নভেম্বর ১১, ২০১৮
Home » জাতীয় » হাকালুকি হাওর তীরে বাঘ আতঙ্ক- ২টি মেছোবাঘকে পিটিয়ে হত্যা

হাকালুকি হাওর তীরে বাঘ আতঙ্ক- ২টি মেছোবাঘকে পিটিয়ে হত্যা

এইবেলা, কুলাউড়া, ১১ নভেম্বর ::

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি তীরের কুলাউড়া উপজেলা অংশে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ভাটেরা ও ভুকশিমইল ইউনিয়নে দু’টি মেছো বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে মেছো বাঘের অভয়াশ্রম খ্যাত হাকালুকি হাওরের মেছো বাঘ।

জানা যায়, ১০ অক্টোবর উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের মৃত আবদুল মতলিব চৌধুরীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আবদুর রহমান চৌধুরী তাদের পঞ্চায়েতি মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে মেছো বাঘের আক্রমণের শিকার হন। বাঘ তার মুখমন্ডলে আঘাত করে মুখের মাংসের একটি অংশ নিয়ে যায়। তাকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসারত অবস্থায় ৩১ অক্টোবর বুধবার তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে হাওর তীরবর্তী গোটা বরমচাল ইউনিয়নে বাঘ আতঙ্ক দেখা দেয়। ইউনিয়নের মহলাল, আকিলপুর, ইসলামাবাদ, দÿিণ ইসলামাবাদ, চন্দ্রখলা, উজানপাড়া, খাদিমনগর, সিংগুর, পশ্চিম সিংগুর ও বালিয়ারগড় এলাকার মানুষ সন্ধ্যা নামলেই বাড়িঘরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এসব গ্রামের মানুষ স্থানীয় হাটবাজারে গেলেও সন্ধ্যার আগেই বাঘ আতঙ্কে বাড়ি ঘরে ফেরেন।

এদিকে গত ০৭ নভেম্বর ভাটেরা ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামে স্থানীয় লোকজন একটি মেছোবাঘকে পিটিয়ে মারে। সর্বশেষ ১০ নভেম্বর রাতে ভুকশিমইল ইউনিয়নে বাদে ভুকশিমইল গ্রামে আরেকটি মেছো বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী।

সিএনআরএসের ক্রেল প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, হাওরের সোয়াম ফরেস্টে অনেক মেছোবাঘ ও বনবিড়াল রয়েছে। সেগুলো নিজেদের আত্মরক্ষার্থে মানুষকে ভয় কিংবা আছড় মারতে পারে। সেজন্য এসব বন্য প্রাণীকে নির্বিচারে মেরে ফেলা উচিত হবে না। তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। হুমকির মুখে পড়বে এসব বন্য প্রাণী বা জীববৈচিত্র্য।##