- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিস: সংকেতিক চিহ্ন ছাড়া গ্রহন হয়না আবেদন!

এইবেলা, মৌলভীবাজার, ২৫ জুলাই :: মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে চলছে রমরমা ঘুষ বানিজ্য। প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ট্রাভেলস ও দালাল কর্তৃক প্রদত্ত সংকেতিক চিহ্ন ছাড়া গ্রহন হয়না আবেদন। আর ওই সংকেতিক চিহ্নেই চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। অফিসের কিছু অসাধু স্টাফ, বাহিরের দালাল এবং বিভিন্ন ট্রাভেলন্স এর যোগসাজসে চলছে এই রমরমা ঘুষ বাণিজ্য।

যার কারনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পাসপোর্ট প্রত্যাশিরা চরম হয়রানির শিকার হন। আবেদন জমা দেয়া থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে দূর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ নাগরিককে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ধনাচিড়ি গ্রামের শাহিন মিয়া, কুলাউড়া উপজেলার কাতার প্রবাসী আব্দুস শুকুর, মাহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত একাধিক আবেদনকারীদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় এ সংকেতিক চিহ্নের বিষয়ে। সাধারণ আবেদনে ৩৪৫০ এবং জরুরি আবেদনে ৬৯০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দেন। আবেদন গ্রহণকারী অফিস স্টাফ প্রথমেই ব্যাংকে জমা দেয়া টাকার রশিদের পেছন দেখেন এবং উনার মনমতো হলে (সংকোতিক চিহ্ন থাকলে) জমা নেন।

সংকেতিক চিহ্ন না থাকলে আবেদনকারীকে দালাল অথবা ট্রাভেলসের মাধ্যমে জমা দিতে পরামর্শ দেন। আবার কাউকে বুজাতে না পারলে অফিসের দ্বিতীয় স্যার ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) প্রবীর বড়ুয়ার কাছে পাটিয়ে দেন। তিনিও টাকার রশিদের পেছন দিক দেখে আবেদন ফরমের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আবেদনকারীদের বিদায় করেন।

এতে বাধ্য হয়ে অসহায় গ্রামের সহজ সরল সাধারণ মানুষ কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে দালাল অথবা ট্রাভেলসের মাধ্যমে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। সেক্ষেত্রে সাধারণ পাসপোর্টে সাড়ে ৫হাজার থেকে ৬ হাজার এবং জরুরি পাসপোর্টের জন্য সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় আবেদনকারীকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেয়ার জন্য ফরম হাতে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশিরা। এসময় দেখা যায় হাতে ঘোনা দু-একটি বাদে প্রায় সবকটি আবেদন ফরমের সাথে সংযুক্ত টাকার রশিদের পিছনে বিভিন্ন সংকেতিক চিহ্ন দেয়া আছে।

এদিকে আবেদন গ্রহণকারী কর্মকর্তা প্রথমে ফরমের সাথে যুক্ত থাকা টাকার রশিদের পেছন দেখেন সেখানে যদি দালাল অথবা ট্রাভেলস এর দেয়া ঘ+জ, জ+ঐ, এল+ও, এন+আরসহ বিভিন্ন সংকেত দেখতে পান তাহলে জমা নেন। অন্যদিকে যে সকল আবেদনকারী দালাল অথবা ট্রাভেলস ছাড়া নিজে নিজে আবেদন জমা দিতে চান বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের তৈরি করা দালাল অথবা ট্রাভেলস এর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাভেলসের মালিক জানান, আবেদনকারীরা পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে আমাদের দারস্থ হন। আমরা আবার নতুনভাবে আবেদন ফরম পূরন করি এবং তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫’শ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেই। এর মধ্য থেকে ৩৪৫০ টাকা ব্যাংকে, ১০৫০ টাকা পাসপোর্ট অফিসে এবং পুলিশি তদন্তের জন্য ৫০০-৮০০ টাকা দিতে হয়। আমরা ফরম পূরন করা সহ বিভিন্ন কাজ করে পারিশ্রমিক বাবত কমিবেশি ৫০০টাকা পাই। ব্যাংকে জমা দেয়া টাকার রশিদের পেঁছনে বিভিন্ন ট্রাভেলস এর ভিন্ন ধরনের সংকেতিক চিহ্ন দেয়া থাকে। এই সাংকেতিক চিহ্ন দিয়ে কি বুঝায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সমস্থ সাংকেতিক চিহ্ন মানে পাসপোর্ট অফিসে নিশ্চিত ১০৫০ জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক শামীম আহমদ বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি তাই সংকেতিক চিহ্ন’র বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *