- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

মনু নদীর ভাঙন- উজানে কিছুটা পানি কমতে শুরু করেছে

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৭ জুন ::

বাবারে অত পানি কইতাকি আইছে? বাড়িঘর ছাড়িয়া আমরা এখন কই যাইতাম? অত মেঘও দিলো না, তে পানি কইতাকি আয়? ইতা ইন্ডিয়ার পানি বুলে হাছানি? জীবনে অত পানি দেখছি না। আর ইলা কষ্ট পাইছি না। এভাবেই বন্যার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেন কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাগৃহাল মোকামটিলার বাসিন্দা রহমান (৫০), রবই (৪০), পঞ্চনন বিবি (৫৫), গপেন্দ্র মালাকার (৬৫)।

শুধু টিলাগাঁও ইউনিয়ন নয় কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর, হাজিপুর, পৃথিমপাশা, রাউৎগাও ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের মানুষের। সরেজমিন ১৭ জুন রোববার এসব ইউনিয়নে গেলে এসব প্রশ্ন করেন প্রত্যেক ইউনিয়নের আবাল বৃদ্ধবনিতার।

তবে স্বস্তির কথা, কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরে মনু নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আজ রোববার বিভিন্ন সড়ক ও বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আটকা পড়া পানিবন্দী মানুষজনকে উদ্ধারে শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ তৎপরতা অব্যাহত আছে। শরীফপুর-শমশেরনগর-চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়ক দেবে ভেঙে পড়া কালভার্টটি আরও কিছুটা দেবে যাওয়ায় শরীফপুরের লোকজনের চলাচলের জন্য সড়ক জনপথ বিভাগ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া কুলাউড়া বাকি ইউনিয়ন ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক, টেংরা ও মনসুর নগর ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৯৪টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২৮ কিলোমিটার কাঁচাপাকা রাস্তাসহ ৩৬০টির অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২ হাজার ৯৭৮ পরিবারের ১৪ হাজার ৬শ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৯শ হেক্টর আউশ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ০৭টি ইউনিয়নে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, বিভিন্ন উচুস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৩২টি স্থানে ৭৮০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়নের মনু সেতু-সংলগ্ন এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে কাছাকাছি একটি বড় কালভার্ট দেবে যায়। এ কারণে ১৩ জুন থেকে এ ইউনিয়নের লোকজনের যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। শনিবার কালভার্টটি আরও একটু দেবে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। রোববার ১৭জুন সকালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা ও সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহাব উদ্দীন ভেঙে পড়া কালভার্ট পরিদর্শণ করেন। সেখানে একটি বেইলি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, কামারচাক, টেংরা ও মনসুর নগর ইউনিয়নের প্রায় ৮৫টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

১৩ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ৫ দিনে কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর ভাঙনে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১৬ জুন কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ হিঙ্গাজিয়া গ্রামের ফজলুল হক (২৫), ১৩ জুন টিলাগাঁও ইউনিয়নের লংলা চা বাগানের শ্রমিক প্রদীপ মালাহা (২৮) ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের হাদিকরাইয়া গ্রামের মিসবাহ মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া (১১) পানিতে ডুবে মারা যান।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ. মো. গোলাম রাব্বি জানান, ত্রাণ হিসেবে নতুন কোন বরাদ্ধ আসেনি। ইতোমধ্যে পাওয়া ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। নদী ভাঙনে যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে সে তুলনায় প্রাপ্ত বরাদ্ধ কম। চাহিদার কথা জানানো হয়েছে। বরাদ্ধ আসার ব্যাপারে আশাবাদি। তবে যোগাযোগ ও ত্রাণ কার্যক্রমের সুবিধার্থে শরীফপুর ২টি,মম হাজিপুর ও টিলাগাঁও ইউনিয়নে একটি করে নৌকা প্রদান করা হয়েছে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *