নভেম্বর ৮, ২০১৮
Home » কৃষি » কুলাউড়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

কুলাউড়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৮ নভেম্বর :: 

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি ইবতেদায়ী মাদ্রসার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (০৭ নভেম্বর) কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার সুপার। তবে চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজান তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি সম্পূর্ন মিথ্যা বলে দাবী করেছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রফিনগর এলাকায় ‘মাসুক মিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় বাসিন্দা মাসুক মিয়া। সৌন্দর্য্যবর্ধন ও প্রতিষ্ঠানে ছায়া প্রদানের লক্ষে মাদ্রাসার চারপাশের সীমানায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।

কিন্তু এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতার সাথে চেয়ারম্যানের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে গত ৪ নভেম্বর চেয়ারম্যান ১০-১২ জন লোক নিয়ে রাস্তার কাজের অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসার পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের বেড়া তুলে প্রায় ৭০-৮০টি গাছ কেটে ঠেলাগাড়িতে তুলে ইউনিয়ন অফিসে নিয়ে যান। এব্যাপারে রফিনগর মাসুক মিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সুপার বদর উদ্দিন আহমদ তালুকদার লিখিত একটি অভিযোগ দেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। যার অনুলিপি স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে দিয়েছেন।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার (০৮ নভেম্বর) রফিনগর ‘মাসুক মিয়া ইবদোয়ী মাদ্রাসায়’ গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের বেড়া তুলা এবং পাশের ২৫-৩০টি আনুমানিক ২-৩ বছর বয়সী গাছ কাটা দেখা গেছে। এছাড়া মাদ্রাসার পূর্বপাশে ব্যক্তি মালিকানায় রোপিত রাস্তার পাশের গাছগুলো অক্ষত রয়েছে। শুধু মাদ্রাসা অংশের গাছগুলো কাটা হয়েছে।

এসময় স্থানীয় লোকজন জানান, রাস্তার অজুহাতে চেয়ারম্যান যখন গাছ কাটলেন, তখন রাস্তার পাশে আরও যে সব গাছ রয়েছে সেগুলোও কাটা উচিত ছিলো। ব্যক্তি মালিকানা গাছ থাকলো, আর মাদ্রাসার গাছ কাটা হলো, এটা মোটেও ঠিক হয়নি। গাছগুলো রাস্তা থেকে প্রায় দেড় ফুট বাহিরে ছিল, রাস্তার উন্নয়নের জন্য চেয়ারম্যান সাহেব গাছগুলো না কাটলেও পারতেন।

এব্যাপারে বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান জানান, আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ন মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। সরেজমিন দেখে নিউজ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল লাইছ জানান, বিষয়টি জেনেছি। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।