- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ায় চা বাগান কেন্দ্রিক চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

এইবেলা, কুলাউড়া, ২০ জুলাইঃঃ সারাদেশের ন্যায় কুলাউড়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড় ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। শহরের মাদক ব্যবসায়ীরা গোপনে গা ঢাকা দিলেও বিভিন্ন চা বাগানে এখনও মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে।

তবে চা বাগান ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের বিস্তার রোধ, মাদক ব্যবসায়ীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ নানাভাবে পুলিশ ব্যাপক তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।

কুলাউড়া থানা পুলিশের তথ্য মতে, কুলাউড়া থানা পুলিশ, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত মে ও জুন মাসে অভিযান চালিয়ে ৩শ ৩২ পিছ ইয়াবা, ৯শ গ্রাম গাঁজা, ২০ বোতল অফিসার চয়েজ মদ, ৫ লিটার দেশী মদ জব্দ করেছে। এসব ঘটনায় ২১ টি মাদক মামলা করা হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে।

এদিকে গত ১০ জুলাই ক্লিভডন, জয়চন্ডীর কালিবাড়িসহ উপজেলার ৮টি মাদক স্পটে অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকজন। অভিযানে ক্লিভডন চা-বাগানের ৭নং লাইন থেকে সাবলু চৌহান নামক এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়। এসময় তার ঘর থেকে প্রায় ১০০ লিটার চোলাইমদ এবং মদ তৈরীর আরও ৫ ড্রাম সরঞ্জাম জব্ধ করা হয়। ওইদিন ৩টি মামলা দায়ের করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকজন।

অপরদিকে বুধবার ১১ জুলাই রাতে এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গাজীপুর বাগানের বালুছড়া লাইনে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাখন রায় (৩৬) ও স্বপন গোয়ালা (৩৮) নামের দু’জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে কোর্টে সোপর্দ করা হয়ছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, কুলাউড়ার বিভিন্ন চা বাগানে দেশীয় মদের পাশাপাশি বিদেশী মদ, গাঁজার বেচাকেনা চলছে। গাজিপুর চা বাগানের রামবিলাস নানাকা মেম্বারের ঘরে বসে মাদক সেবিদের আসর। কালিটি চা বাগানে নরসামলু রাজভরের ঘরেও দিবারাত্রি মদের আসর বসে।

এছাড়া উপজেলার গাজীপুর, মেরিনা, বিজয়া, বরমচাল, ক্লিভডন, দিলদারপুরসহ প্রায় প্রতিটি চা-বাগানের নির্দিষ্ট স্পটে প্রকাশ্যে মদ কেনা-বেচা হয়। চোলাই মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন রকমের মাদক দ্রব্য হাতের নাগালে পাওয়া যায়। যার ফলে প্রতিদিন সন্ধ্যা পরে কুলাউড়া-জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাদক সেবিরা ছুটে যান বাগানের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে।

মাদক সেবনের পাশাপাশি মধ্যরাত পর্যন্ত চলে জোয়ার আসর। ক্লিভডন চা-বাগানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে মাদক সেবন চলে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানায়, ক্লিভডনের ঝুনকি জালাইর লাম্বা টিলা, পাট্টার সামনে, দিলদারপুরের পাথর টিলা, বিজয়ার ১০ নম্বর লাইন, কালিটি, রাঙ্গিছড়া চা বাগানসহ বিভিন্ন স্পটে চলে মাদক ও জোয়ার আসর।

চা বাগানসুত্রে জানা যায়, মুলত ব্রিটিশ আমলে চা বাগানগুলোতে মদের লাইসেন্স দেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় থেকে এখন পর্যন্ত তা কার্যকর আছে। সেইসব মদের দোকানগুলো চা বাগানের লাইসেন্সধারী মাদকসেবিদের চেয়ে শহুরে মদকসেবিদের নিরাপদ আস্থানায় পরিণত হয়েছে। ফলে বেচাকেনা দ্বিগুণ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছেন। তাছাড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের হোতারা প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

গাজিপুর চা বাগানের রামবিলাস নানকা মেম্বার ও নরসামলু রাজভর আবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অপ্রপচার চালানো হচ্ছে। তারা এসবের সাথে সম্পৃক্ত নন।

ক্লিভডন চা-বাগানের শ্রমিক সভাপতি মোহন লাল জানান, মাদক বিক্রেতা-ক্রেতাদের যন্ত্রনায় আমরা অতিষ্ট। সন্ধ্যা হলেই অচেনা লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় বাগান এলাকায়। সপ্তাহের প্রতি বুধবারে প্রকাশ্যে চলে মাদক বেচা-কেনা ও জোয়ার আসর। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা অভিযান করবে বললেও এখনও করেনি। অভিযান করার জন্য আবারও প্রশাসনকে জানাবো।

কুলাউড়া থানার এসআই জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও জোয়ার আসর সর্ম্পকে আমাদেরকে কেউ জানায়নি। বাগান এলাকায় অভিযান করতে অনেক সময় সমস্যা হয়। নির্দিষ্ট স্পটের সন্ধ্যান পেলে আমরা অবশ্যই অভিযান করবো।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম মুসা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালমান আছে। অভিযোগ পেলে কোন ছাড় নেই।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *