সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮
Home » নির্বাচিত » প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

মো. জুয়েল আহমেদ: প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে বর্তমান সরকারের সকল পদক্ষেপ যুগান্তকারী হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে বিদ্যালয়গামী হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। এতে ঝড়ে পড়ার হার দিন দিন কমছে। শিশুরা উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হিসেবে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠছে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহন করার পর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকল বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখায় প্রাথমিক শিক্ষার মান দিন দিন বাড়ছে।

দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুসজ্জ্বিত প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি কক্ষ চালুর পাশাপাশি শিশুদের জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়াধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় মনোরম পরিবেশে আনন্দ উৎসাহের সাথে খেলনার চলে যাতে শিশুরা শিক্ষা গ্রহন করতে পারে সেজন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনী কক্ষকে বিভিন্ন সাজে সজ্জ্বিত করা হয়।

এতে শিশুরা নিজের মতো করে হাতে খড়ির শিক্ষা গ্রহন করছে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বর্ধিত শ্রেনী কক্ষ নির্মাণের পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মান করা হচ্ছে। এতে নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়গামী করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয়দের অংশগ্রহনে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে চালু করার হয় মিড ডে মিল কার্যক্রম। যে কারনে বিদ্যালয়গুলোতে বাড়ে উপস্থিতির হার। স্থানীয়রাও সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে মিড ডে মিল কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন। পৌর এলাকাসহ দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হয় শতভাগ উপবৃত্তি। সরকারের সাহসী এই পদক্ষেপে ঝড়ে পড়ার হার প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

মা বাবা তাদের সন্তানদের এখন কাজে না দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠান। সকল বিদ্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয় মা সমাবেশ। এতে করে মা’রা তার সন্তানের লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেওয়া সুযোগ পাচ্ছেন। নিরাপদে লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য রাস্তার পাশের বিদ্যালয়গুলোতে নির্মাণ করা হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। বছরের প্রথম দিন সকল শিক্ষার্থীর হাতে একযোগে তুলে দেয়া হচ্ছে পুরোপুরি নতুন বই। যেটা এক সময় ছিল স্বপ্ন। জানুয়ারীর ১ তারিখ শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে বই উৎসবে। বইয়ের জন্য এখন আর বছরের কয়েক মাস হেলায় হেলায় নষ্ট হয় না। শিক্ষকদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণের। আধুনিক ও মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য শিক্ষকরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

বর্তমান সরকারের আমলেই শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি করা হয়। প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেনীর ননগেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেয়া হয়। কোমলমতি শিশুদের মধ্য থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু করা হয় ছাত্র সংসদ। বছরে এক বার শিক্ষার্থীরা উৎসাহ উদ্দীপনায় নিজেদের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রতিনিধি নির্বাচিত করে।

এতে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুনাবলী তৈরী হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালুর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতি দুর করা হচ্ছে। দেশের সকল বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে শিশুরা বিদ্যালয়ে সকল সুবিধা ভোগের সুযোগ পাচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষক সংকট দুর করার জন্য প্রতি বছর স্বচ্ছতার সাথে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। স্লিপ ফান্ডের মাধ্যমে সকল বিদ্যালয়ে চাহিদামতো সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানষকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে দেশের সকল বিদ্যালয়কে সরকারী বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষনা করেন। যে কারনে শিক্ষকরা নিজ থেকে উৎসাহিত হয়ে শিক্ষা দানে আন্তরিক ভাবে মনোনিবেশ করেছেন। শিক্ষকরা যাতে তাদের সুবিধামতো চাকুরী করার সুযোগ পায় সেই সুযোগও সরকার করে দিয়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় বর্তমান সরকারের আমলে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সু-শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি গঠনে সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগন সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে।

 

লেখক: শিক্ষাদরদী, সমাজকর্মী