আগস্ট ২৭, ২০১৮
Home » নির্বাচিত » টিভি সিরিয়ালেই হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়

টিভি সিরিয়ালেই হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়

সালাউদ্দিন, ২৭ আগস্ট ::

বিনোদনের জন্য আজকাল রয়েছে আমাদের নানা ধরনের উৎস। অবসর সময় অতিক্রম করার জন্য আমরা নানা ধরনের উপায় অবলম্বন করে থাকি। বিনোদনের জন্য কেউ কেউ বিভিন্ন পার্ক বা দর্শনীয় স্থান বেচে নেন। আবার কেউ কেউ বই পড়ে আর কেউ বা ইন্টারনেট থেকে নতুন কিছু শিখছে। তবে বর্তমানে আমাদের প্রজন্ম কিছু বিষয়ের প্রতি আকিষ্ট হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল সিরিয়াল ।

আমাদের মধ্যে টেলিভিশন বিনোদনের জন্য অন্যতম। তা থেকে অমারা অনেক ভাল কিছু শিখতে পারি। টেলিভিশনের পর্দায় অনেক ভাল ভাল পোগ্রাম শো করা হয়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ দর্শকেরা তা নিতে আগ্রহি নয়। কিছু সংখ্যক ধারাকাহিক সিরিয়ালে অমাদের দর্শকেরা বেশ আসক্ত হয়ে পড়েছে। এসব সিরিয়ালের ফলে সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে। এগুলির মধ্যে হতে শিখার মত কিছু আছে বলে মনে হয় না। ভারতীয় কিছু চ্যানেলের সিরিয়ালের প্রতি দর্শকদের মারাত্মক আক্তক্তি রয়েছে। এগুলির মধ্যে দিয়ে পারিবারিক দন্ধ কলহ বেশি মাত্রায় প্রকাশ করে দর্শকদের আকর্ষন করানো হয়। মানুষ যা শিখার প্রয়োজন নেই সেখানে তা দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে।

চ্যানেল বা সিরিয়ালের মধ্যে দিয়ে বিপুল পরিমান লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানুষ ভাল কিছু পাবার প্রবনতা দিন দিন হারাচ্ছে। কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে অমাদের বিরাট সামাজিক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। ভাল কিছু শিখার অগ্রহ আমাদের দর্শকদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ালের প্রতি অতিরিত্ত আসক্ত অবসর সময়ের সদ্য ব্যাবহারে বাধা প্রধান করে । দর্শকদের মধ্যে এই আসক্তি না হলে স্বাভাবিক ভাবেই তারা ভাল কিছুর দিকে ধাবিত হবে। অমাদের প্রয়োজন রয়েছে আমাদেও প্রজন্মকে ভাল কিছু উপহার দেয়া। ভাল কিছু শিখানো বা ভাল কিছু শিখার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। কিন্ত আমরা আমাদের বিশেষ এই মাধ্যমের অপব্যাবহারের ফলে খুব খারাপ চিন্তা ভাবনা মাথার ভিতর টুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

যথ খারাপ উপায় ঝগড়া বিবাধের তাহার বিবরণ সচক্ষে দেখার সুযোগ আমাদের হাতের নাগালেই রয়ে গেছে । ঝগড়া বিবাধ দেখে অনেকেই বেশ মজা পায় আর তার অন্যতম উৎস হল এই সিরিয়াল গুলি। কিন্তু আমরা বুঝার সক্ষমতা হারিয়েছি যে আমরা সেগুলি দেখার ফলে অমাদের বাস্তবিক জিবনে তাহার প্রভাব পড়তে সময়ের অপেক্ষা করতে হয় না। সিরিয়ালের প্রতি আসক্তির ফলে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

২০১৬ সালের মার্চ মাসে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় শাকিলা খাতুন নামে এক শিক্ষার্থীকে স্টার জলসার নাটক দেখতে না দেওয়ায় আত্মহত্যা করে। তার নিজ বাড়িতে টেলিভিশন না থাকায় পড়া ফাা দিয়ে পাশের বাড়িতে সিরিয়াল দেখার জন্য যেত। এক পর্যায়ে তার মা বকাঝকা করায় সে ঘরের ভিতর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ২০১৪ সালের ৯ আগষ্ট সাভারে রিয়া নামের দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী রাতে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসার নাটক দেখার জন্য টিভি চালু করে । এ সময় তার মা  তাকে পড়তে বলে টিভি বন্ধ করে দেন।

এতে সে অভিমান করে আত্মহত্যা করে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে মৌমিতা নামের আরও এক স্কুলছাত্রী স্টার জলসার সিরিয়াল দেখে ফেরার পর তার মা তাকে ঘরে টুকতে দেন নি । এতে সে অভিমান করে আত্মহত্যা করে। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নীলফামারীর সঞ্জিতা সাহা নামের এক শিক্ষার্থী তার ছোট বোন মল্লিকার সাথে স্টার জলসার কিরনমালা সিরিয়াল দেখতে গিয়ে ঝগড়া হয় । এক পর্যায়ে সঞ্জিতা সিরিয়াল দেখতে না পেয়ে আত্মহত্যা করে।

এরকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের বিপুল একটি অংশ সিরিয়ালের প্রতি আসক্তির ফলে তাদের লেখাপড়ায় বেশ ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও পারিবারিক দন্ধ কলহ প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সার্বিক ভাবে প্রয়োজন রয়েছে অমাদের প্রজন্মের অবস্থার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনিও পদক্ষেপ গ্রহন করা ।

আমাদের শিক্ষার্থীদের ভাল মানের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে দেয়া । পারিবারিক দন্ধসম্পন্ন সিরিয়ালের প্রতি মনোনিবেশ করে তাদের মেধার মধ্যে খারাপ প্রভাব না দেওয়া। অমাদের উচিত শিক্ষনিয় কোনো বিষয়ের প্রতি তাদের মনোনিবেশ বাড়ানো । যার ফলশ্রুতিতে আমাদের সম্ভব এই আগ্রাসন থেকে অমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা।#

লেখক: শিক্ষার্থী (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ), কুলাউড়া সরকারি কলেজ।