নভেম্বর ৩০, ২০১৮
Home » জাতীয় » সেই সুলতান এই সুলতান -জয় বাংলা থেকে জয় ধানের শীষ

সেই সুলতান এই সুলতান -জয় বাংলা থেকে জয় ধানের শীষ

আজিজুল ইসলাম,৩০ নভেম্বর ::

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি, সাবেক এমপি এবং কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একজন আপাদমস্তক আওয়ামী লীগের সুলতান মো. মনসুর আজ যেন বিপরীতমুখী মানুষ। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতা। গায়ে মুজিব কোট। মুখে জয়বাংলা, জয় ধানের শীষ। ধানের শীষে যিনি গড়তে চান বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সুলতান মো. মনসুর। মৌলভীবাজার -০২ আসন কুলাউড়ায় ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ক্ষিপ্ত হন। ওই নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম। দলীয় মনোনয়নের বিরোধীতা করে সুলতান মো. মনসুর ও জাতীয় পার্টির মনোনীত নওয়াব আলী আব্বাছ খান স্থানীয়ভাবে ‘এক ভোটে দুই এমপি’ এই স্লোগান নিয়ে মাঠে নামে। নৌকা মার্কা এবং নৌকা মার্কার প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করেন। তৎকালীন দলীয় প্রার্থী আতাউর রহমান শামীম ও কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুকে মারপিট করেন। সুলতান-আব্বাছ মিলে নৌকাকে নির্বাচনী মাঠ ছাড়া করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নৌকা তাড়িয়ে লাঙ্গলের বিজয় নিশ্চিত করে ঢাকা ফেরেন। সেই যে গেলেন এমনভাবে গেলেন ফিরলেন ঠিক ১০ বছর পর। ফেরার পর স্বাধীনতার স্বপক্ষের জনমনে প্রশ্ন-এই কি সেই সুলতান? গায়ে মুজিবকোট পরা সুলতান যখন ট্রেন থেকে নামলেন তখন দু’হাতে ধানের শীষ। নতুন নেতাকর্মী পেয়ে আবেগে আপ্লুত সুলতান বলেন, এই বাংলাদেশে এমন কোন শক্তি নাই যে আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে। বক্তব্যের শেষে বললেন, জয় বাংলা। অবশ্য সুলতান মো. মনসুর আগে থেকেই গণমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেই নির্বাচন করবেন। অবশ্য এর সাথে তিনি এখন ‘জয় ধানের শীষ’ বলেছেন।

২৬ নভেম্বর ১০ বছর পর কুলাউড়া এসে ২৭ নভেম্বর বিএনপি জামায়াতের সাথে বৈঠক করলেন। সেই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল বারি উপস্থিত ছিলেন। ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন জমা শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির সাথে নির্বাচন প্রসঙ্গে সুলতান মো. মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে যত ভোটার আছে এবং সাধারণ নাগরিক আছে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের।

এবারও নৌকার ভরাডুবি ঘঠাতে সুলতানের সাথে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের শরিক জাপা কাজি জাফর নেতা নওয়াব আলী আব্বাছ খান আবার জোট বেঁধেছেন। বিএনপির আরেক মনোনয়ন বঞ্চিত অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা রয়েছেন সেই জোটে। দল থেকে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন এমপি। সুলতান মো.মনসুরের হাত ধরে তিনি কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছিলেন। মুলত সেই ঋণ শোধ করতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। পরবর্তীতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে তিনি সুলতান মো. মনসুরের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন বলে তাঁরই ঘনিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।

এদিকে সুলতান মো. মনসুরের এমন বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগ তথা স্বাধীনতার স্বপক্ষের বিভিন্ন দল মতের মানুষ ও সাধারণ ভোটারের কাছে। ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে। সবার একটাই বক্তব্য তখন- একভোটে দুই এমপি-বলে ভোটরদের ধোকা দিয়েছেন। চা বাগানে গিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা নৌকা প্রতিক দেননি, লাঙল দিয়েছেন। এবার চা বাগানে গিয়ে আবার বলুন শেখ হাসিনা নৌকা দেননি, ধানের শীষ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন- কিভাবে ধানের শীষে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে? কিভাবে তিনি ৭২ সংবিধান বাস্তবায়ন করতে চান?

২০০৮ সালে সুলতানের বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম বলেন, তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় জাতির জনকের কন্যাকে মাইনাস করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। তিনি শেখ হাসিনা মানেন না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে যুদ্ধাপরাধী ও আগুন সন্ত্রাসীদের সাথে ঐক্য করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কুলাউড়ার মানুষ এর দাতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, সে কোন সময় স্বাধীনতার স্বপক্ষে ছিলো না। স্বাধীনতার স্বপক্ষের সত্যিকারের মানুষ কখনও বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে পারে না।#