- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কমলগঞ্জে বাড়ির আম গাছে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ

এইবেলা, কমলগঞ্জ, ২৯ অক্টোবর ::

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাঁঠালকান্দি গ্রামে বাড়ির আম গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তামান্না আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বড় ভাই রকিবুল ইসলাম বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত রোববার রাতে পুলিশ সৎ শ্বাশুড়িকে আটক করেছে। নিহত গৃহবধূ কাঁঠালকান্দি গ্রামের মো. আছদ আলীর ছেলে মো. আব্দুল হামিদ (২৪)-এর স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে স্বামী আব্দুল হামিদ পলাতক রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই বছর আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামের আশিক মিয়ার ৪র্থ মেয়ে তামান্না আক্তারের বিয়ে হয়েছিল কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাঁঠালকান্দি গ্রামের মো. আছদ আলীর ছেলে মো. আব্দুল হামিদ (২৪)-এর সাথে। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য বিরোধ চলছিল। গৃহবধূর বড় ভাই মামলার বাদি রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বাশুড়ি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করেন। তামান্নার সুখের কথা ভেবে মাঝে মাঝে কিছু টাকাও প্রদান করেছেন। কিছু দিন আগে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদানও করা হয়েছে। তার পরও স্বামী হামিদ ও সৎ শ্বাশুড়ি লুৎফা বেগম তামান্নার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

গত শনিবার (২৭ অক্টোবর) রাতে স্বামী ও সৎ শ্বাশুড়ির সাথে তামান্নার তর্কবিতর্ক হয়েছিল। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে স্বামী ও শ্বাশুড়ি মিলে গৃহবধূ তামান্নাকে মারধর করেছিল। রোববার সকালে বাড়ির দক্ষিণ দিকের একটি আম গাছের ডালে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তামান্নার লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী আব্দুল হামিদ পলাতক রয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত তামান্নার লাশ আম গাছের ডালে ঝুলে থাকলেও তার স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। গ্রামবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বিষয়টি কমলগঞ্জ থানাকে অবহিত করলে উপ-পরিদর্শক সুরুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাঁঠালকান্দি গ্রাম থেকে রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। গৃহবধূর বড় ভাই রকিবুল মনে করেন রাতে ঘরের মধ্যে হত্যা করেই পরে সকালে গাছের ডালে ঝুলিয়ে গঠনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।

এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবি করে রকিবুল স্বামী আব্দুল হামিদ ও সৎ শ্বাশুড়ির নাম উল্লেখ করে রোববার রাতেই কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে গ্রহনের পর পুলিশ সৎ শ্বাশুড়ি লুৎফা বেগমকে আটক করেছে।

নিহত গৃহবধূর বাবা আশিক মিয়া বলেন, তার মেয়ে খুব সহজ সরল প্রকৃতির ছিল। মেয়ে আত্মহত্যা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। আত্মহত্যার বিষয়টি সাজানো নাটক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা হলে ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক কেন ? রোববার দুপুর পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে জানানো হয়নি কেন ? জোর তদন্তক্রমে এ ঘটনার সঠিক রহস্য উদঘাটনের দাবিও জানান।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান লাশ উদ্ধার ও মামলার ২ নম্বর আসামী সৎ শ্বাশুড়িকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে এটি আত্মহত্যা না হত্যাকান্ড।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *