- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, সুনামগঞ্জ, স্লাইডার

দিরাইয়ে শিকলবন্দি একজন রুবী

এইবেলা, দিরাই, ১৫ জুলাই ::

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বাবার বাড়িতে শিকলে বন্দি জীবনযাপন করছেন এক নারী। তিনি উপজেলার জয়পুর গ্রামের বকুল তালুকদারের মেয়ে রুবী তালুকদার।

২০০২ সালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের রতীন্দ্র মজুমদারের ছেলে রঞ্জিত মজুমদারের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর কিছুদিন স্বামীর ঘরে থাকলেও গর্ভাবস্থায় বাবার বাড়ি চলে আসেন রুবী।

এরপর রুবীর কোলে আসে এক পুত্র সন্তান। সে বর্তমানে দশম শ্রেণির ছাত্র। নানার বাড়ি থেকেই লেখাপড়া করছে। কিন্তু স্বামী ও এক পুত্র সন্তানসহ পরিবার-পরিজন সব থাকলেও কেউ নেই হতাভাগা রুবীর পাশে। তাকে পাগল বলে লোহার শিকল দিয়ে এক নির্জন ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

 লোহার শিকলে বন্দি রুবী তালুকদার জানান, মরে যাওয়া মানতে পারি, কিন্তু শিকলে বন্দি জীবন আর সহ্য করতে পারছি না, আমার বাবা-মা, ভাইবোনদেরকে কষ্ট দিতে চাই না, স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চাই, আমার ছেলের ভবিষ্যত সুন্দর হোক আমি চাই, স্বামীর সংসারে আমাকে যেভাবে রাখে, সেভাবেই বাকি জীবন কাটাতে চাই। আপনারা আমাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয়রা জানায়, পরিবারের বড় হিসেবে খুব আদরের মেয়েছিল রুবী। চালচলনে ও লেখাপড়ায় মেধাবী ছিল সে। কিন্তু শিকলে বন্দি করে রাখায় তার জীবন বিষিয়ে উঠছে। এখন তার আর্তনাদ আর কেউ শুনে না। সুস্থ ও সুন্দরভাবে কথা বললেও কোনো গুরুত্ব নেই রুবীর। পাগল বলে তার কথা উপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে মেয়ের সুখের জন্য এবং সুস্থতার জন্য আপ্রান চেষ্ঠা করেছেন বলে জানান বাবা বকুল তালুকদার।

তারা জানায়, ব্রাকের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাধে এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে রুবীর। রুবী খুব মেধাবী ও ভাল মেয়ে, বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় সে সুন্দরভাবে চলাফেরা ও কথা বলতে দেখেছি। তাকে কেন এভাবে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।

বাবা বকুল তালুকদার জানান, তার সুখের জন্য অনেক চেষ্টা করছি। এমনিতে ভালো কথাই কয়, মাঝে মধ্যে কারও কথা শুনে না, মেন্টালের মতো আচরণ করে, বাড়ি থেকে একা বেড় হয়ে যায়, নিজের বিপদের কথা চিন্তা করে না। তার ভালোর জন্যে এবং আত্মসম্মানের ভয়ে তাকে এভাবে রাখা হয়েছে। অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *