জুলাই ১৩, ২০১৮
Home » জাতীয় » সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : সেলিম-জুবায়ের প্রার্থীতা নিয়ে বেকায়দায় ২০ দলীয় জোট

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : সেলিম-জুবায়ের প্রার্থীতা নিয়ে বেকায়দায় ২০ দলীয় জোট

এইবেলা,  সিলেট, ১৩ জুলাই ::

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিন প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় ২০ দলীয় জোট। জোটের ঘোষণা অনুযায়ী আরিফুল হক চৌধুরী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও জামায়াতের সিলেট মহানগর আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

তারা বলছেন, এই দুই প্রার্থীকে সুবিধা দিয়ে ডামি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রেখেছে সরকার দলীয় প্রার্থী। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বদরুজ্জামান সেলিম ও জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আর এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলছেন, নিজের ঘর গোছাতে না পেরে আবোল তাবোল বলছে বিএনপি নেতারা। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে দফায় দফায় বৈঠক শেষে ২৭ জুন আরিফুল হক চৌধুরীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সিদ্ধান্তের পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরের আমীর ও কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। যদিও বুধবার বিকালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বদরুজ্জামান সেলিমকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সম্পাদক আলী আহমদ অভিযোগ করে  জানান, এটা নতুন কিছু নয়। সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের কথা নগরবাসীর জানা আছে। তিনি বলেন, জামায়াতের অনেক নেতার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কও রয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর। এবারের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত দেখে সেই সম্পর্ককেই কাজে লাগিয়েছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, সারা দেশে জামায়াত নেতাকর্মীরা বাসায় ঘুমাতে পারেন না কিন্তু সিলেটের চিত্র ভিন্ন। নির্বাচনকালীন সময়েও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মীর বাসায় তল্লাশির খবর পাইনি। বীরদর্পে জামায়াত নেতারা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে গণসংযোগের ছবিও আমরা গণমাধ্যমে দেখছি।

আর বদরুজ্জামান সেলিম সম্পর্কে এই নেতা বলেন, তাকে সরকারি দলের প্রার্থী টোপ দিয়েছে আর সেই টোপ স্বাচ্ছন্দে গিলেছে সে। তিনি আরও বলেন ‘তারা দু’জনই সরকারদলীয় প্রার্থীর ডামি হিসেবে নির্বাচনে আছে’।

তবে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘আমার জানামতে ২০ দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তাই আমরা এখনও প্রত্যাশা করছি আমাদের সমর্থন দেয়া হবে’।

সরকারদলীয় প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জুবায়ের বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, অন্য কিছু নয়’।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের বিষয়ে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, প্রশ্নই উঠে না। ৩৯ বছর রাজনৈতিক জীবনে সততার পরিচয় দিয়েছি। প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থীদের সম্পদের পাহাড় থাকলেও আমার হলফনামায় যা আছে তা আমার সততার স্বাক্ষর। সুতরাং এসব যারা বলছে তারা আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন ‘নিজেদের অন্তর্কোন্দলে ঘর ভাঙার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপাতে চাইছে। মূলত নৌকার জয় নিশ্চিত দেখে বিএনপি নেতারা আবোল-তাবোল বলছে।’#