অক্টোবর ২২, ২০১৮
Home » জাতীয় » মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাসের করুণ আকুতি…

মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাসের করুণ আকুতি…

আবদুল আহাদ, কুলাউড়া, ২২ অক্টোবর ::

শক্তি, মনোবল আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে ১৯৭১-এ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। পাক হানাদার বাহিনির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে গিয়ে পাল্টা আক্রমনের মুখেও পড়েছিলেন। পাক বাহিনির মার্টারশেলের আঘাত থেকেও প্রাণে বাঁচেন। দেশ স্বাধীনের পর সিলেটে অস্ত্র জমা দিয়ে ফেরেন বাড়ীতে। মার্টারশেলের আঘাত থেকে বেঁচে যাওয়া সেই প্রাণকে আর বাঁচাতে পারছেননা মুক্তিযোদ্ধা শ্রী হরেন্দ্র দাস (৬৫)। একেতো বয়সের ভার, তার উপর শরীরে নানা রোগ। এরিই মধ্যে গত ৭ অক্টোবর গভীর রাতে স্ট্রোক করেন তিনি। সেই স্ট্রোকে তাঁর বাম হাত ও পা নিস্তেজ হয়ে যায়। কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের রংগীরকুল গ্রামে জাতীর এই শ্রেষ্ট সন্তানের বাড়ি।

সরেজমিন সোমবার সকালে বাড়িতে গেলে দেখা যায়, হরেন্দ্র দাস ঘরের বাইরে একটি চেয়ারে বসে আছেন। পাশে বসে একমাত্র সন্তান (মেয়ে) গীতা দাস বাবার পায়ে ঔষধ লাগাচ্ছেন। গীতা জানান, গত ৭ অক্টোবর রাত ২টার দিকে হটাৎ স্ট্রোক করেন তিনি। ওই রাতেই তাকে সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসার পর ২০ অক্টোবর রাতে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ডাক্তার বলছেন আরও কিছুদিন থাকতে। কিন্তু টাকার অভাবে হাসপাতালে আর থাকা হয়নি। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার করে টাকা নিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেছেন।

জানা যায়, রংগীরকুল গ্রামের মৃত অষ্টিনী দাসের কনিষ্ঠ ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শ্রী হরেন্দ্র দাস ঠেঁলা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারী খাস তিন শতক ভূমির উপর বাঁশ বেতা দিয়ে একটি ঘর বানিয়ে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসাবে যে টাকা পান, সেটা দিয়ে একটু একটু করে একটি ঘর তৈরী করার চেষ্টা করছেন। ঘরের পাশে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাবস্থা থাকলেও টাকার অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না। ঠেঁলা চালিয়ে দিন মজুরী করে কোনরকমে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে বেঁচে আছেন। বয়সের ভার আর নানা অসুস্থতার কারনে বেশ কিছুদিন থেকে ঠেঁলা চালাতেও কষ্ট হয় তাঁর। এখন আবার হাত-পা অবশ। কি দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা হবে আর কিভাবে খেয়ে বাচবেন, সেই চিন্তায় নির্বাক হয়ে ঘরের বারান্দায় বসে আছেন স্ত্রী।

একটু একটু কথা বলতে পারছেন হরেন্দ্র দাস। দু’চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ৭১ এ যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য আর এখন যুদ্ধ করছেন বেঁচে থাকার জন্য। ঠেঁলা চালিয়ে কটা ভাত জুটতো, কিন্তু ভালো কোন কিছু খাবার বা কেনার সুযোগ থাকতোনা। এখনতো আর কোনটিই নাই বলেই হাউ মাউ করে কেঁদে উঠেন।

মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাসের করুণ এই আকুতি কি স্বাধীণতার পক্ষের শক্তি মহাজোট সরকারের নজরে পড়বে। না কি ৭১-এর মার্টারশেলের আঘাত থেকে বেঁচে যাওয়া প্রাণ চোখের সামনেই তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবে। আমরা সকলে মিলে কি জাতীর এই শ্রেষ্ট সন্তানের পাশে দাড়াতে পারিনা?….