জুন ১২, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » কুলাউড়ায় ঈদবাজারে কেনাকাটার ধুম লেগেছে: উপচেপড়া ভীড়

কুলাউড়ায় ঈদবাজারে কেনাকাটার ধুম লেগেছে: উপচেপড়া ভীড়

“অপরাধী, ইস্তা, পদ্মাবতী, কাতান ড্রেস এবং সানজোলি, রাংগরেজ ও কাতান বেনারশী শাড়ীর দাপট এবারের ঈদবাজারে”

আবদুল আহাদ, কুলাউড়া, ১২ জুন :: 

আজ রমজানের ২৬তম দিবস। আর ক’দিন পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর এ উৎসবের সঙ্গে নতুন পোশাকের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। কুলাউড়ার বিপণিবিতান, ফ্যাশন হাউস ও মার্কেটগুলোতে পছন্দের পণ্য কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। কোনো কোনো মার্কেটে ঢিমেতালে বেচাকেনা চললেও কোনো কোনোটিতে নেই ফাঁকফোকড়।

মঙ্গলবার রমজানের ২৬টি রোজা শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে যত সময় ঘনিয়ে আসছে মার্কেটগুলোতে ঈদের কেনাকাটায় ধুম ততই বাড়ছে। তবে গতবছর ভয়াবহ বন্যার কারনে হাওর তীরবর্তী এ উপজেলায় ঈদের উৎসবে ভাটা পড়েছিল। এবার ২০ রমযানের পরই সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে কেনাকাটা। দম ফেলার ফুসরত নেই দোকানীদের। অনেক দোকানী ক্রেতা আকৃষ্ট করার জন্য নিজের দোকানে ইফতারের সু ব্যবস্থাও রেখেছেন। সামনের ৩-৪ দিন বিক্রি আরও বাড়বে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলার শহরের মার্কেট ছাড়াও গ্রামীণ বাজারগুলোতে সকল ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে একটি উৎসবীয় আমেজ বিরাজ করছে। এছাড়া সময় মতো কাষ্টমারের পণ্য ডেলিভারি দিতে দর্জি (টেইলার্স) দোকানের কারিগরদের দম ফেলার সময় নেই। ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টাই তারা কাজ করছেন। নাওয়া-খাওয়া-ঘুম সবই সারছেন কারখানাতেই।

সরেজমিন কুলাউড়া শহরের বৃহৎ বিপনী মার্কেট মিলিপ্লাজা, আরএমসিটি, বশিরপ্লাজা, এমআরএইচ সিটি, এমআরকে শপিং সিটি, আজিজ রওশন কমপ্লেক্সসহ ছোট-বড় সব মার্কেটই এখন ক্রেতাদের ভীড়ে টুইটুম্বুর। এসব মার্কেটগুলোতে পা ফেলার কোন সুযোগ নেই। বিশেষ মহিলা ও শিশুদের পণ্যের চাহিদা বেশি।

মিলিপ্লাজাসহ শহরের কয়েকটি দোকানীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, গতবছর অকাল বন্যার কারনে ব্যবসাপাতী খুব মান্দা ছিল। গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার চেষ্টা করছি। এবার মেয়েদের অপরাধী, ইস্তা, পদ্মাবতী, মনময়ূরি, ইত্তানা, জুবেদা, কাতান ড্রেস, পার্টি ফরগ ও জরজেট এর চাহিদা বেশি। অপরদিকে কাতান বেনারশী, চায়না বুটিকস, সাউথ কাতান, সানজোলি, রাজগুরু ও রাংগরেজ নামীয় শাড়ীর চাহিদা বেশি বলে জানান দোকানীরা।

ড্রেস কিনতে আসা শামীমা বেগম, আনোয়ারা বেগম, ফাহমিদা আক্তার মিহি, নাজমিন নাজু জানান, মার্কেটে চাহিদানুযায়ী কাপড় পাওয়া যাচ্ছে টিকই, কিন্তু দোকানীরা দাম ছাড়ছেননা। তাদের বক্তব্য, বেশি দাম দিয়ে কাপড়-চোপড় কিনতে হচ্ছে।

শাড়ী কিনতে আসা রিপা বেগম, সুলতান বেগম, নিলুফা ইয়াছমিন জানান, অন্য বছরের তুলানায় এবার কাপড়ের দাম খুব বেশি। এখনও কিনতে পারিনি। ছেলে-মেয়েদের জন্য টুকটাক কেনাকাটা করেছি। দেখাযাক শেষদিকে একটু দাম কমাতে পারেন দোকানীরা। তখন না হয় একটা কিছু কিনবো।#