- আন্তর্জাতিক, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

আমিরাতের ডায়রি ০১ কুলাউড়া থেকে সুদুর আমিরাতের সোনাপুর দর্শণ

আজিজুল ইসলাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত ০৬ অক্টোবর ::

সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করেন ভাতিজা আবু সরোয়ার। আরব আমিরাতে আমার সফরে বিমান বন্দরে তিনি আসেন সকল ব্যস্ততা ফেলে। বিমানবন্দরে প্রিয়জনদেও সান্নিধ্যে পেছনে ভ্রমনের ক্লান্তি নিমিষেই উধাও। আমরা বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কুলাউড়া সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন ভাইয়ের বাসায়। খাবার পর্বে ভাতিজা আবু সরোয়ার সিলেটি ভাষায় বললেন, “আইছরেবো বালা অইছে কাইল সোনাপুর অতা পাকাইবায়।” সোনাপুর শুনতেই আমিতো অবাক এখানেও তাহলে সোনাপুর আছে। তারা আর কোন গোমর ফাঁস না করে সবাই চুপ থাকলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের নেপথ্যে আমার ফুফাতো ভাই ও সহযাত্রী আবুল বাশারের কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি। তিনি কুলাউড়ার তবুর ম্যানশনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কুলাউড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বড় নেতা। আমি কথা প্রসঙ্গে দুবাই সফরের যাবার আগ্রহ প্রকাশ করি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সফল ব্যবসায়ী ও কুলাউড়া সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন ভাইকে জানালে তিনিও অতি অল্প সময়ে আমাদেও জন্য ভিসা ব্যবস্থা কওে দেন। সময় ক্ষেপন না করে আমরাও দ্রুত টিকিট করে রওয়ানা হই আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে। অবশ্য এর আগে দৈনিক যুগান্তর থেকে ১৫ দিনের ছুটি নিতে হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমার ছুটি হলেও ২৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় জেট এয়ার যোগে আমাদের ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ। মাত্র দেড় ঘন্টায় আমাদের বিমান ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরাগন্ধি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সেরে উঠতে হয় বড় বিমান অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী বিমানে।

ইন্দিরাগান্ধি বিমান বন্দরে আমার ঘটে বিপত্তি। চেক ইনে ল্যাপটপ খুলে দেখাতে গিয়ে সবার পেছনে পড়ে যাই। আমার সহযাত্রীরা সবাই ১০ নম্বর গেটে ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন। বাশার ভাইও আমাকে ফেলে গেছেন। আমি ভারতীয় এক পুলিশকে হিন্দিতে বললাম, ভাই আমি দুবাই যাবো। ১০ নম্বর গেট কোন দিকে। ভারতীয় পুলিশ আমাকে রসিকতা করে বলল, বন্ধু তুমিও দুবাই যাবে। তাড়াতাড়ি বামদিকে এগিয়ে যাও। আমি ১০ নম্বর গেট দিয়ে যখন বিমান পর্যন্ত গেলাম, মনে হলো আমার জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশাল বিমানে নিজের আসনে বসার পর গরমে গা থেকে গড়িয়ে পড়ছে পানি। বসার মিনিট দশেক পরেই বিমান ছাড়াও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসলো।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এয়ারপোর্টে আমাদের মেট্রো ট্রেন চড়ার অভিজ্ঞতা হলো। সবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরাও পৌছে গেলাম ইমগ্রেশন কাউন্টারে। অনেকগুলো ইমগ্রেশন কাউন্টারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বনেদি পোশাকে বসা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে সালাম দিতেই হাসোজ্জ্বল উত্তর। আরবিতে কুশল জানতে চাওয়ায় আরও খুশি হলেন ইমিগ্রেশন পুলিশ অফিসার। আমাকে জিজ্ঞেস করলে কেন এসেছি? উত্তরে সফরের কথা বলতেই তিনি মাশা আল্লাহ বলে কম্পিউটার ক্যামেরার দিকে তাকাতে বললেন। দ্রুতই কাগজে সীল মেরে আমাকে রাস্তা দেখিয়ে যেতে বললেন। আমার কাজটা খুব সহজ হলো কিছুটা আরবি বলায়। খুশি হলেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাও। এরপর মালামাল বুঝে নিয়ে আমার বাইরে বেরিয়ে এলাম।

বাইরে কুলাউড়া সমিতির ফুলেল অভ্যর্থনা ছিলো অনেকটা চমক। আমি সত্যি মুগ্ধ। এখানে মুগ্ধতার শুরু। এরপর রাতের খাবার টেবিলে বসে আরও অবাক। মতিন ভাইর বউ (ভাবী) যে আপ্যায়ন করালেন গোটা বহরকে তাতে মুগ্ধতার সাথে উনার বিশাল মহত্তের পরিচয় পেলাম।

অবশেষে সোনাপুর দর্শণ : ভাতিজা আবু সরোয়ার বয়সে বড়। তাই উনাকে দু’দিন পর বললাম চাচা সোনাপুর কবে দেখাবে। উনি বললেন’ আইছো যখন দেখবায়- দেখবায়। কিন্তু সোনাপুর দেখার জন্য আমি যেন উদগ্রিব। এর আগে আমরা দিব্বা শহর, মাটির মসজিদ, দুবাই মল, বুর্জ খলিফা এবং আজমান বিচ দেখা শেষ। ৪ অক্টোবর বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দুতাবাসের ১ম সহকারি প্রবাস লামারাং এর সাথে দেখা করা উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। দুতাবাসের নিকটে যাবার পর একটি ক্ষুদে বার্তায় প্রবাস রামারাং নিজের অসুস্থতার কথা জানালেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি বলে দু:খ প্রকাশ করলে তার ড্রাইভার। এই প্রবাস লামারাং কুলাউড়ার একজন কৃতি সন্তান। উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ভালাইমা পানপুঞ্জির বাসিন্দা। ফিরে এলাম দুতাবাস থেকে। কোন কাজ নাই তাই আরেক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব ভাইর ছেলে আমাদের সোনাপুর নিয়ে গেলেন। আর তাতেই হলো সোনাপুর দর্শণ। ভাতিজা আবু সরোয়ার এই সোনাপুরের কাছেই থাকেন। তাই সেখানে তাকেও পেলাম। এই সোনাপুরের সাথে কুলাউড়ার সোনাপুরের কোন মিল নেই। মিল যা আছে তা বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে পুরাতন মালামাল বিক্রির বাজারের মত। এখানে সকল পুরাতন মালামাল বিক্রি হয়ে থাকে। এখানকার ক্রেতা বিক্রেতারা বিশ্বের বিভিন্ন গরিব দেশের মানুষ। সেই তালিকায় বাংলাদেশের নামও আছে। কাপড়চোপড় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রির পাশাপাশি রয়েছে কাঁচা বাজার। মাছও পাওয়া যায়। সোনপুর বাজারে সিঙ্গারা সমোসা পিয়াজু আর জিলাপিও পাওয়া যায়। আমরা জিলাপির স্বাদ নিয়ে সোনপুর দর্শণ শেষ করলাম।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *