- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয়, স্লাইডার

রাজনগরের পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়- শ্রেণিকক্ষ সংকটে শহীদ মিনারে পাঠদান

এইবেলা, রাজনগর, ০৪ জুলাই ::

বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রতিনিয়ত রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, ভূগল, ইতিহাসসহ বিভিন্ন ক্লাস শহীদ মিনারে নিতে হয়। বৃষ্টির সময় সম্ভব হলে বারান্দাতে ক্লাস নেয়া হয় অন্যথায় বন্ধ থাকে- মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘীর হাওরের পূর্বপাশে অবস্থিত পাঁচগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন চিত্র। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকটে পাঠদান চলছে বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

জানা যায়, হাওর পাড়ের অবহেলিত মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. খলিকুজ্জামান ১৯৮৫ সালে তার নিজ এলাকায় মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন পাঁচগাও উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষার মান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫শ শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছে মাত্র ৮ টি শ্রেণীকক্ষ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও গাছ তলায়। এই সমস্যা বিদ্যালয়টিতে লেগে আছে দীর্ঘদিন থেকে। এদিকে বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষ সংকটের প্রভাব পড়ছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর।

সরজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারে বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক। শহীদ মিনারে কেন ক্লাস নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রতিনিয়ত রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, ভূগল, ইতিহাসসহ বিভিন্ন ক্লাস শহীদ মিনারে নিতে হয়। বৃষ্টির সময় সম্ভব হলে বারান্দাতে ক্লাস নেয়া হয় অন্যথায় বন্ধ থাকে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বাইরে ক্লাস নেয়াতে আমরা হাতে কলমে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শ্রেণিকক্ষে হাতে কলমে যে শিক্ষা নিতে পারি বাইরে ক্লাস নেয়ার ফলে তা সম্ভব হয় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ছাদেকুল আমিন ভূইয়া জানান, ৮ টি শ্রেণিকক্ষ দিয়ে ১৫শ জন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। প্রতি ঘন্টায় দুই একটি ক্লাস মাঠে শহীদ মিনার ও গাছতলায় নিতে হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের বিদ্যালয়টি প্রয়াত সমাজ কল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী পরিদর্শন করেন এবং নতুন ভবন নিমার্ণের জন্য সার্ভে করে নিয়ে যান কিন্তু উনার মৃত্যুর পর আজও আমরা ভবনটি পাইনি। আমাদের বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এমপিভুক্ত। তবে ২০০০ সাল থেকে আমাদের বিদ্যালয়ে সরকারি কোন বরাদ্ধ আসেনি। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি, বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান।

স্কুল কমিটির সভাপতি আবুল কামাল আজাদ জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। সরকারিভাবে ভবনের আশ্বাস পেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই আমাদের বিদ্যালয় তহবিল থেকে একটি ভবন নিমার্ণ করছি।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *