- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

মাছ লুট- হাকালুকি হাওরের ৩টি মৎস্য অভয়াশ্রমকে ইজারা প্রদানের সুপারিশ

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৯ নভেম্বর ::

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ লুটেরাদের তান্ডবলীলা চলছে। সেই সাথে অভয়াশ্রমগুলো ইজারাদানের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। গত জুন মাসে হাওরের ১৫টি অভয়াশ্রমের মধ্যে ৩টি অভয়াশ্রমকে ইজারা প্রদানের জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে।

জানা যায়, হাকালুকি হাওরে ২০১০ সালে ৫টি এবং ২০১১ সালে ১২ জলমহালকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াও বেসরকারি সংস্থা এই অভয়াশ্রম বাস্তবায়নের কাজ করে। ২০১১ সালে ১২টি জলমহালের মধ্যে শুরুতে ২টি জলমহালকে ইজারা দেয়া হয়। ফলে গত ৭-৮ বছর থেকে ১৫টি জলমহাল অভয়াশ্রম হিসেবে আছে। এসব অভয়াশ্রমের কারণে হাকালুকি হাওরের বিপন্ন প্রজাতির মাছের বংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে হাওরের মাছ লুটেরাদের লুলোপ দৃষ্টি পড়ে অভয়াশ্রমগুলোর প্রতি। ঔসব লুটেরাদের ইন্ধনে বড়লেখা উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গত ১৪ জুন এবং মৌলভীবাজার জেলা জলমহাল কমিটির সভায় গত ১৪ আগস্ট হাকালুকি হাওরের অভয়াশ্রম ঘোষিত বাইয়া বিল, গজুয়া বিল ও পলোভাঙা বিল অভয়াশ্রমকে ইজারা প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়।

জেলা জলমহাল কমিটির সভাপতি ও মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জলমহাল কমিটির সেই সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তের উপসংহারে উল্লেখ করেন, জলমহাল কমিটির উপদেষ্টা হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি ও সায়রা মহসিন এমপি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলার হাকালুকি হাওর, কাউয়াদীঘি হাওর এবং হাইল হাওরের মাছ খুবই সুস্বাদু। বিদেশে রফতানী হয়। জলমহাল কমিটি জলমহাল ইজারা প্রদানের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যেসব জলমহাল অভয়াশ্রম হিসেবে রয়েছে সেখানে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে কারেন্ট জালের মাধ্যমে ডিম উৎপাদন করা মাছ ধরা বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন। সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জলমহালগুলো ইজারা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতল সদস্যকে অনুরোধ করা হয়।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা যায়, এদিকে ইজারার খবর মাছ লুটেরারা জানার পর থেকে হাকালুকি হাওরের অভয়াশ্রমগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া উপজেলা অংশে কাংলি গোবরকুড়ি অভয়াশ্রমে উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের খারপাড়া গ্রামের কয়েছ মিয়া ও সিংহনাদ গ্রামের কালামের নেতৃত্বে দু’টি গ্রুপ মাছ লুট করে থাকে। এছাড়া বড়লেখা উপজেলা অংশে বাইয়া বিল ও গজুয়া বিল অভয়াশ্রমে বড়লেখা উপজেলার হাসান আলী বেবুল ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া বাদেদেউলি গ্রামের আছমান মিয়ার নেতৃত্বে দু’টি গ্রুপ রাতের আধারে বেড় জাল দিয়ে মাছ লুট করে। ভোরের আলো আলোকিত হওয়ার আগেই নৌকা রেখে চলে যায়।

এব্যাপারে অভিযুক্ত হাসান আলী বেবুল ও আছমান মিয়া পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেন। হাসান আলী বেবুল জানান, দুটি অভয়াশ্রম ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং তারা ইজারা প্রাপ্ত হন। ঘিলাছড়ার আছমান আলী গ্রুপ তার পাহারাদারকে মারধর করে জোরপূর্বক মাছ লুট করছে। আছমান মিয়া জানান, অভয়াশ্রম ইজারা হয়নি। মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব গেছে। সেই সুযোগে হাসান আলী বেবুলের লোকজন মাছ লুট করছে।

সিএনআরএস ক্রেল প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. তোহিদুর রহমান জানান, জানতে পারলাম ৮ বছর আগে বাস্তাবায়িত হাকালুকি হাওরের ৩টি অভয়াশ্রমকে ইজারা প্রদানের জন্য উপজেলা ও জেলা জলমহাল কমিটি সুপারিশ করেছে। যা মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য হুমকি। জলমহাল কমিটি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রমের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব না করে অভয়াশ্রমগুলোকে ইজারা প্রদানের সুপারিশ করছে। এটাকে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলবো।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. সুলতান মাহমুদ জানান, হাকালুকি হাওরের অভয়াশ্রমের মাছ লুটের খবর পেয়ে ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দিনব্যাপি অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, কোনভাবেই অভয়াশ্রমগুলোকে ইজারা প্রদান করা যাবে না। এগুলোকে সুরক্ষা করতে হবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনে অভয়াশ্রমের সংখ্যা বাড়াতে হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *