অক্টোবর ২৩, ২০১৮
Home » নির্বাচিত » বাবা খে‌য়ে মাতাল হিসুর অ‌ন্ধ সম‌য়ে চশমা বি‌ক্রি ও ভা‌ট্টি বনাম মইনুল

বাবা খে‌য়ে মাতাল হিসুর অ‌ন্ধ সম‌য়ে চশমা বি‌ক্রি ও ভা‌ট্টি বনাম মইনুল

মুন‌জের অাহ‌মদ চৌধুরী, লন্ডন, ২৩ অ‌ক্টোবর ::
বাংলা‌দে‌‌শের দেশীয় চল‌চ্চিত্রের দহ‌নের এক‌টি গান ইউ‌টিউ‌বে মু‌ক্তি পে‌য়ে‌ছে। ‌গান‌টি‌তে ‘ইয়াবা খাব’ অার ‘হিসু করব দেয়া‌লে’ এমন কথা না‌মের কু-কথা ও শিল্পরুচিহীন অশ্রাব্য কথাগুলি ব্যবহৃত করার অসভ্যতার কথা গতকাল অামি জানতে পা‌রি প্রিয় বন্ধু, দীর্ঘ অসুস্থতা জয়ী গুনী শিল্পী শাহনাজ রহমান স্বীকৃ‌তির ষ্টাটাস সু‌ত্রে। গান‌টি যৌথ প্র‌য়োজনার না‌মে ভারতীয় কোন ছ‌বির নয়, এ‌দে‌শের ই চল‌চি‌ত্রের।
ভা‌বি, কোথায় যা‌চ্ছে সময়, সামা‌জিক সম্পর্ক, লজ্জার বোধ। নাম‌তে নাম‌তে কোথায় নাম‌ছে মানুষ? অনুভব ক‌রি ,দে‌শের রাজনী‌তি‌বিদ‌দের, ক্ষমতাবান‌দের নী‌তিহীনতার গ্রাস ক্র‌মে ক্র‌মে সমাজ‌কেও এ‌কেবা‌রে ধ্বংস ক‌রে দি‌চ্ছে।
ভারতীয় সি‌রিয়া‌লের কুটনামী দে‌শের বহু মানুষের ব্যক্তিগত, সামা‌জিক জীবন‌কে ফ্যান্টাসীর পর্যা‌য়ে নি‌য়ে গে‌ছে। এক ধর‌নের চা‌পি‌য়ে দেয়া অাগ্রাসন সর্বত্র। বাংলা‌দে‌শের অাবহমান মধ্য‌বি‌ত্তের চিরায়ত যে জীবন; সেটার সা‌থে অাজ‌কের বাস্তবতার ফাঁরাক যোজন-‌যোজ‌নের।
দুই
‌বি‌নোদন, ‌বিকৃ‌তি, ভাড়া‌মি অার অসভ্যতা চারটি অাস‌লে সম্পুর্ন অালাদা বিষয়। শিল্প মা‌নে অসভ্যতা নয়। শি‌ল্পের উ‌দ্দেশ্য, প্রকৃত শিল্প‌চর্চার ই‌তিহাস ব‌লে, অশ্লীলতা ব‌লে প্রকৃত শিল্পচর্চায় কোন বিষয় নেই। কা‌হিনীর, গ‌ল্পের বা গান‌টির কথার হুবহু চিত্রায়নের প্র‌য়োজ‌নে, প‌রিচাল‌কের-‌চিত্রধার‌নের  মু‌ন্সিয়ানায় অ‌নেক ‘কা‌রো কা‌রো চো‌খে অশালীন’ দৃশ্য বা সংলাপও অপালাপ ব‌লে ম‌নে হয় না।
ইউটিউবে গত ১৪ অক্টোবর ‘দহন’ ছবির ‘হাজীর বিরিয়ানি’ শিরোনামের গানটি প্রকাশিত হয়েছে।
অা‌মি ভে‌বে পাই না, ‘মাতাল হয়ে হিসু করবো দেয়ালে, শালা…যা হবে তা দেখা যাবে সকালে’’ – এমন অসভ্যতার কথা অার গা‌নের চিত্রায়ন বাংলাদে‌শে হয় কি ক‌রে। যে দেশটা ত্রিশ লাখ শহী‌দের র‌ক্তের উপর দা‌ড়ি‌ঁয়ে অা‌ছে।  বাংলা ভাষা‌কে এ গানের কথায় রী‌তিমত ধর্ষন করা হ‌য়ে‌ছে। অথচ, এই বাংলা ভাষাটা ১৯৫২ সা‌লে র‌ক্তের বিনিম‌য়ে স্বীকৃ‌তি জয় ক‌রে এ‌নে‌ছিল।
একটি চলচ্চিত্র মুক্তির অ‌নেক অা‌গে ( ছ‌বি‌টি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য বোর্ডে জমা দেবার অা‌গেই) তা ইউ‌নিউ‌বে মু‌ক্তি পায়। এ রী‌তি বিশ্বজু‌ড়েই। প‌রিচালক বা সং‌শ্লিষ্ট সক‌লের রু‌চি‌বোধই ইউ‌টিউ‌বে এখনকার বাস্তবতায় কোন ক‌ন্টেন্ট মু‌ক্তি দেবার এ ক্ষে‌ত্রে মূল মানদন্ড। অ‌নে‌কে ত‌র্কের খা‌তি‌রে বল‌বেন, “দর্শক দেখ‌ছে, যু‌গের চা‌হিদা। “
মানলাম অাপনা‌দের কথা। কিন্তু, যু‌ক্তির না‌মে অাপ‌নি তো কু‌-যুক্তি চালা‌তে পা‌রেন না। দর্শক তো প‌র্নোগ্রাফীরও অা‌ছে, সব সমা‌জে।‌ কিন্তু, প‌র্নোগ্রাফী তো সভ্য সমা‌জে মূলধারার ছ‌বি হি‌সে‌বে মু‌ক্তি পায় না।
‌প্রিয় পাঠক, লেখার দৈর্ঘ্য বে‌ড়ে গে‌লে অাপনার বির‌ক্তির কথা মাথায় থা‌কে। তবুও বাস্তবতার দুয়া‌রে দা‌ড়ি‌য়ে বি‌বে‌কের অসহায়ত্ব নি‌য়ে কথাগু‌লো বলা।
‌তিন
হালে অ‌নেক প্রবাসী বা দেশী সাংবাদিক যারা বাংলা‌দেশ রা‌ষ্টের বিরু‌দ্ধে ধারাবা‌হিকভা‌বে লি‌খে ও ব‌লে ব্রি‌টে‌নে এসাইলাম বা‌গি‌য়ে‌ছেন, এখন তা‌দের অ‌নে‌কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার নেক নজ‌রের লোক ব‌নে গে‌ছেন। অতী‌তে যেমন বন‌তেন বেগম খা‌লেদা জিয়ার। অাজ‌কের চেতনা ব্যবসায়ী‌দের কেউ কেউ অাবার এরশাদ সা‌হেব‌কেও তার না‌মে ক‌বিতা লি‌খে দি‌তেন। যখন ‌তিনি ক্ষমতায় ছি‌লেন।
অথচ এ শ্রেনীর কিছু প্রানীই বি‌লে‌তের বা ইউ‌রোপ অা‌মে‌রিকায় রাজ‌নৈ‌তিক বা শরণার্থী হি‌সেবে অাশ্রয় নেবার জন্য বাংলা‌দেশ রাষ্ট্র তা‌দের নিরাপত্তা দি‌তে ব্যর্থ- এমন কথা ধর্মগ্র‌ন্থের না‌মে অঙ্গীকার ক‌রে অাদাল‌তে লি‌খিত ও মৌ‌খিকভা‌বে প্র‌তি‌টি এসাইলাম ইন্টার‌ভিউতে ব‌লে‌ছেন। বাংলা‌দেশ রাষ্ট্র‌কে, জন্মভু‌মিকে অপমা‌নিত ক‌রেছেন নি‌জে‌দের ব্যক্তিগত স্বার্থ‌সি‌দ্ধির প্র‌য়োজ‌নে, নির্লজ্জ মিথ্যাচা‌রে।
এরপর তারা ভোল পা‌ল্টে ক্ষমতার নজ‌রে পড়ার কড়া তদ‌বির, উৎসুক চেষ্টায় অা‌ছেন, অ‌নে‌কে সাফল্য পে‌য়ে‌ছেন।
অা‌রেকদল বি‌লে‌তে বসবাসরত বাঘা বৃ‌দ্ধের নেতৃ‌ত্বে ছি‌লেন, অা‌ছেন। যা‌দের ই‌তিহা‌সের দা‌লি‌লিক বয়‌ান বি‌লে‌তের বাংলা মিডিয়ার হাউসগু‌লোর গ‌ন্ডি ছা‌ড়ি‌য়ে ক‌মিউ‌নি‌টির দেয়া‌লে দেয়া‌লে এখ‌নো দোক্কা খায়।
চার
