নভেম্বর ২৯, ২০১৮
Home » জাতীয় » দিরাইয়ে বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবিকে সংবর্ধনা

দিরাইয়ে বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবিকে সংবর্ধনা

এইবেলা, দিরাই, ২৯ নভেম্বর ::

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবিকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইউএনও শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার। অন্যদের মধ্যে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছবি চৌধুরী, ভাইস চেয়রম্যান গোলাপ মিয়া, উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ, প্রেসক্লাব সভাপতি হাবিবুর রহমান তালুকদার, অমরচান দাস, ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, এহচান চৌধুরী, রেজেয়ান আহমদ, আবদুল কুদ্দুস, শিবলী আহমেদ বেগ, রতন কুমার তালুকদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, কোষাধ্যক্ষ প্রশান্ত সাগর দাসসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবির হাতে নগদ ৫ হাজার ও ১২ হাজার টাকার চেক তুলে দেন ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান। গত ১২ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় আলিফজান বিবিকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব চণ্ডিপুর গ্রামে স্বাধীনতার ৪০ বছর পর সন্ধান মেলে বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবির। ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর খুঁজে পাওয়া আলিফজান বিবিকে নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর আলিফজান বিবির বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন তৎকালীন দিরাই পৌরসভার মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বস্ব হারানো অলিফজান বিবির দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা শোনেন মেয়র এবং তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর নিজস্ব তহবিল থেকে স্থায়ী নিবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিলে মাথার গোঁজার ঠাঁই হয় আলিফজান বিবির।

বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবি ৭১-এ পাকহানাদার কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হন। সর্বস্ব হারিয়ে নিজেকে অনেকটা আড়াল করে রাখেন। কোনোদিন কারো সামনে মুখ খোলেননি। উপজেলার পূর্ব চণ্ডিপুর গ্রামের খাতুন পাড়ায় বাবার ভিটায় জরাজীর্ণ এক ঝুপড়িঘরে বাস করতেন বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবি। তার বাবা আজিম উল্ল্যা স্বাধীনতার অনক আগেই মারা যান।

স্বাধীনতার পর ঘটনাটি গোপন রেখে উপজেলার করিমপুর গ্রামে তাকে বিয়ে দেন তার মা। ঘটনাটি জানার পর স্বামীর ঘরেও জায়গা হয়নি আলিফজান বিবির। এরপর থেকে গ্রামে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন বীরাঙ্গনা নারী।

২০১২ সালের দিকে সাবেক মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুলের সহযোগিতায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবি আবেদন করেন। উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে গত ১২ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় আলিফজান বিবিকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ইউএনও শরীফুল ইসলাম বলেন, আলিফজান বিবিকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো, এই বীরাঙ্গনারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আলিফজান বিবির মতো অনেক মহীয়সী নারী অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন। তাদের আমি আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

বীরাঙ্গনা আলিফজান বিবিকে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অমরচাদ দাস ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটনকে ফুলের শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।#