জুন ১৮, ২০১৮
Home » জাতীয় » মৌলভীবাজারে বন্যায় ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ১১

মৌলভীবাজারে বন্যায় ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ১১

এইবেলা, মৌলভীবাজার, ১৮ জুন :: মৌলভীবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অপরিবর্তিত রয়েছে। শহরের কোথাও কোথাও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার কারণে মৌলভীবাজার শহর হয়ে পড়েছে অনেকটা স্থবির।

এদিকে গত পাঁচ দিনের টানা বন্যায় ৪ টি উপজেলার ৩০ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভার ৪০ হাজার ২শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণ করেছেন ১১ জন। নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ৯ শত ৬০ হেক্টর আউশ ধান। এ বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২ লাখ লোক। এই তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, চলমান বন্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯৬জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় এপর্যন্ত ৭জনের মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৫০টি।

জেলায় স্মরণ কালের মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ২৫ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ হাজার ৩শ ৯০ জনকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার সদরে খোলা হয়েছে ৬ টি। এই আশ্রয় কেন্দ্র গুলোর মধ্যে আছে সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, পিটিআই।

এছাড়াও বেসরকারি উদ্যোগে আরো কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে খোলা হয়েছে যেখানে বিএনসিসি, স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জানান সেনা বাহিনীর ৪ টি টিম বন্যা দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। তারা পানি বন্দিদের উদ্ধারে কাজে ১৮টি স্পীডবোট ব্যবহার করছে।

আরো সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলায় নগদ ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বিতরণের অপেক্ষায় আছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৭শ ৪৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ আছে ৬ শত ৬৮ টন চাল। ৩ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট আশ্বাস মিলেছে। শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিজিবির টহল দিচ্ছে।

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ৭৪ টি মেডিকেল টিম বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে বলেও জানা যায়।

এদিকে সেনাবাহিনীর ২১ ইঞ্জিনিয়ার্স এর একটি ইউনিট, জেলা পুলিশ, ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, স্বাস্থ্যবিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, বিএনসিসি, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও বন্যাপ্লাবিত এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক কাজে নিয়োজিত আছে।

দুর্গত এলাকা থেকে জরুরী যোগাযোগের জন্য একটি (০১৭২৪৬৮৫৭৮৪) হটলাইন খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিত এই জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসক বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঠিক রাখার জন্য পুলিশ, বিজিবি কাজ করছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি কমে বর্তমানে বিপদসীমার ১.৩৫ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।