- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

বড়লেখায় অবৈধ দাবীতে বৈদ্যুতিক মিটার খুলে নেয়ার পর উৎকোচে পূনঃস্থাপন

আবদুর রব, বড়লেখা, ৩০ জুন ::

বড়লেখায় অবৈধ সংযোগ দাবী করে এক গ্রাহকের বৈদ্যুতিক মিটার চুপিসারে খুলে নেয়ার চার দিন পর উৎকোচে পুনঃস্থাপন করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয়ের লাইনম্যান, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও এক কর্তা ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অবৈধভাবে বিশ বছর ধরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার কারণে মিটার খুলে নেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের এমন প্রচারণায় গ্রাহকের সম্মান ক্ষুন্ন, তীব্র গরমে পরিবারের সদস্যদের অমানবিক শাস্তি প্রদান, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন উপজেলার গ্রামতলার লন্ডন প্রবাসী আপ্তাব আলীর বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটারটি বাড়ির কাউকে না জানিয়ে খুলে নেয় পল্লী বিদ্যুতের দু‘ব্যক্তি। গ্রাহকের বড়ভাই মঈন উদ্দিন এসময় বাড়ির পাশের মাঠে কাজে ছিলেন। স্ত্রী আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দেখেন পল্লী বিদ্যুতের দু‘ব্যক্তি তাদের বাড়ি থেকে একটি মিটার বোর্ডসহ নিয়ে মোটরসাইকেলে চলে যাচ্ছে। তিনি (গৃহকত্রী) বাড়ি গিয়ে দেখেন তাদের মিটারটি ওরা নিয়ে গেছে। এতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তীব্র গরম আর বিদ্যুৎহীতায় চার দিন ধরে চরম ভূগান্তি পোহাতে হয় পরিবারের সদস্যদের। তা ছাড়া গুরুতর কারণে মিটার খুলে নেয়া হয়েছে তা সারা গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর টাকার বিনিময়ে মিটারটি বসিয়ে দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বাড়ির মালিক মঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে।

অতঃপর ২৪ জুন পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান রেজাউল করিম বাড়িতে গিয়ে মিটারটি পূণঃসংযোগ দিতে বিশ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যতায় অফিসিয়ালি মিটারটি আনতে মামলাসহ নানা ঝক্কি-ঝামেলায় ৬০/৭০ গুনতে হবে। মামলা, জরিমানার পরিমাণ, গরমের কষ্ট আর সন্তানদের লেখাপড়ার কথা ভেবে মঈন উদ্দিন অর্ধেক টাকা দিতে সম্মত হয়ে কাকুতি-মিনতি করেন। লাইনম্যান বলেন বিষয়টি এজিএম কম স্যার ও ইঞ্জিনিয়ার স্যার জানেন। তাদেরকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হবে। বকেয়া বিল ও সংযোগ ফি দেয়ার পর যে টাকা থাকবে তাতে তার পুষাবে না। পরবর্তীতে কি ভেবে লাইনম্যান রেজাউল করিম রাজি হয়ে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ আর নগদ তিন হাজার টাকা নেন। অবশেষে ঐ দিন বিকেলে মিটারটি লাগিয়ে পূনঃস্থাপন ও বিদ্যুৎ লাইন পুনঃসংযোগ দিয়ে আরো পাঁচ হাজার টাকা দেন।

লন্ডন প্রবাসি আপ্তাব আলী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানান, পিডিবির সময়কার বিদ্যুত লাইনে পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি, তারসহ মিটার সংযোগ দিয়েছে। ২০ বছর পর তাদের লোকজন অবৈধভাবে মিটার খুলে নিলে আমার সামাজিক মান সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তার পরিবারকে হয়রানি ও অমানবিক শাস্তি প্রদান করেছে। বিষয়টি সংস্থার উচ্চ পর্যায়ে জানিয়ে আদালতে মামলা করতে তিনি তার ভাই মঈন উদ্দিনকে বলে দিয়েছেন।

মিটারটি খুলে নেয়ার ব্যাপারে বড়লেখা পল্লী বিদ্যুতের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ দাস ও লাইনম্যান রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বারবার রিং হওয়া স্বত্ত্বেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বড়লেখা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি অবগত হওয়ার পরই খুলে আনা মিটারটি পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেন। গ্রাহক হয়রানী ও উৎকোচ গ্রহনের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *