অক্টোবর ১৫, ২০১৮
Home » আন্তর্জাতিক » সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা লাভের সুযোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা লাভের সুযোগ

“দুতাবাসে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ লাইন- নভেম্বর মাস থেকে ধরপাকড়”

আজিজুল ইসলাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে :-

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা লাভের সুযোগ শেষ হচ্ছে চলতি অক্টোবর মাসে। এসময়ের মধ্যে বৈধ শ্রমিকরা চাইলে কর্মস্থলও পরিবর্তণ করতে পারবেন। এই সুযোগ না বাড়ানোর সম্ভবনাই বেশি। ফলে নভেম্বর মাস থেকে ব্যাপক ধর পাকড়ও শুরু হতে পারে। বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে যুগান্তরের সাথে আলাপকালে এমন কথা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রথম সচিব (ফাস্ট সেক্রেটারি) মি. প্রবাস লামারাং।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবৈধভাবে কর্মরত শ্রমিকদেও সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এর পরিমাণ লক্ষাধিক বা তার বেশি হতে পাওে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এসব শ্রমিকদেও অবৈধ থেকে বৈধতা লাভের একটা সুযোগ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। ৩ মাসের মধ্যে অভৈধ শ্রমিকরা চাইলে দেশে ফেরৎ যেতে পারবে। আবার অবৈধ কোন শ্রমিক চাইলে কর্মস্থল ঠিক করে চাকরিতে থাকতেও পারবেন। আগস্ট মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। আরব আমরাত সরকারের বেঁেধে দেয়া এই সময়সীমা চলতি অক্টোবর মাসেই শেষ হচ্ছে।

আরব আমিরাতের বেঁধে দেয়া এই সুযোগও কাজে লাগাতে চাইছেন সেখানে অবৈধভাবে কর্মরত শ্রমিকরা। প্রতিদিন তাই পাসপোর্ট নবায়নসহ বিভিন্ন কাজে হাজার হাজার বাংলাদেশী দুতবাসে ভীড় করছেন। দুতাবাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিকদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও অফিস চলাকালীন সময়ে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুতাবাসে সেবা নিতে আসা নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক (নাম প্রকাশ করলে সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এই আশঙ্কায়) মানুষের অভিযোগ, দুতবাসে যে ধরনের সেবা পাওয়া উচিত সেবা আন্তরিক সেবা তারা পাচ্ছেন না। দুতাবাসে এলে তারা দাললচক্রের খপ্পরে পড়েন। ফলে সঠিক সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার নির্ধারিত ফি থেকে ২-৩গুণ বেশি গুনতে হয়। আরব আমিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমার যে ঘোষণা দিয়েছে ৩ মাস, এই সময়ের মধ্যে কর্মস্থল নির্ধারণ করে বৈধ ভিসা লাগানো দুষ্কর। এই সময়সীমা বৃদ্ধি করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে দুতাবাসের মাধ্যমে দাবি জানানোর অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রথম সচিব (ফাস্ট সেক্রেটারি) মি. প্রবাস লামারাং জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা এই সময়ের মধ্যে হয় বৈধ হও, নয়তো দেশ ছাড়ো। যারা দেশ ছাড়তে চায় তাদের ছাড়পত্র দিয়ে দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে শ্রমিকরা ফিরে গেলে আবার ভিসা ও চাকরি নিয়ে বৈধভাবে আরব আমিরাতে আসতে পারবে। নয়তো তাদের (আরব আমিরাত সরকারের) বেঁধে দেয়া সময় সীমার পর অভিযান চালিয়ে যাদের আটক করবে, তাদের নো এন্ট্রি দিয়ে অর্থাৎ আর কোনদিন আরব আমিরাতে ঢুকার সুযোগ পাবে না। আর জেল জরিমানাতো রয়েছেই।

আরব আমিরাত সরকার বাংলাদেশীদের সুযোগ দেয়, যেমন- ভিজিট ভিসা চালু করেছে। এই ভিসায় কতজন বাঙালী আরব আমিরাতে আসছেন আবার কতজন দেশে ফিরে যাচ্ছেন, তার উপর কড়া নজরদারি রয়েছে। অনেকে দেশ থেকে এখানে এসে আর ফেরৎ যাচ্ছেন না। কেউবা ব্যবসায়িক পার্টনার ভিসায় আবার কেউ কেউ অবৈধভাবে থেকে যাচ্ছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য খুব খারাপ।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগে নতুন ভিসা চালু হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে মি. প্রবাস লামারাং জানান, নতুন ভিসা খোলার এবং বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার কথা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আশ^াস দিলেও তা কখন বাস্তবায়ন হবে বলা মুশকিল। কেননা আমরাই অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশীরাই এ পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। সঠিকভাবে আইন কানুন না মানার কারণে আমরা তাদের কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছি।#