জুলাই ২০, ২০১৫
Home » নির্বাচিত » ঈদে বৃষ্টিস্নাত মাধবকুন্ডে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়

ঈদে বৃষ্টিস্নাত মাধবকুন্ডে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়

এইবেলা, বড়লেখা ২০ জুলাই :-

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপম সৃষ্টি মাধবতীর্থ মাধবকুন্ড। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের ধারা পতনের অবিরাম শব্দ সৃষ্টি করছে মায়াময় পরিবেশের। প্রকৃতি যেনো এখানে বর্ণনার উপাচার নিয়ে সামনে দাঁড়ায়। পর্যটকদের জন্য উৎকৃষ্ট পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুন্ড জলপ্রপাত।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

একসময় বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মানেই ছিলো মাধবকুন্ড। এখন দেশের ভেতরে আরো অনেক জলপ্রপাতের সন্ধান মিলেছে। তবে এখনো জলপ্রপাত অনুরাগী পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ মাধবকুন্ডই। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমান এই ঝর্ণাধারার সৌন্দর্য উপভোগে। মাধবকুন্ড যাওয়ার উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষাকাল, এই সময় ঝর্ণা পানিতে পূর্ণ থাকে। এবার ঈদ বর্ষাকালে হওয়ায় ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা ভিড় করেছেন মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে।

প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়। মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, নয়নাভিরাম দৃশ্য, নান্দনিক পিকনিক স্পট, সুবিশাল পর্বত গিরি, শ্যামল সবুজ বনরাজি বেষ্টিত ইকোপার্ক, পাহাড়ী ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কল কল শব্দÑ সবমিলিয়ে মাধবকুন্ড বেড়াতে গিয়ে পাওয়া যায় এক স্বর্গীয় আমেজ।

এই স্বর্গীয় আমেজের খুঁজেই ঈদের ছুটিতে দলে দলে পর্যটকরা ভিড় করেছেন মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হাজারো প্রাণের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত।

ঈদের দিন সকাল থেকেই চলছে অবিরাম বৃষ্টি। এই বৈরী আবহাওয়াও থামাতে পারেনি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের। সব বাধা ডিঙ্গিয়ে জলকন্যা দর্শনে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। উৎসব প্রিয় সব মানুষের গন্তব্য যেন মাধবকুন্ড জলপ্রপাত।

সরেজমিনে মাধবকুন্ড জলপ্রাতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ ও বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী ও পর্যটকের মিলনমেলায় মুখরিত। সব ধর্ম-বর্ণের পর্যটকের আগমনে আনন্দ পুরিতে পরিণত হয়ে উঠে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও আশপাশের এলাকা।

পার্কিং সমস্যায় রাস্তায় গাড়ীর দীর্ঘ লাইন। জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত যানবাহন রাখার টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়া ও ইজারাদারের প্রতিনিধি নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গিয়ে টোল আদায় রাস্তার উপর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পর্যটকদের অনেক দূরে গাড়ী রেখে পাঁয়ে হেটে যেতে হয় জলপ্রপাতের কাছে।

মাধবকুন্ডে আসা পর্যটক ব্যবসায়ী কৃষ্ণ পাল, নাট্যকর্মী মো: শহীদ-উল ইসলাম প্রিন্স, হবিগঞ্জ নওয়াপাড়া চা বাগানের সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক এএফএম ফরহাদ হোসেন, ইস্পাহানি লিঃ এর ছাতক ডিপো: ইনচার্জ মো: ফাহিম আহমেদ ও মুসফিকা আক্তার বলেন-মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত হওয়া দরকার। তবে আগের চেয়ে অনেকটা উন্নত হয়েছে মাধবকুন্ড। কিন্তু গাড়ি পার্কিং সমস্যার কারণে অনেক ভোগান্তি হয়েছে। অনেক সময়ও নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ দেড় ঘন্টা যানজটে আটকা পড়েছিলাম আমরা।

জলপ্রপাত এলাকায় কেউবা তুলছেন সেলফি, কেউবা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন নিজের মোবাইল ফোনে। অনেককে জলপ্রপাতের কুন্ডের পানিতে নেমে আনন্দে গোসল করতে দেখা গেছে।

উৎসবমুখর মানুষের পদচারণা-সবারই একটাই কথা, ঈদের ছুটি চলে যাবে ঘুরতে বের হতে পারবো না তা কি করে হয়। হোক না বৃষ্টি, হোক না তীব্র রোদ, হোক না ঝড়, তাতে কি ঘরে বসে থাকা যাবে?

চিত্ত বিনোদনের জন্য পর্যটন কর্পোরেশন নির্মাণ করেছে-হাঁতি, পেঙ্গুইন, মৎসকন্যা, বাঘ, ভালুক, বক, ঈগল পাখি, কুমির, বানর ইত্যাদির ভাষ্কর্য। এসব ভাষ্কর্য আগত শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীকে বাড়তি আনন্দ প্রদান করছে। ভাষ্কর্যগুলো কৃত্রিম হলেও প্রকৃতির নিপুন অনুকরণে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে পঞ্চইন্দ্রিয়ে সবকিছুই প্রাকৃতিক বলে মনে হবে।

ইজারাদার সুত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে শনিবার, রোববার ও সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে এ জলপ্রপাতে।

যানজটের বিষয়ে ইজারাদারদের একজন সেলিম আহমদ বলেন, ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত গাড়ী আসায় জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত যানবাহন রাখার টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়া বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে গাড়ী পার্কিং করা হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়।

বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান জানান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে।

রিপোর্ট-লিটন শরীফ