জুলাই ২০, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের মূলহোতা গ্রেফতার

ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের মূলহোতা গ্রেফতার

এইবেলা, ছাতক, ২০ জুলাই ::

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের মূলহোতা রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করে।

সিমেন্ট ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া পৌরসভার ফকিরটিলা এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে।

জালিয়াতির মাধ্যমে সিমেন্ট উত্তোলন ও ব্যাংকের ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রুবেলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি প্রতারণার মামলা করা হয়।

মামলায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে দুই কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপক প্রশাসনের বিভাগীয় প্রধান রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।

ওই মামলা দুটির একটিতে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির ডিলার রুবেল মিয়া ছাড়াও রূপালী ব্যাংক ঢাকার কাপ্তানবাজার শাখার সাবেক ম্যানেজার মাসুদুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা বিকাশ দত্তকে আসামি করা হয়।

ছাতক সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি’র অনুমোদিত সিমেন্ট ডিলার হিসেবে সাত বছর ধরে ব্যবসা করছেন রুবেল মিয়া।

মেসার্স সম্পা অ্যান্ড সন্স এবং হানিফ এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রুবেল মিয়া ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত পূবালী ব্যাংক ছাতক শাখার কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে আটটি ভুয়া ক্রেডিট ভাউচারের মাধ্যমে কোম্পানি সংশ্নিষ্ট শাখায় জমা দেন।

এ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ওই ক্রেডিট ভাউচারের বিপরীতে রুবেল মিয়া ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সিমেন্ট উত্তোলন করেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করা হলে হিসাবের গরমিল ধরা পড়ে।

এ ছাড়া সিমেন্ট ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া রাজধানী ঢাকার রূপালী ব্যাংক কাপ্তানবাজার শাখার সাবেক ম্যানেজার মাসুদুর রহমান ও কর্মকর্তা বিকাশ দত্তের যোগসাজশে দুই কোটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে এক কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সিমেন্ট উত্তোলন করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ব্যাংক গ্যারান্টি ও ক্রেডিট ভাউচার জালিয়াতির খবর প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত সিমেন্ট ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা আত্মসাতের দায় স্বীকার করে ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া দুই কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য রুবেল মিয়া তিনটি ব্যাংকের নিজ অ্যাকাউন্টের ২৭টি চেক স্বাক্ষর করে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।

পরে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট শাখায় সাত লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দেয়ায় সিমেন্ট ব্যবসায়ী রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে এ জালিয়াতির ঘটনায় থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।

এ জালিয়াতির ব্যাপারে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়।

গত ৩ জানুয়ারি ৩৭৭তম সিসিসিএল এন্টারপ্রাইজ বোর্ডসভায় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। ওই সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব ও বিসিআইসি প্রধান কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

পরে ওই গঠিত তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জালিয়াতির বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হলে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি অপারেশন কাজী গোলাম মোস্তাফা যুগান্তরকে জানান, রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে নানা জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।#