আগস্ট ২, ২০১৮
Home » ব্রেকিং নিউজ » জুড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপুর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জুড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপুর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এইবেলা, বড়লেখা, ০২ আগষ্ট ::  জুড়ী উপজেলার উত্তর সাগরনাল গ্রামের সাগরনাল সিনিয়র মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রীকে (১৬) জোরপুর্বক ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আব্দুস সোবহান কুটি মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া (২২)। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীটি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে বিয়ের প্রলোভন দেখায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে জামাল ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। গত ১৯ জুলাই মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মাদ্রাসা ধর্ষিতার পুত্র সন্তানের জন্ম হলে ডেলিভারীর ৩/৪ ঘন্টা পর শিশুটি মারা যায়।

এদিকে ধর্ষিতার মা থানা পুলিশ, স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে অবশেষে জামাল উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ১৭ জুলাই মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পিটিশন মামলা (নং-২২৮) করেছেন। বিজ্ঞ আদালত পিবিআই মৌলভীবাজারকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

মামলার এজাহার, ভিকটিম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিতার মা দীর্ঘদিন থেকে প্রভাবশালী প্রতিবেশী আব্দুস সোবাহান কুটি মিয়ার বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করেন। তার কিশোরী কন্যা ওই মাদ্রাসা ছাত্রীটি মায়ের কাজে মাঝে মাঝে সহযোগিতা করতে কুটি মিয়ার বাড়ীতে যেত। এসময় ওই সুন্দরী ছাত্রীটির উপর কুনজর পড়ে কুটি মিয়ার ছেলে জামাল মিয়ার। সুযোগ বুঝে জামাল তাকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিতে থাকে।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর কিশোরী ছাত্রীর মা কর্মস্থল কুটি মিয়ার বাড়িতে গেলে লম্পট জামাল ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে চুপি চুপি রান্নাঘরে প্রবেশ করে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে হত্যার হুমকী দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে তাকেসহ পিতা-মাতাকে হত্যার হুমকী দেয় জামাল। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জামাল তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়ে পড়লে জামালকে বিয়ের চাপ দিলে জামাল গড়িমসি বরায় সে তার মায়ের নিকট ঘটনা ফাঁস করে দেয়। পরবর্তীতে মা বিষয়টি জামালের পিতা-মাতাকে জানালে তারাও ছাত্রীটিকে বউ করে নেয়ার আশ^াস দেন। কিন্তু এক পর্যায়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাইলে সন্দেহ হয়। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানসহ সমাজপতিদের কাছে ধর্না দিলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় নেন।

সাগরনাল সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খলকুর রহমান জানান, হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্রীর সাথে অপকর্মকারী এলাকার প্রভাবশালী হাজ¦ী আব্দুস সোবাহান কুটি মিয়ার পুত্র জামাল মিয়া মেয়েটির সাথে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করছে। মেম্বার চেয়ারম্যানরা সালিশ বৈঠকেও নিষ্পত্তি করতে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার হারিছ মিয়া জানান, বিষয়টি সমাধান করতে চাইলেও ছেলে পক্ষ অস্বীকার করায় তা সম্ভব হয়নি। সাগরনাল ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম লিয়াকত বলেন, প্রথমদিকে অভিযুক্ত জামালের পিতা বিষয়টি সালিশ বৈঠকে নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী হলেও বৈঠকে বসে তিনি সময় নেন। পরে আর সালিশে আসেননি। শুনেছি এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে।