সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮
Home » জাতীয় » হাকালুকি হাওরের চকিয়া বিল থেকে মাছ লুটের অভিযোগ

হাকালুকি হাওরের চকিয়া বিল থেকে মাছ লুটের অভিযোগ

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৯ সেপ্টেম্বর ::

এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির চকিয়া বিল ইজারা প্রাপ্তির আগে মাছ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চকিয়া বিলের (৮আনা) ইজারাদার ও চকিয়া বিলের সরকারি অংশ ইজারা প্রাপ্তির জন্য আদেনকারী সমিতির মধ্যে বিল দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এমনকি প্রানহানিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

গরেজমিন হাকালুকি হাওরের চকিয়া বিলে গেলে দেখা যায়, চকিয়া বিল এলাকায় একটি বড় নৌকা বাঁধা রয়েছে। ওই নৌকা থেকে হাওরের মাছ শিকারি ছোট বড় নৌকাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নৌকায় অবস্থানরত প্রায় ষাট বছর বয়সী বৃদ্ধ নিজের নাম প্রকাশ না করে নিজের বাড়ি হবিগঞ্জ উপজেলার বাহুবল থানায় বলে জানান। তিনি হাওওে পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত আছেন বলে দাবি করেন। তবে তিনি যে নৌকায় অবস্থান করছেন সেটি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার হাওর লর্ড খ্যাত নুরুল চেয়ারম্যানের বলে জানান। পরবর্তীতে নৌকায় আসা অন্য লোকেরা নৌকাটি সুরমা মৎস্যজীবি সমিতির বলে জানান। এরপাশে বিশাল বেড়জাল দিয়ে চলছে মাছ শিকার। সেটিও তাদের বলে মৎস্যজীবিরা নিশ্চত করেছেন। শুধু চকিয়া বিল নয় আশাপাশের বিলগুলোতে অসংখ্য বেড়জাল, কারেন্ট জাল ও মশারি জাল দিয়ে মাছ লুট চলছে। চকিয়া বিলসহ আশপাশ এলাকায় অসংখ্য জাল দিয়ে শত শত মৎস্যজীবিরা অবাধে মাছ শিকার করছে।

এদিকে চকিয়া বিলের কেবি এহিয়া ওয়াকফ এস্টেটের (আট আনার) ইজারাদার ও শাহপুর রুপালী মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি প্রজলাল বিশ^াস গত ০৩ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, চকিয়া বিলের সরকারি জলমহাল অংশ লীজ প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু সুরমা মৎস্যজীবি সমিতির সম্পাদক নজম উদ্দিন, বাহুল উদ্দিন, মুস্তাকিন আলী ও আহছান উল্লাহর নেতৃত্বে সরকারি জলমহাল অবৈধভাবে দখল করে সমিতিরি লোক ও পাহারাদারের নৌকা দিয়ে দিনে-রাতে মাছ লুট অব্যাহত রেখেছেন। তাদের ইজারাকৃত ওয়াকফ এস্টেটের জায়গায় যেতেও বাঁধা ও হুমকি দেয় সমিতির ভাড়াটে লোক।

চকিয়া বিলের সরকারি অংশের সর্বোচ্চ দরদাতা সুরমা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন জালালপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌরা বিশ্বাস। তিনি জানান, সুরমা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ভূমি মন্ত্রণালয়ে দাখিলকৃত আবেদনে উদ্বৃত্ত পে অর্ডার/ ব্যাংক ড্রাফট ১টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে বেআঈনীভাবে টপসীটে ১নং পাতায় জামানত বাবত ০০৫৪২৩৯ নং পে অর্ডারে ৭৭ হাজার টাকা সংযোজন করে ইজারামুল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা জালিয়াতির শামিল।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেটের সিনিয়র সহকারী কমিশণার (রাজস্ব) ইয়াসমিন নাহার রুমা উক্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুলাউড়া ও জুড়ীকে নির্দেশ দেন।

ইজারা চুড়ান্তকরণের আগে উপজেলা ভূমি অফিস কুলাউড়ার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুরমা মৎস্যজীবি সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সমবায় সমিতির আইন ও বিধিমোতাবেক নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া মহেষগৌরী সমবায় সমিতির প্রস্তাবিত ইজারামূল্য ১২৯ পার্সেন্ট বর্ধিত হারকে ১৮৫ পার্সেন্ট বর্ধিত হার দেখানো হয়েছে। যা সঠিক নয় বলে মন্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে ১ম ও ২য় সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে বিল ইজারা প্রাপ্তির সম্ভবনা না থাকলেও তারা মাছ লুট ও জোরপূর্বক বিল দখল নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে করা অভিযোগের কপি পেয়েছি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা জলমহাল কমিটির সদস্য সচিব ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহমান জাদিদ জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুরমা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদককে রোববার ০৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।#