জুন ১৯, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » কুলাউড়ায় মনু নদীতে কমছে পানি, বাড়ছে হাকালুকিতে : ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

কুলাউড়ায় মনু নদীতে কমছে পানি, বাড়ছে হাকালুকিতে : ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

আবদুল আহাদ, কুলাউড়া, ১৯ জুন :: কুলাউড়ার উপজেলায় মনু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নদীর সৃষ্ট ভাঙন দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া পানি হাকালুকিতে গিয়ে হাওরাঞ্চলের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হাওরাঞ্চলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে হাকালুকি হাওর তীরের ভুকশিমইল ইউনিয়নের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যা কবলিত।

নদী ভাঙনে বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারীভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই দূর্গত মানুষের হাতে হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে চালসহ শুকনো খাবার। রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ক্লাব সংগঠন পানিবন্দি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছে।

এদিকে মনু নদীর ভাঙন এলাকায় দুর্গত মানুষের সহযোগিতা করতে গত ১৫ জুন রাতে সেনাবাহিনীর একটি টিম কুলাউড়ায় আসে। মঙ্গলবার ১৯ জুন বিকালে ফিরে গেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (১৯ জুন) দুপুরে কুলাউড়ার টিলাগাঁও, হাজিপুর এবং শরিফপুর ইউনিয়নে বন্যা দূর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সচিব মো. জাহাঙ্গির আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো, গোলাম রাব্বী, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ইসতিয়াক হাসান, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) শিমুল আলী প্রমুখ। এসময় স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন উপস্থিত ছিলেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৯৪টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাঁচাপাকা রাস্তাসহ ৩শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

২ হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ৯শ হেক্টর আউশধান বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ৫টি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উচুস্থানে। তবে গতকাল অনেকটা পানি কমে যাবার ফলে যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়নি তারা বাড়িতে ফিরে গেছেন।

কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু, শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আলী ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, তাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তাঘাট লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিধ্বস্থ হয়েছে ঘরবাড়ি। মানুষ যে পরিমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সে তুলনায় সরকারী ত্রাণ বেশি বলার সুযোগ নেই। তবে মানুষজন ত্রাণ পাচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, মঙ্গলবার শরীফপুর, হাজিপুর ও টিলাগাঁও ইউনিয়নে আবারও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোতে আরও ১শ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ইতমধ্যে ১৫শ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ হয়েছে এবং মঙ্গলবার বিকালে ১০টি আইটেমের আরও ৭শ প্যাকেট শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। সম্পুর্ণ বাড়িঘর বিধ্বস্থ ও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থরা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ঘর বানানোর জন্য বরাদ্ধ পাবেন। সেনাবাহিনী তাদের কাজ শেষ করে বিদায় নিয়েছে।#