৃত ভুমি জবর দখল, তার বিধবা স্ত্রীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বাড়ি নির্মাণের ব্যাপারে আব্দুল খালিকের ছেলে শামীম আহমদ ও বদরুল ইসলাম জানান, মুক্তিযোদ্ধার নামে ভুমি বরাদ্দের দলিল অনেক আগে বাতিল হয়ে গেছে। তার বাবা নতুন করে লীজ এনেছেন, কাগজপত্র পেয়েই বাড়ি নির্মাণ করছেন। তারা পাল্টা প্রশ্ন করেন বিনা বুঝে তারা কি ঘরবাড়ি তৈরী করছে ? আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতারা তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন, ভুমি জরিপ-মাফ করে দিয়েছেন।

উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভুমি) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন জানান, মৃত মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলীর নামে বরাদ্দকৃত খাস ভুমির দলিল বাতিলের কোন তথ্য তার অফিসে নেই। এছাড়া এ ভুমি অন্য কাউকে বরাদ্দ দেয়ারও রেকর্ড নেই। কোন ধনাঢ্য ব্যক্তিকে খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার নিয়ম নেই। খোজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা মিললে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করা হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *