অক্টোবর ১৯, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » জুড়ীতে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য আর রমরমা জুয়ার আসর

জুড়ীতে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য আর রমরমা জুয়ার আসর

দূর্গাপুজাকে পুঁজি করে অসামাজিকতা

এইবেলা, বড়লেখা, ১৯ অক্টোবর ::

জুড়ীতে শারদীয় দূর্গাপুজায় প্রশাসনের নাকের ডগায় চা বাগানগুলোতে চলছিল রমরমা জুয়ার আসর, যাত্রাগানের নামে অশ্লীল-নগ্ন নৃত্য আর মাদকের ছড়াছড়ি। নৃত্যের তালে তালে যুবকরা রঙ্গিন পানির নেশায় উন্মাতাল হয়ে পড়ে। অপর দিকে আসাধু চক্র জুয়ার আসর বসিয়ে কামিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জুয়াড়িরা ভিড় জমায় আসরগুলোতে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এসব অনৈতিক কর্মকান্ড চলছিল প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায়। তবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয় বিজিবি (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ) সদস্যরা কয়েকটি জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় জুয়াড়ীরা পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীরা স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে দুইটি চা বাগানের পুজামন্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর যাত্রাগানের নামে চালিয়েছে অশ্লীল নৃত্যসহ নানা আসামাজিক কার্যত্রম। পাশেই বসিয়েছে জুয়ার বোর্ড। রহস্যজনক কারণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী জুয়ার আসর ছত্রভঙ্গ না করে জুয়াড়িদের যেন নিরাপত্তা প্রদান করে। এ যেন জুয়া খেলার স্বর্গরাজ্য।

মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত উপজেলার ফুলতলা ইউপির এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগান ও গোয়ালবাড়ী ইউপির রতœা চা বাগানের মন্ডপ ও এর পাশাপশি এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, মঞ্চে অশ্ল¬ীল নৃত্য আর পাশেই বসানো হয়েছে বড় বড় জুয়ার আসর ও মাদকের ব্যবসা।

সূত্র জানায়, দুই জন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জুয়ার প্রতি বোর্ড থেকে প্রতিরাতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জুয়ার আসর বসানোর অনুমতি দিয়েছেন। তাদের এমন অসামাজিক কর্মকান্ডে হতবাক এলাকাবাসী।

জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গির হোসেন সরদার জানান, উপজেলার কোথাও জুয়ার আসর বসার কোন তথ্য তিনি জানেন না। কেউ জুয়ার আসর বসিয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন।

৫২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আহমেদ ইউসুফ জামিল পিএসসি জানান, জুয়ার আসরে অভিযান চালানো বিজিবির কাজ নয়, এটি পুলিশের কাজ। তারপরও খবর পাওয়ার সাথে সাথে তিনি বিজিবি সদস্যদের পাঠিয়ে কয়েকটি জুয়ার আসর ছত্রভঙ্গ করে দেন। এসময় জুয়াড়ীরা পালিয়ে যায়।