- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

বড়লেখায় হামলা ও হত্যার হুমকিতে স্বত্ত্বদখলিয় ৩০ বিঘা জমির রূপা আমন চাষ বন্ধ

এইবেলা, বড়লেখা, ১৩ আগস্ট ::

বড়লেখায় স্বত্ত্ব দখলিয় কৃষি জমির ওপর জোরপুর্বক রাস্তা নির্মাণে বাঁধা দেয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন নিরীহ ভুমি মালিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকি দিয়ে চলিত মৌসুমে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে রূপা আমন ধান রোপণ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বড়লেখায় এ বছর প্রায় ৫০০ মন ধান উৎপাদন কম হবে। স্বত্ত্ব দখলিয় ভুমি জবরদখলের চেষ্টা, ধান রোপনে বাঁধা, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির ব্যাপারে ভুমি মালিক আব্দুল মালিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।

বড়লেখা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট পিটিশন মামলা সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বর্নি নওয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইলিয়াছ আলীর ছেলে আব্দুল মালিক গংদের প্রায় ৩০ বিঘা কৃষি জমি কুটুচান্দ মিয়া, নিমার আলী, আব্দুল হামিদ গংদের বাড়ির পাশে রয়েছে। গত ২৬ জুলাই আব্দুল মালিক ট্রাক্টর নিয়ে এ ভুমি চাষাবাদ করতে গেলে কুটুচান্দ মিয়া গংরা সঙ্গবদ্ধভাবে দা ও লাঠিসুটা নিয়ে ভুমি মালিক আব্দুল মালিক ও ট্রাক্টর চালক সুহেল মিয়ার ওপর হামলা চালালে প্রতিবেশিরা তাদেরকে রক্ষা করেন। এরপর গত ২৯ জুলাই ভুমি মালিক আব্দুল মালিক স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে হত্যার উদ্দেশ্যে কুটুচান্দ মিয়া, কুতুব আলী, ফয়সল মিয়া, কয়েছ আহমদ গংরা তাকে ধাওয়া করে। রাস্তার পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে তিনি আত্মরক্ষা করেন। এসময় কুটুচান্দ মিয়া গংরা স্বত্বদখলিয় ভুমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আব্দুল মালিককে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুতে ফেলার হুমকি দেয়।

ভুমি মালিক আব্দুল মালিক জানান, কুটুচান্দ মিয়া হাকালুকি হাওরের মালাম বিলে বিগত ২০১৪ সালে নিহত সুনাম উদ্দিন হত্যা মামলার এজাহার নামীয় দুই নম্বর আসামী। তার দ্বারা যেকোন সন্ত্রাসী কাজ স্বাভাবিক ব্যাপার। তার বাড়ির পাশে আমাদের ৩০ বিঘার মত রূপা আমন ক্ষেত রয়েছে। এবার চাষাবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকি দেয়ায় ধান রোপন করতে পারিনি। তাদের হুমকি-ধমকিতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে ব্যাপক কৃষি জমি পতিত থাকতে দেখা গেছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কুটুচান্দ মিয়া, নিমার আলী, কয়েছ আহমদ গংরা জানান, তাদের কয়েক পরিবারের যাতায়াতের জন্য ৫ গ্রামের ময়মুরব্বি একটি রাস্তা নির্মাণে সম্মত হন। রাস্তার একাংশ আব্দুল মালিকের জমির পাশ দিয়ে হওয়ায় তারও কিছু জমি ছাড়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্ত তিনি সম্মত না হওয়ায় তার কৃষি জমি চাষাবাদ করতে বাঁধা দেই। তবে এখন আমাদের কোন বাঁধা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, রূপা আমন ধানের চারা রোপনের এখন আর সময় নেই। যেকোন কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনে বাঁধা দেয়া ঠিক নয়। এটি দুঃখজনক, জাতীয় ক্ষতি। এ ৩০ বিঘা জমিতে স্থানীয় জাতের রূপা আমন লাগালেও অন্তত ৫০০ মন ধান উৎপাদিত হতো।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *