নভেম্বর ৫, ২০১৮
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » কুলাউড়ার তাজমহল ডায়াগনস্টিক থেকে রোগীকে ভূল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ

কুলাউড়ার তাজমহল ডায়াগনস্টিক থেকে রোগীকে ভূল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ

এইবলো, কুলাউড়া, ০৫ নভম্বের ::

কুলাউড়া শহরের উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়েউঠা তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগীকে ভূল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ২ নভেম্বর রাতে রোগীর স্বজনরা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ঘেরাও করলে কর্তৃপক্ষ তাদের গাফিলতির কথা স্বীকার করে।

এদিকে তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মাহফুজুর রহমান দাবী করছেন, তার স্বাক্ষরিত যে টেষ্ট রিপোর্ট রোগীকে প্রদান করা হয়েছে সে স্বাক্ষর তার নয়! এ নিয়ে শহরজুড়ে চলছে নানা কানা-ঘোষা। এছাড়াও সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকেও চলছে নানা মন্তব্য। তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এর আগেও এরকম ভূল রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে বলে ফেসবুকে কমেন্টস্ করছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর কুলাউড়ার পৌর শহরের শিবির এলাকার বাসিন্দা রুফিয়া বেগমের (৫০) শরীর খারাপ করলে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ নূরুল হকের চেম্বারে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডায়াবেটিস, আলট্টাসনোগ্রাফি ও হিমোগ্লোবিন জানার জন্য টেষ্টের করাতে রোগীর স্বজনকে বলেন ডাক্তার। রোগীর স্বজনরা পাশর্^বর্তী তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নিয়ে টেষ্ট সম্পন্ন করান। টেষ্টের রিপোর্টে রোগীর কোন রোগ ধরা পড়েনি। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার প্রাথমিক কিছু ওষুধ দিয়ে দেন।

রোগীর ছেলে জুবায়ের আহমদ রুহেল অভিযোগ করে জানান, ২ দিন পর (২৫ অক্টোবর) রাতে তার মায়ের শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি দেখা দিলে দ্রুত সিলেট ওসমানি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। তাৎক্ষনিক কর্তব্যরত চিকিৎসক আবারও ডায়াবেটিস, আলট্টাসনোগ্রাফি ও হিমোগ্লোবিন টেষ্ট করান। সিলেটের পপুলার মেডিকেল সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে ধরা পড়ে রুফিয়া বেগমের হিমোগ্লোবিন 9.6 GM/DL, যা কুলাউড়ার তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপোর্টে দেখানো হয় 12.48 GM/DL । তাজমহলের আলট্টাসনোগ্রাফিতে কোন সমস্যা ধরা না পড়লেও সিলেট পপুলারে করানো টেষ্টের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় রোগীর তলপেটে সিবিভিয়্যর ইনফেকশন রয়েছে। যেখানে মারাত্মক পাসফর্ম (পুঁজ) সৃষ্টি হয়েছে।

রোগীর স্বজন সুমন মিয়া, শহিদ আহমদ, রিয়াজ আহমদসহ উপস্থিত অর্ধশতাধিক লোকজন বলেন, তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মাহফুজুর রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন যে, প্রদানকৃত টেস্টে তিনি কোন স্বাক্ষর করেননি। তাহলে উনার শিলে এ স্বাক্ষরটি কে করলো। আমাদের সন্দেহ,  আলট্টাসনোগ্রাফি টেষ্টে যার শিল-স্বাক্ষর রয়েছে তিনিও মনে হয় বিষয়টি জানেননা। তাজমহলের কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুজি করে এখানে এসব ধান্ধা চালাচ্ছে। তাদের সব স্বীকারোক্তির ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজনে আমরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরনাপন্ন হব।

রিপোর্টে এমন বেশ-কম হওয়ার কারণ জানতে রোগীর স্বজনরা ২ নভেম্বর রাতে তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ঘেরাও করলে ম্যানেজার আব্দুস সত্তার, অন্যতম স্বত্ত্বাধীকারী আতিকুর রহমান আনু তাৎক্ষনিক তাদের ভূল স্বীকার করে রোগীর স্বজন ও উপস্থিত সকলের কাছে ক্ষমা চান।

এ বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার লক্ষে রোববার রাতে পৌর এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমাধান করে দিলেও সেই সমাধানে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন সন্তুষ্টজন কিছু পাননি বলে জানান রোগীর ছেলে জুবায়ের আহমদ রুহেলসহ অন্যান্য স্বজনরা।

এ বিষয়ে তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মাহফুজুর রহমান বলেন, হিমোগ্লোবিন টেষ্টের রিপোর্টে আমি কোন স্বাক্ষর করিনি। এমনকি আমি সে রিপোর্টটি দেখিওনি। সেন্টার থেকে আমার অজ্ঞাতে রোগীকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে তাজমহল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অন্যতম স্বত্ত্বাধীকারী আতিকুর রহমান আনু বলেন, আমাদের ভূল হয়ে গেছে। এখন থেকে আমরা সংশোধন হব।

এ প্রসঙ্গে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ নূরুল হক জানান, রিপোর্ট কোনটা ভুল সেটা এখনি বলা যাবেনা। তবে আমি একজন ডাক্তার হিসাবে বলতে পারি রিপোর্টের ফলাফল মোটামুটি কাছাকাছি।