‌বি‌লে‌তে মেহনত ক‌রি জী‌বিকার জন্য। শতভাগ হালাল রোজগা‌রের অ‌র্থে সন্তান অার মা‌য়ের ভরন‌পোষন কর‌তে চাই ব‌লে এই পরবা‌সে অস্থায়ী বসবাস। বহুকাল অা‌গে বাংলা‌দে‌শের সবুজ পাস‌পো‌র্টের রঙ বদলাবার সু‌যোগ হ‌লেও অাইনজী‌বি অগ্রজসম বিপ্লব দার শত অন‌ু‌রো‌ধেও নিইনি ব্রি‌টে‌নের লাল পাস‌পোর্ট। অা‌মি সে দ‌লের লোক হ‌তে পা‌রি‌নি,‌ সেটা অামার সৌভাগ্য।
প্রে‌মিকার সা‌থে সম্পর্ক কতটা নির্ভরতার, ভালবাসার সে‌টি বোঝা যায় দু‌রে থাক‌লে। তেম‌নি দে‌শের বাই‌রে থাকবার বাস্তবতায় বু‌ঝি দেশটা কতটা মমতার, ভালবাসার ঠিকানা।
পাচঁ
বাংলা‌দেশ অামার ভালবাসার নাম। বৃ‌ষ্টির পর বাংলা‌দে‌শের মা‌টি থে‌কে যে ঘ্রানটা বের হয়, সে ঘ্রানটা অামা‌কে পোড়ায়; টা‌নে বড্ড। অামার মা‌য়ের সা‌থে প্র‌তি‌দি‌নের ফোনালা‌পে রু‌টিন জিজ্ঞাসা অার ‘কে‌ান মাসে অাসবি’ কথা‌টির ম‌তো মা‌টির ঘ্রানটাও সব সময় অামায় টা‌নে। তাই দেশ ছে‌ড়ে এ কয় বছর ধ‌রে অার তিন চা‌র মা‌সের বে‌শি টানা লন্ড‌নে থাক‌তে পা‌রি না। বাংলা‌দে‌শ অাস‌লেই বু‌কের নিখাদ স‌ত্যের অক্ষ‌রে অামার প্রেমিকার নাম। বাংলাদে‌শের মা‌টি-মানুষ অামার হৃদ‌য়ে সন্তান অার মা‌য়ের ভালবাস‌ার কাছাকা‌ছি বসবাস করা মমতার শেকড় । বহুকাল ধ‌রে সাংবা‌দিকতা অা‌ষ্টেপৃ‌ষ্টে জীব‌নের সা‌থে জ‌ড়ি‌য়ে গে‌ছে। ১৯৯৯ সা‌লে যখন শ্র‌দ্বেয় সম্পাদক শহীদুজামান অানছার ভাই‌য়ের সাপ্তা‌হিক রাজক‌ন্ঠে প্রথম টু‌-ষ্টোক বেবী‌টে‌ক্সি ঢাকা থে‌কে জেলা শহরগু‌লি‌তে ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে পোড়া ম‌বি‌লে প‌রি‌বেশ দূষ‌নের প্রথম রি‌র্পোট‌টি বাই‌নে‌মে প্রথম প্রকা‌শিত হয়। স্মৃ‌তি য‌দি প্রতারনা না ক‌রে থা‌কে, সে নিউজ‌টি ক‌ম্পিউটা‌রে পা‌শে ব‌সি‌য়ে ক‌ম্পোজ ক‌রে‌ছি‌লেন, সে সময় প‌ত্রিকাটির অন্যতম একজন রুহুল রু‌হিন ভাই।
ব্ল‌গে এর-ওর গল্প চু‌রি ক‌রে টুক‌লিফাই কর‌তে কর‌তে, এর ওর ষ্ট্যাটাস লেখা এখন যেমন কলা‌মিষ্ট ব‌নে যাওয়া যায়, তখনও তা এত সুল‌ভে যেত না। যখন টক‌শোর জন্য তোতাপা‌খির অায়নার সাম‌নের মুখস্ত বু‌লি অার ফেসবুক সাংবা‌দিকতার দিন ছিল না, তখনও টক‌শো‌তে বছর চা‌রেক নিয়‌মিত ছিলাম।
২০০৬ সা‌লে যখন কলাম লেখার শুরুর দিনগু‌লি‌তে অগ্রজ সাংবা‌দিক, সম্পাদক হুমা‌য়েদ অালী শাহীন ভাই‌য়েরা সপ্তাহা‌ন্তে পাতাকু‌ড়িঁ‌তে প্রকা‌শিত কলা‌মের অ‌নেক লাই‌নের ব্যাখ্যা চাই‌তেন। সেই মফস্ব‌লের কাদ‌া-মা‌টির মা‌ঠের সংবাদকর্মীর জীবন সাংবা‌দিকতার মা‌নে দা‌য়িত্বশীলতা, দে‌শের প্র‌তি মমত্ব শি‌খি‌য়ে‌ছে। সাংবা‌দিকতার দীর্ঘ‌মেয়াদী   কর্মশালায় বা মৌলভীবাজা‌রে গি‌য়েও অালী অার রাজী স্যার, অগ্রজ সাংবা‌দিক রুহুল অা‌মিন রুশদরা প‌ড়ি‌য়ে‌ছেন- সাংবা‌দিকতার মা‌নে দল নির‌পেক্ষ থাক‌া, কোন দল বা প‌ক্ষের দালাল‌ী না করা। তা‌দের দেওয়া পাঠের ব‌লেই বি‌লে‌তে এ‌সে চ্যা‌নেল অাই ইউ‌রো‌পের বার্তা সম্পাদক হি‌সে‌বে বার্ত‌াকক্ষ চা‌লি‌য়ে‌ছি টানা বছর তি‌নেক। ‌টি‌ভি‌টির মা‌লিকপক্ষ,বি‌লে‌তের ও ইউ‌রো‌পের সকল বড় শহ‌রের প্রিয় অগ্রজ প্র‌তি‌নি‌ধিরা সাক্ষী অা‌ছেন, অামার দা‌য়িত্বকালীন সম‌য়ে প্রচা‌রিত কে‌ান নিউ‌জের জন্য চ্যা‌নেল‌টি অফক‌মের কোন অ‌ভি‌যো‌গের জে‌রে ক্ষ‌তিপুরন বা জ‌রিমানা তো দু‌রে থাক, নো‌টি‌শেরও শিকার হয়‌নি। পাঠ‌কের জানবার জন্য ব‌লে রা‌খি, অফকম হ‌লো ব্রি‌টে‌নের সম্প্রচার সাংবা‌দিকতার নৈ‌তিকতার রক্ষাকবচ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নি‌য়ে‌া‌জিত পষর্দ। যারা কোন ধর‌নের ধর্ম,বর্ন বা রাজ‌নৈ‌তিক পক্ষপাতমূলক সংবা‌দের ব্যাপা‌রে ক‌ঠোরভা‌বে নি‌জেদের অাইনী ক্ষমতা‌কে ব্যবহার ক‌রে।
‌লেখায় ব্যা‌ক্তিগত স্মৃ‌তিতপ‌র্নের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী প্রিয় পাঠক।
ছয়
‌দেশটা‌কে হৃদয়ের অ‌নেকখা‌নি দি‌য়ে ভালবা‌সি ব‌লেই চাই দেশটা ভা‌লো থাকুক। দেশকে ম‌নের গভী‌রের বহুখা‌নি মায়া দি‌য়ে অনুভব ক‌রি ব‌লে ই ক্ষমতার অন্ধ চোখ, পেশাজী‌বি‌দের নির্লজ্জ দলবা‌জি, সাংবা‌দিকতার না‌মে দলদাসত্ব অাহত ক‌রে, অাক্রান্ত ক‌রে।
তবু সে বেদনার কথা লেখাও দে‌শে এখন রী‌তিমত অপ‌রাধ। জন্ম মা‌টি‌তে নি‌র্বি‌গ্নে ফির‌তে না দেবার প্রত্যক্ষ দ-প‌রোক্ষ প্র‌তি‌নিয়ত হুম‌কি অা‌সে। হুম‌কিগু‌লো‌কে অভ্যাসমত ডাষ্ট‌বি‌নে ফেল‌তে ফেল‌তে বেদনাহত হই, কিন্তু ক্লা‌ন্তি লা‌গে না। দেশটা‌কে অা‌বে‌গের অ‌নেকখা‌নি দি‌য়ে ভালবা‌সি তো, তাই।
বি‌বেকটা এখ‌নো সু‌বিধার দা‌মের কা‌ছে বন্ধক বা বি‌ক্রি ক‌রে দি‌তে পা‌রি‌নি।
অাজ‌কের বাংলা‌দেশে কোন ঘটনা ঘট‌লে অতী‌তের সরকার বা সরকারগু‌লির অাম‌লের সা‌থে এক ধর‌নের তুলনামূলক অা‌লোচনা ক‌রেন অামা‌দের সুশী‌লেরা। ওরাও ক‌রে‌ছিল, এরাও কর‌ছে এমন এক বিকৃত বিকা‌রে তারা বৈধতা দেবার চেষ্টা ক‌রেন অপরাধগু‌লো‌কে। কিন্তু, বিএন‌পি-জামায়াত অাম‌লে ক্ষমতাশীনরা বাংলা ভাই‌দের দি‌য়ে এ রাষ্ট্রকে অা‌রেক অাফগা‌নিস্তান বানা‌তে প্রত্যক্ষ মদদ দি‌য়ে‌ছিল ব‌লেই তে‌া জনগন তা‌দের বর্জন ক‌রে‌ছিল।
সাত
মাত্র দুমাস হয়‌নি পাবনায় নারী সাংবা‌দিক সুবর্না নদী খুন হ‌লেন। অাজ দে‌শের নারী সাংবা‌দিকরা, সম্পাদকরা মাসুদা ভা‌ট্টি বনাম ব্যা‌রিষ্টার মইনুল হো‌সেন ইস্যু‌তে যতটা সরব, তখন ততটাই নীরব ছি‌লেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সংব‌াদ স‌ন্মেল‌নে তাঁর এ প্রসং‌গে দেয়া বক্ত‌ব্যের ৬ ঘন্টার ম‌ধ্যে একই বিষ‌য় ও ঘটনায় অন্য মামলায় উচ্চ অাদাল‌তের জা‌মি‌নে থাকার পর ব্যা‌রিষ্টার মইনুল‌কে গ্রেফতার করা হল। ব্যা‌রিষ্টার মইনু‌লের টকাশা‌তে দেয়া অাক্রমনমুলক বক্ত‌ব্যের  অবশ্যই নিন্দা জানাই। তার বিরু‌দ্ধে উঠা পা‌কিস্তানের দালালীর অ‌ভি‌যোগ, ১/১১র কিছু ভু‌মিকা অবশ্যই  নিন্দনীয়, বিচারযোগ্য অপরাধ। য‌দিও তি‌নি বঙ্গবন্ধুর অাম‌লে এম‌পি ছি‌লেন,তখন তার পা‌কিস্তা‌ন প্রে‌মের বিষয়‌টি উ‌ঠে‌নি।
অাজ খা‌লেদা জিয়া যে মামলায় জে‌লে ১/১১ তে তি‌নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনাল‌য়ের দা‌য়িত্বে থাক‌া অবস্থায় সে মামলা‌টি দায়ের করা হ‌য়ে‌ছিল। সে‌টি ভিন্ন অা‌লোচনা। ‌তেম‌নি কাউ‌কে লিঙ্গ‌বৈষ‌ম্যে জ‌ড়ি‌য়ে অা‌লোচনা নেহা‌য়েৎ ইতরা‌মি। যেমন‌ি পা‌কিস্ত‌ানী বি‌য়ে, নাম যুক্ত রাখাও ভিন্ন অা‌লোচনার বিষয় এবং এক অ‌র্থে ব্যা‌ক্তিগতও। সে অা‌লোচনা অামার লেখার গন্তব্য নয় স‌চেতনভা‌বেই।
মইনুল হো‌সেন গ‌র্হিত বক্তব্য দি‌য়েছেন এটা যেমন সত্য। তেম‌নি তি‌নি অাক্রান্ত ব্যক্তির কা‌ছে ক্ষমা চেয়ে‌ছেন ফোন ক‌রে, লি‌খিতভা‌বে লেটার‌হেড প্যা‌ডে স্বাক্ষর দি‌য়ে অানুষ্টা‌নিকভা‌বেও দু‌টোই সত্য। এরপ‌রের সত্য হল, এ ঘটনায় তারপরও সম্পাদকরা বিবৃ‌তি দি‌য়ে‌ছেন, প্রধানমন্ত্রী অব‌ধি অা‌ন্দোলন কর‌তে ব‌লে‌ছেন। অতপর, তি‌নি গ্রেফতার হ‌য়ে‌ছেন।
অামার খুব জান‌তে ই‌চ্ছে ক‌রে, সাগর-রুনী, সুর্বন‌ার খুনী‌দের গ্রেফতা‌রের দাবী‌তে কী অন্তত জৈষ্ঠ্য সাংবা‌দিকরা কি এখনকার এক শতাংশও কথা ব‌লে‌ছেন ঐক্যবদ্ধভা‌বে? মে‌হেরুন রুনী অার সুবর্না নদীও তে‌া পেশাদার নারী সাংবাদিক ছি‌লেন। পু‌লিশ যখন রাজপ‌থে নায্য দাবী‌তে নাম‌া নারী‌দের লাঞ্চনা ক‌রে, শরীরের কাপড় ছি‌ড়ে ফে‌লে, তখন কোথায় থা‌কেন অামা‌দের বিভক্ত সমা‌জের সমাজপ‌তি, সু‌বিধা‌ভোগী সুশীল সমাজ ?
নারায়নগ‌ঞ্জের ন‌ন্দিত মেয়র অাইভী রহমান‌কে সাংসদ শামীম ওসমান নগ্নভা‌বে অশ্রাব্য ভাষায় অাক্রমন ক‌রলেন। শামীম ওসমান নারায়নগ‌ঞ্জের এএস‌পি ব‌শির‌কে “কুত্তার বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা, বাস্টার্ড” ব‌লে গালি দেন। গা‌লির কথাগু‌লো কোট-অান‌কোট প্রথম অা‌লো‌তে ২৭ শে জুন ২০১৪ সা‌লে প্রকা‌শিত হয়। কিন্তু, শ‌ামীম ওসমান‌দের বিরু‌দ্ধে মামলা তে‌া দু‌রের কথা, ক্ষমা চাইবার অাওয়াজও ও‌ঠে না। ততখা‌নি কন্ঠ যে অার বাকী নেই চেতনার পাইকার‌দের। অাকন্ঠ যে ঢেকুর তুল‌ছে সু‌বিধাবাদ।
‌দে‌শে এখন তা‌রেক রহমা‌নের সে হাওয়া ভব‌নের বিল্ডিংটাই ভে‌ঙ্গে ফে‌লে‌ছেন ভবন‌টির মা‌লিক। ‌তেম‌নি ক্ষমতার কেন্দ্র পা‌ল্টে‌ছে। কিন্তু, রাজনী‌তির গুনগত প‌রিবর্তন কি হ‌য়ে‌ছে? অার রাজনী‌তি যে‌হেতু সমাজ‌কে নিয়ন্ত্রন ক‌রে, সে কার‌নে রাজ‌নৈ‌তিক এক চোখা নী‌তি, রাষ্ট্রীয়ভা‌বে চাটুকার লাল‌নের সংস্কৃ‌তি সমাজ‌কে ভীষনভা‌বে নে‌তিবাচক রু‌পে প্রভা‌বিত কর‌ছে।
অাট
রাজনী‌তি যখন অসুস্থ সংস্কৃ‌তি‌কে লালন ও মদদ দেয়, সমাজ তখন বিভক্ত অার ভারসাম্যহীন হ‌য়ে প‌ড়ে। ক্ষমতা যু‌গে যু‌গে তার টি‌কে থাকবার প্র‌য়োজ‌নে একদল বু‌দ্ধি-‌বেশ্যাকে বু‌দ্বিজীবির স্বীকৃ‌তি দেয়। ‌সেই সম‌য়ে সংস্কৃ‌তি অার সামা‌জিকায়‌নের ধারায়ও ভর ক‌রে অন্ধকার অার বিকৃ‌তির ধারা। দে‌শের রাজনী‌তি যতক্ষন পর্যন্ত সুস্থ ধারায় না ফির‌বে ততক্ষন অবধি সমা‌জের কোন ক্ষে‌ত্রে ভ্রা‌ন্তিকতা, বিকারগ্রস্থতার অবসান হ‌বে না।
তেম‌নি এখন অার দহন ছ‌বি‌টির লেখার শুরু‌তে অা‌লোচ্য গান‌টি সেন্সর বো‌র্ডে বাদ বা ঐ ‌অসভ্য অার দে‌শের চেতনা বি‌রোধী শব্দগু‌লি বাদ দি‌লেও কোন লাভ হ‌বে না। ‘ইয়‌াবা খে‌য়ে’ ‘দেয়ালে হিসু!’ দেওয়ার বীভৎস গান সেন্সর বোর্ড আটকেও দেয় তাতে লাভ কী! ক্ষতি যা হওয়ার হয়েই গেছে। গান‌টি লাখ লাখ ভিউয়া‌র্সের ভিউ বা‌গি‌য়ে এর উৎপাদক তার কাং‌খিত সু‌বিধা ই‌তিম‌ধ্যে বা‌গি‌য়ে নি‌য়ে‌ছে। যেম‌নি সু‌বিধার দাস‌ত্বে না‌কে খত দি‌য়ে অানুগ‌ত্যের খেলা দেখান, অামা‌দের সমা‌জের সব পেশার সব অাম‌লের সরকারদলীয় পোষা বু‌দ্ধিজীবি অার সু‌বিধাজী‌বি প্রানীরা। অাওয়ামীলীগ বা বিএন‌পি কোন অাম‌লেই যে এ দৃশ্য পাল্টায়‌নি, বরং সম‌য়ে সম‌য়ে তা ক্রম বিকৃ‌তির ধারায় এখন এতদুর পৌ‌ছেঁ‌ছে, তার স্বাক্ষী ই‌তিহাস।
নয়
ঐ গা‌নে (বাবা) শব্দটি পজেটিভলি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই বাবা শব্দের মানে হচ্ছে ইয়াবা । অার সে ইয়াবা বাংলা‌দে‌শের প্রজন্মঘা‌তি এক বা‌র্মিজ মারনাস্ত্র। ‌দে‌শে যখন বর্তমান সরকার এই মরণ নেশার বিরুদ্ধে অানুষ্টা‌নিক অভিযান প‌রিচালনা কর‌ছে, দে‌শের সংস্কৃ‌তির সব‌চে‌য়ে দর্শকবহুল ধারা চল‌চিত্রে তখন ইয়‌াবার নেশা‌কে প্রলুব্ধ ক‌রে গান প্রচার হ‌চ্ছে। এ‌টাই বোধহয় সমাজ কি ভা‌বে চল‌ছে তার এক‌টি উদাহরন।
দশ
এই অশ্লীল গানের গীতিকার, সুরকার, পরিচালক যার‌া ছিলেন তারা কোন প্রজা‌তির, একবার জান‌তে ই‌চ্ছে কর‌ছিল। প‌রে ভাবলাম, ধুর,বাদ দিই। এর‌চে‌য়ে অামা‌দের রাজনী‌তির, সমা‌জের জাতীয় চ‌রিত্রগু‌লো‌কে দেখ‌লেই তো হয়।
ছ‌বি‌টির যে নায়‌কের কন্ঠে চল‌চিত্র‌টি‌তে গান হি‌সেবে অর্ন্তভুক্ত হ‌য়ে‌ছে সে নায়ক জনাব সিয়াম বি‌লেত থে‌কে একজন পাশ করা একজন ব্যা‌রিষ্টার ব‌লে জানতাম। য‌দিও বি‌লে‌তে বা বাংলা‌দে‌শে ব্যা‌রিষ্টার যারা অা‌ছেন বি‌লেত থে‌কে পাশ করা, তার নব্বই ভাগই নন-‌প্রে‌ক্টি‌সিং বা পাব‌লিক এ‌ক্সে‌সের ক্ষমতাহ‌ীন। যা হোক সে সিয়াম‌কে কথা-বার্তায়, ইন্টার‌ভিউ‌তে বেশ সমাজ ও রাষ্ট্র স‌চেতন মানুষই ম‌নে হত। পরক্ষ‌নে ভা‌বি, ধুর, অামা‌দের দেশটার শুধু ক্ষমতায় যাবার বা নামাবার জন্য  লড়া বড় দ‌লের নেতারাও তো বক্ত‌ব্যে কত সুন্দর সুন্দর কথা ব‌লেন।
অন্ধ সম‌য়ে চশমার ফে‌রিওয়ালা মানুষগু‌লোই সম্ভবত অপরাধী। সু‌বিধার বোত‌লে নি‌জে‌দের ফিট কর‌তে না পারাটাই তা‌দের অপরাধ হ‌য়ে যায়। #
মুন‌জের অাহ‌মদ চৌধুরী, লন্ডন ২৩ শে অ‌ক্টোবর